“ভ্যান উইক কালকেই চিজোরো’তে পৌঁছে যাবেন।” মনে করিয়ে দিলেন শাসা।
“জানি।” বড় করে শ্বাস টানলেন এলসা, “কিছুতেই যেতে মন টানছে না; তারপরেও উনার সাথে দেখা করতে হবে।”
***
স্যার ক্লারেন্স ভ্যান উইক একজন খাঁটি আফ্রিকান। ব্রিটিশ রাজত্বের অংশ থাকাকালীন তাঁর চিফ জাস্টিস বাবা পেয়েছিলেন এই টাইটেল আর উত্তরাধিকার সূত্রে তা বর্তেছে ভ্যান উইকের উপর।
স্যার ক্লারেন্স উটন আর স্যান্ডহার্সের ছাত্র’ও ছিলেন। ইয়ান স্মিথ সরকারের মন্ত্রী হলেন স্যার ক্লারেন্স।
চিজোরা’তে যাবার পথে সালিসব্যুরো থেমে এই মিটিং-এর আয়োজন করেছেন শাসা আর গ্যারি। আলোচনা ছাড়াও শিকারি স্যার ক্লারেন্সের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থাও করে রাখা হয়েছে।
রোডেশিয়ান এয়ারফোর্স হেলিকপ্টারে চড়ে চিজোরা’তে পৌঁছেছিলেন স্যার ক্লারেন্স। সাথে আরো দু’জন সহকারী আর এক জোড়া বডিগার্ড। শন’কে আগে থেকেই খবর দিয়ে রাখার সালিসবুয়ো থেকে বাড়তি স্টাফ, রসদ আর ইকুপমেন্ট নিয়ে আসা কোনো সমস্যাই হলো না।
মাসালা গাছের নিচে বড় কনফারেন্স টেবিল পেতে দিয়ে স্যার ক্লারেন্স আর তার দলের জন্যে বাড়তি চেয়ারও আনা হলো। বাবার পার্সোনাল অ্যাসিসট্যনান্ট হিসেবে যোগ দিল ইসাবেলা।
ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার স্যার ক্লারেন্স শাসা কিংবা শনের চেয়েও লম্বা। তার রাজনৈতিক আর আর্থিক মেধার পাশাপাশি নারী প্রীতিও সকলেরই জানা।
মাসালা গাছের নিচে বসে দেশের সম্পদ, উৎপাদন, কমিশন আর হ্যান্ডলিং ফিস্ নিয়ে আলোচনা করলেন সকলে।
রোডেশিয়া’র খনিজাত দ্রব্য, তামাক, আর ক্রোমের মতো দুর্লভ পদার্থ বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে দেবার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে গ্যারি কোর্টনি আর কোর্টনি এন্টারপ্রাইজেস। মূলত রোডেশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এক্ষেত্রে একেবারেই কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। এক্ষেত্রে আরো সাহায্য করছে ডারবান আর কেপ টাউন পর্যন্ত চলে যাওয়া রেলপথ।
এবারে এর সাথে যুক্ত হলো আরো নতুন সব উচ্চাকাক্ষা। পিগনাটেলি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কাজকর্ম খুব সাবধানে পরীক্ষা করার পর এই এন্টি সাংশনস অ্যাকটিভিটিজে যোগ দেবার জন্য এলসা পিগনাটেলি’কে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাক্যের পর পিগটেলি ইন্ডাস্ট্রিজ হলো ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম টোবাকো কোম্পানি। এছাড়াও টারান্টো আর কানাডাতেও খনি আর স্টেইনলেস স্টিল মিল আছে।
ফলে রোডেশিয়া’র পণ্যের জন্য এ বাজার অত্যন্ত লাভজনক হলেও দর কষাকষি থামছে না।
