ধন্যবাদ শন্। তুমি সবসময় আমার জন্য ভালো ভালো শিকার নিয়ে আসো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি নয়। আজ মাত্র সাফারির প্রথম দিন।”
“লাঞ্চের পরে নার্ভাস ঠিক রাখার জন্য খানিক ঘুমিয়ে নিন। আমরা তিনটায় বেরোব।”
রুপার ট্রে’তে করে এলসা’র মিনারেল ওয়াটার এনে দিল আইজ্যাক বরফ দিয়ে পিমস পান করল অন্য সকলে। টোস্ট করল শন।
“গাছের নিচে মরে পড়ে থাকা চিতাবাঘের উদ্দেশ্যে।”
কিন্তু এর সাথে সাথেই ইয়াং কোর্টনিদেরকে ভুলে অন্তরঙ্গভাবে আলাপ শুরু করে দিলেন শাসা আর এলসা। বড় ভাইয়ের হাত ধরে আড়িপাত সুযোগ নষ্ট করে দিয়ে বাইরে বের করে আনল গ্যারি।
“তুমি কেমন আছো, শন?”
“ভালই তো।” ভাইয়ের উদ্বেগ দেখে অবাক হয়ে গেল শন্।
“কিন্তু তোমাকে তো ভাল দেখাচ্ছে না।” মাথা নাড়ল গ্যারি, “বোঝাই যাচ্ছে যে তুমি ম্যালেরিয়ায় ভুগছ আর পাজরের ব্যথা।”
“এর মানে কী?” বিরক্ত হল শন।
“আজ সন্ধ্যায় সিগনোরার সাথে তুমি শিকারে যেতে পারবে না।”
“কে বলেছে পারব না। টোপাতো আমি পেতেছি আর বাঘটা-”
“সন্ধ্যাবেলা এক বোতল ক্লোরো কুইন নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকবে। কেউ কিছু জানতে চাইলে বলবে একশ চার ডিগ্রি জ্বর।”
“লিসেন, বিগ শট, তুমি আমার হাতিটাকে ভাগিয়েছে। এবারে চিতাবাঘটাও শেষ করে দিও না।”
“বাবা যাবেন ক্লায়েন্টের সাথে।” সাফ জানিয়ে দিল গ্যারি। “তুমি ক্যাম্পেই থাকবে।”
“বাবা?” দীর্ঘ এক মুহূর্ত ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল শন্। “দুজনের খুব জমে গেছে, অ্যাঁ?”
‘তুমি সব সময় এভাবে কথা বলো কেন?” ঠাণ্ডা স্বরে জানতে চাইল গ্যারি, “মহিলার সাথে আমরা ব্যবসা করতে চাই আর বাবা চেষ্টা করছেন এক ধরনের বিশ্বস্ততার সম্পর্ক গড়ে তুলতে, ব্যস এইটুকুই।”
“আর যখন এই দুই ভূত মিলে চিতা বাঘের দফা-রফা করবে তখন শ গিয়ে তা পরিষ্কার করবে, তাই না?
“তুমিই তো বলেছ যে পিগটেলি কখনো মিস করেন না। আর বাবাও তো তোমার মতই দক্ষ শিকারি। আর এছাড়া তুমি নিশ্চয়ই আহত চিতাবাঘ চাও না, তাই না নির্ভীক শন কোর্টনি?”
