“আগামীকাল জিমে। নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করল রামোন। ব্লমসবেরি’তে এক হাঙ্গেরীয় শরণার্থী চালিত মার্শাল আর্ট স্টুডিওতে যায় রামোন। সপ্তাহে কয়েকবার দুই ঘন্টার কঠোর অভিযানের জন্যে ফিট হয়ে যাবে শরীর।
ঘোড়ওয়ারের উপযুক্ত পোশাক পরে নিল রামোন। জানে লাল গোলাপ নিজেও ঘোড়া চালায় মেয়েটার পৃথিবীতে ঘোড়াদের অস্তিত্ব বেশ বড় একটা অংশ জুড়ে। তাই রামোনের জুতা জোড়া দেখে নিশ্চয়ই আশ্বস্ত হবে তার আভিজাতত নিয়ে।
আবারো ঘড়ি দেখে নিল; নাহ, পুরোপুরি সময়মতোই তৈরি হয়েছে।
ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে রাস্তায় নেমে এলো রামোন। বিকেলের দিকে বৃষ্টির হুমকি দেয়া মেঘগুলো এখন উধাও হয়ে গেছে। চমৎকার এক গ্রীষ্মের সন্ধ্যা চারপাশে। তো প্রকৃতিও তাহলে তাকে সাহায্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে।
সৈন্যদের ব্যারাকের পেছনে ঘোড়ার আস্তাবল। তাকে দেখে চিনতে পারল ম্যানেজার। রেজিস্টারে সাইন করতে করতেই চোখ বোলালো নামের সারিতে। যাক ভাগ্যদেবী আজ তার সাথেই আছে। বিশ মিনিট আগে প্রবেশ করেছে লাল গোলাপ। সাইন তো তাই বলছে।
স্টলে গিয়ে দেখা গেল তার ঘোড়ায় জিন পরিয়ে রেখেছে সহিস। নিজের বাজেট থেকে মূল্যবান পাঁচশ পাউন্ড এই বাচ্চা ঘোটার জন্য ব্যয় করেছে রামোন। তারপর সবকিছু চেক্ করে গায়ে হাত বুলিয়ে নরম স্বরে ঘোড়ার সাথে কথা বলে নিয়ে সহিসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিনের উপর চড়ে বসল।
রোটেন রো’তে প্রায় পঞ্চাশ বা তার চেয়েও বেশি ঘোড়সওয়ার চলে এসেছে এরই মাঝে। ওক গাছের নিচে ঘোটকীটাকে নিয়ে এলো রামোন। সামনে পিছনে চলে গেল অন্যরা। কিন্তু মেয়েটার দেখা নেই।
খানিকটা ওয়ার্ম-আপের পর বুড়ো আঙুল দিয়ে গায়ে তো দিতেই দুলকি চালে চলতে শুরু করল ঘোটকী। দুয়ে মিলে ভালই জুটি বানিয়েছে। পাশ দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকজন নারীই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো রামোনের দিকে।
সারির শেষ মাথায় পার্ক লেনে, রামোন ঘুরে গেল আর খানিকটা জোরে ছোটাল ঘোড়া, টগবগ করে ঘোড়া ছোটানো এখানে নিষিদ্ধ। শখানেক গজ সামনে থেকে তার দিকেই এগিয়ে আসছে চারজনের এক দল। দুটো জোড়া। বেশ ভালোভাবেই এসেছে প্রত্যেকে কিন্তু তারপরেও সবার মাঝে মেয়েটাকে দেখাচ্ছে চড়ুই এর ঝাঁকের মাঝে রঙিন পাখির মত।
রাইডিং হ্যাটের নিচ দিয়ে বের হয়ে থাকা চুলগুলো দুলছে পাখির পাখার মতো; মাখনের মতো সূর্যালোকে চকচক করছে। হাসতেই দেখা গেল অসম্ভব সাদা দাঁত। বাতাস আর পরিশ্রমে গায়ের রং দেখাচ্ছে সজীব, প্রাণবন্ত।