অত্যন্ত সভ্য আর বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেও কেউই নিজেদের এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নয়। বিস্মিত হয়ে গেল বেলা।
সুন্দরী এলসা পিগনাটেলি ভালভাবেই জানেন কিভাবে নিজের সৌন্দর্য কাজে লাগাতে হয়।
স্যার ক্লারেন্স অত্যন্ত ভদ্র হলেও প্রতিটি পাই পয়সার হিসাব করছেন নিখুঁত তালে।
অন্যদিকে টেবিলে নিজের জায়গায় চুপচাপ বসে দরকষাকষির পুরো দায়িত্ব গ্যারির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন শাসা। যাই হোক মাঝে মাঝে আবার মন্তব্য করে সাহায্য করছেন খেই হারিয়ে ফেলা আলোচনাকে পথভ্রষ্ট হবার হাত থেকে বাঁচাতে।
আলোচনাকৃত অর্থের পরিণাম শুনে বেলা’র দম বন্ধ হবার যোগাড়। তিন বিলিয়ন ওভারস থেকে আড়াই পারসেন্ট শেয়ার পাবে কোর্টনি এন্টারপ্রাইজ। কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়াই আগামী বারো মাসে ভরে উঠবে তাদের ডালা। শ্রদ্ধা মেশানো দৃষ্টি নিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকাল বেলা।
আলোচনা শেষে লাঞ্চটাও হলো বেশ জমকালো আর অত্যন্ত উপাদেয়। অ্যালোয়েট হেলিকপ্টারে করে স্যার ক্লারেন্স উকৃষ্ট রোডেশিয়ান বীফও নিয়ে এসেছেন। পুরো সকাল জুড়েই বার-বি-কিউ নিয়ে ব্যস্ত ছিল শন আর তার শেফ।
খাবার টেবিলেও ইসাবেলার প্রতি নিজের আকর্ষণ নিয়ে কোনোই রাখ ঢাক করলেন না স্যার ক্লারেন্স। অন্যদিকে এমন একজন মানুষের মনোযোগ পেয়ে ইসাবেলাও খুশি। পছন্দ করে ফেলল স্যার ক্লায়েন্সের ঢেউ খেলানো ঘন কালো চুল, চোখ আর বুদ্ধিমানের মতো রসিকতা করার ক্ষমতা।
চোখ নামিয়ে স্যার ক্লারেন্সের পায়ের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল বেলা। মাথা খারাপের মতো হলেও মনের মাঝে উঁকি দিয়ে গেল নানা সম্ভাবনা।
প্রায় সাথে সাথে মনে পড়ে গেল ন্যানীর সতর্কবাণী।
“কোর্টনিদের রক্ত বেজায় গরম। তোমাকে তাই সাবধানে থাকতে হবে মিসি আর ভুলে যেও না যে তুমি একজন নারী।”
বেলা জানে যে স্যার ক্লারেন্স বিবাহিত; কিন্তু বহুদিন হয়ে গেল, সে নিজেও কোনো পুরুষের বুকে মাথা রেখে শোয়নি। সুতরাং দেখা যাক!
লাঞ্চ শেষ করে আবারো কনফারেন্স টেবিলে ফিরে এলেন সবাই। আর বেলা’র কাছে মনে হল ডম পেরিগনন তাদেরকে মাতাল করে দেবার পরিবর্তে আরো বেশি করে চাঙ্গা করে দিয়েছে।
ঠিক চারটায় ঘড়ির দিকে তাকাল গ্যারি। “সবকিছু তাহলে আগামীকাল সকালের জন্য মুলতবি করা যাক।”
গোলগলা ঘুঘু মারার জন্য সকলে মিলে ট্রাকে করে পুলের কাছে চলে এলো।
সামনের ট্রাকে ইসাবেলার পাশে উঠে বসলেন স্যার ক্লারেন্স। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে লাফ দিয়ে নেমে দ্বিতীয় ট্রাকে গ্যারি’র পাশে গিয়ে উঠে বসল বেলা। স্যার ক্ল্যারেন্স’কে নিয়ে না হয় একটু খেলা করেই দেখা যাক না কী হয়! অন্যদিকে উচ্ছ্বাস ঝড়ে পড়ছে, গ্যারির কণ্ঠে। বোনের কাঁধের উপর এক হাত তুলে দিয়ে বলে উঠল,