খানিক পরে উত্তর দিল শন, “ঠিক আছে। আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি” হেসে ফেলে বলল, “না গ্যারি, আমি কোন কিছুকেই ভয় পাই না; মনে রেখো কথাটা।”
***
ক্যাম্প বেডের উপর বই নিয়ে শুয়ে আছেন শাসা। একমাত্র সাফারি ক্যাম্পে এলেই আনন্দের জন্য কোনো কিছু পড়ার সুযোগ পান; নয়ত সারাক্ষণ তো ব্যবসা কিংবা রাজনৈতিক লেখাই পড়তে হয়। এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো পড়ছেন অ্যালান মুরহেডের লেখা ব্লু নাইল; তারপরেও গোগ্রাসে গিলছেন এর প্রতিটি শব্দ। এমন সময় তাঁবুর মাঝে উঁকি দিল গ্যারি।
“আমাদের ছোট্ট একটা সমস্যা হয়েছে বাবা; শনের ম্যালেরিয়া হয়েছে।”
হন্তদন্ত হয়ে বসে বই ফেলে দিলেন শাসা। “খুব খারাপ নাকি?” জানে শন্ কখনোই রোগ-বালাইয়ের ধার ধারে না। অথচ এদিকে আবার জাম্বোজি’তে কী নাকি একটা ‘পি ফালসিপারাম: দেখা দিয়েছে। “আমি এখনি ওর কাছে যাচ্ছি।”
“ডোন্ট ওরি বাবা; ক্লোরোকুইন খেয়ে ও এরই মাঝে শুয়ে পড়েছে। তাই ও’কে আর ডিস্টার্ব করো না।”
“স্বস্তি পেলেন শাসা। অন্যদিকে হালকা চালে গ্যারি জানাল, “কিন্তু আজ সন্ধ্যায় সিগানোরা পিগনাটেলি’র সাথেও তো কাউকে না কাউকে যেতে হবে। আমার চেয়ে তোমার অভিজ্ঞতাই বেশি।”
***
বন্য আবলুস কাঠের নিচু একটা ডালের উপর বানানো হয়েছে হাইড-আউট। মাটি থেকে মাত্র দশ ফুট উপরে। শন্ এটাকে উঁচুতে বানিয়েছে বাঘের হাত থেকে বাঁচার জন্য নয়; বরঞ্চ টোপ আটকানো গাছটাকেও স্পষ্ট দেখা যাবে।
বেশ যত্ন করেই টোপ আটকেছে শন। সব দেখে সন্তুষ্ট হয়ে মাথা নাড়লেন-শাসা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্ধ্যার পূর্বমুখী বাতাস ভাসিয়ে নিয়ে যাবে শিকারির গায়ের গন্ধ। আর চারপাশে ঝোঁপ-ঝাড় থাকতে চিতা বাঘটাও নিশ্চিন্তে চলে আসবে।
টোপ আটকানো গাছটা থেকে এই হাইড-আউটের দূরত্ব কাটায় কাটায় পয়ষট্টি গজ। টেপ দিয়ে মাপ দিয়ে দেখেছে শন। এর আগে মেইন-ক্যাম্পের বাইরে পয়ষট্টি গজ দূরের টার্গেট ফুটো করে দিয়েছিলেন এলসা।
হাইড আউটটা খুড়ে ছাওয়া আরামদায়ক ছোট্ট একটা ট্রি-হাউজ। ভেতরে আছে দুটো ক্যাম্প চেয়ার। মাতা আর সামবুরু ট্র্যাকার ব্লাঙ্কেট আর স্লিপিং ব্যাগসহ স্ন্যাকস বক্স আর গরম কফি ভর্তি থার্সোস রেখে গেছে।
সূর্যোদয় পর্যন্ত থাকতে হতে পারে; তাই সঙ্গে অত্যন্ত শক্তিশালী বারো ভোল্টের গাড়ির ব্যাটারীর ফ্লাশলাইটও আছে। ট্র্যাকারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য আছে টু-ওয়ে রেডিও।
হাইড আউটের গোছগাছ শেষ করে মই বেয়ে নিচে নেমে এলো মাতাতু; তারপর টয়োটার পাশে দাঁড়িয়ে শাসা’র সাথে শেষ মিনিটের কথাবার্তা সেরে নিল।
“আমার মনে হয় অন্ধকার নামার আগেই চলে আসবে চিতাবাঘ।” সোয়াহিলি ভাষায় বলে উঠল মাতাতু; “ক্ষুধা থাকায় লোভ সামলাতে পারবে না।”
“যদি না আসে তাহলে আলো না ফোঁটা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। রেডিওতে না ডাকা পর্যন্ত এখানে আসবে না। ঠিক আছে? এবার যাও, মাতাতু।
“ভালো থাকবেন, বাআনা। আশা করি মেমসাহিব চমৎকার ভাবেই মেরে ফেললেন। এই শয়তানটা আমার লিভার খাক চাই না।”
শিকারি দু’জন হাইড আউটে ঢুকে না পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল ট্র্যাকারেরা; তারপর টয়েটো নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে গেল। দুই মাইল দূরত্বে পার্ক করে অপেক্ষা করবে গানফায়ার কিংবা রেডিও কলের জন্য।