মেয়েটার পাশে ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা ছেলেটাকেও চিনতে পারল রামোন। গত দুই সপ্তাহ ধরে লাল গোলাপের পিছু নেয়ার সময় বেশির ভাগ জায়গায় দুজনকে একসাথে দেখেছে। রেকর্ড থেকে ছেলেটা সম্পর্কে জেনেও নিয়েছে। অত্যন্ত ধনী পরিবার থেকে আসা ছেলেটাকে লন্ডনে নাম দেয়া হয়েছে “ডেব’স ডিলাইট” কিংবা “হুররে হেনরী নামে; প্লেবয় সুলভ স্বভাবের জন্য। চারদিন আগে রোলিং স্টোনের কনর্সাটেও মেয়েটার সাথে ছিল। রামোন খেয়াল করে দেখেছে ছেলেটার সাথে মেয়েটার সম্পর্ক সেন্ট বানার্ড বাচ্চা কুকুরের মতো। আর নিজের এম জি তে করে মেয়েটাকে এক পার্টি থেকে অন্য পার্টিতে পৌঁছে দেয়া ছাড়া দু’জনকে আলাদা একাকী কোথাও দেখেওনি রামোন। খানিকটা অবাক লাগলেও ১৯৬৯-এর এই উদ্দাম সময়েও একে অন্যের সাথে কখনোই বিছানায় যায়নি তারা, এ ব্যাপারেও সে প্রায় নিশ্চিতই বলা চলে।
যদিও জানে মেয়েটা কোনো বোকা-সোকা কুমারী নয়। হাইভেন্ডে থাকাকালীন গত তিন বছরে অন্তত তিনটা সম্পর্কে জড়িয়েছে এই মেয়ে, রিপোর্ট তো তাই বলে।
দুজনের দূরত্ব কমে আসতেই ঘোড়ার দিকে মনোযোগ দিল রামোন। ঝুঁকে আস্তে আস্তে হাত বুলাতে লাগল জম্ভটার গলাতে। “এসে গেছি, ডালিং।” চোখের কোণা দিয়ে মেয়েটাকে দেখতে দেখতে স্প্যানিশ ভাষায় ঘোড়ার সাথে কথা বলতে লাগল।
একে অন্যকে প্রায় পার হয়ে যাচ্ছে এমন সময় নড়ে উঠল মেয়েটার চিবুক। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। কিন্তু না দেখার ভান করল রামোন।
“রামোন!” উঁচু গলায় চিৎকার করে যেন প্রার্থনা জানাল বেলা। “দাঁড়াও।”
ঘোটকীকে দেখে নিয়ে খানিকটা বিরক্তি নিয়ে পেছনে তাকাল মাচাদো। ঘোড়া ছুটিয়ে তার দিকেই এগিয়ে আসছে মিস কোর্টনি। মুখের ভাব একই রকম রেখে শীতল ভঙ্গি করে দাঁড়িয়ে রইল রামোন।
ও’র পাশে এসে ঘোড়াটাকে ধীর করে বলে উঠল, “আমাকে চিনতে পারোনি? ইসাবেলা কোর্টনি। তুমি তো আমার ত্রাণকর্তা!” অদ্ভুত অনিশ্চয়তা নিয়ে হাসছে মেয়েটা। পুরুষেরা সবসময় তাকে মনে রাখে, যতই অতীতে হোক না কেন সেই সাক্ষাৎ এমন ব্যবহার পেয়েই অভ্যস্ত সে। অবশেষে মৃদু স্বরে যোগ করল, “পার্কের কনর্সাটে।”
“আহ!” সহৃদয় হল রামোন। মোটর সাইকেল মাসকট। মাফ করো। তোমার পোশাক সে সময় বেশ আলাদা ছিল।”
“ধন্যবাদ জানাব সেটুকু সময়ও দাওনি আমাকে।” অনুযোগ করল বেলা। ইচ্ছে হলো জোরে হেসে উঠে যে, যাক অবশেষে তাকে চিনতে পেরেছে ছেলেটা।
“কোনো ধন্যবাদের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এছাড়া আমার যতদূর মনে পড়ে অন্য একটা জরুরি কাজও ছিল তোমার।”
“তুমি কি একা?” তাড়াতাড়ি বিষয়টাকে পরিবর্তন করে বেলা, জানালো “আমাদের সাথে জয়েন করো। আমার বন্ধুদের সাথে পরিচিত হবে এসো।”
