“কাম অন বেলা; এবারে বড়ো হও!” বিড়বিড় করে উঠল গ্যারি, “থ্রি ইজ ক্রাউড।”
হা হয়ে গেল বেলা। এটা তো মাখাতেই আসেনি। গ্যারির হাতে হেলান দিয়ে বলে উঠল, “আমি তো বুঝতেই পারি নি যে তোমার ম্যাচ মেকিং এ ট্যালেন্টও আছে ভাই।”
***
সূর্য ডোবার সময়ে টিউলিপ শেপড গ্লাসে করে এলসা পিগনাটেলি’কে এক গ্লাস ডম পেরিগগন এনে দিল আইজ্যাক। রেগুলার ক্লায়েন্টদের সমস্ত অভ্যাসই ওর জানা আছে।
ক্যাম্প ফায়ারের চারপাশে হাফ সার্কেল করে বসল সকলে; নিজের দু’জন ট্র্যাকারকেও ডেকে নিল শন। অ্যাভারেজ ক্লায়েন্টরা বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো আসেন, তারা শন্ আর তার ট্র্যাকারদের সোয়াহিলি শুনে মুগ্ধ হন।
মাও মাও বিপ্লবের দিনগুলোতে কেনিয়াতে থাকাকালীন সময় থেকেই এ দু’জন শনের সাথে আছে। এদের একজন লম্বা, নাইলোটিক গড়ন, আরেকজন পুঁতির মতো চকচকে চোখের এক ভূত।
অরণ্যের ডোরোবো উপজাতির জীবিত সদস্যদের একজন হলো মাতাতু।
যাদুটোনার জন্য বিখ্যাত এ সম্প্রদায়ের মাত্র কয়েকজনেই বেঁচে আছে। শই মাতাতু নাম দিয়েছে। কারণ ওর আসল নাম বলতে গেলে দাঁত ভেঙে যাবার সম্ভাবনা আছে। শনের জীবনের প্রায় অর্ধেক কাল জুড়েই ওর সাথে আছে মাতাতু। এলসা’কে ওর ভাষা অনুবাদ করে দিল শন “এক সপ্তাহ আগে আমি পাঁচটা চিতাবাঘের টোপ ফেলেছি। নদীর ধারে দু’টো আর বাকিগুলো ন্যাশনাল পার্কের কাছে।”
মাথা নাড়লেন এলসা; আগে ও আসায় এলাকাটা তিনি ভালই চেনেন।
মাতাতু’র দিকে ফিরে আরেকটা প্রশ্ন করল শন। ছোটখাটো ডোবোবো এত বড় একটা উত্তর দিল যে বোঝাই যাচ্ছে সকলের মনোযোগ উপভোগ করছে।
“আজকেও টোপগুলোকে চেক করে এসেছে মাতাতু! আপনার ভাগ্য ভালো সিগনোরা। নদীর ধারের টোপে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মাতাতুর ধারণা এটা বেশ ভালোই হবে। সপ্তাহ খানেক ধরে ঝুলছে হরিণের টোপগুলো। ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও ভালো আছে। যদি আজ রাতেও আসে টুম ব্যাটা। তাহলে কাল সন্ধ্যাতেই গিয়ে হাজির হব।”
“হুম” মাথা নাড়লেন এলসা। “গুড”
“তো কাল সকালে টোপগুলোকে চেক করে আরো কয়েকটা ইম্পালা হরিণ মেরে নেব। যদি প্রয়োজন পড়ে তো ব্যবহার করা যাবে। লাঞ্চ করে খানিক রেস্ট নিয়ে বিকেল তিনটায় বের হয়ে যাব।”
“টোপ চেক্ করা, হরিণ মারা সবকিছু তুমিই করবে।” জানিয়ে দিল এলসা, “কারণ সকালবেলায় আমার মিটিং আছে।” পাশের চেয়ারে বসে থাকা শাসা’র দিকে তাকিয়ে হাসলেন পিগনা টেলি, “আমাদেরকে অনেক কিছু আলোচনা করতে হবে।”
***
সকালের বেশির ভাগটাই খেয়ে নিল আলোচনা। খুব সাবধানে সবকিছু ঠিক করল গ্যারি। শনের সাথে টয়োটা নিয়ে বেলা’কেও পাঠিয়ে দিল। ক্যাম্প থেকে খানিক দূরে মাসাসা গাছের নিচে তিনটা চেয়ার আর ফোল্ডিং টেবিল পেতে দিল আইজ্যাক।
দুনিয়ার আর কোনো জায়গাতেই এতটা নিরাপত্তা পাওয়া যাবে না। শাসার কাছে পুরো ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুত ঠেকল। এত সুন্দর একটা জায়গা আর আলোচনার বিষয়টাও ততটাই ভয়ংকর।
অন্যদিকে গ্যারি কিংবা শাসা’র আশানুরূপ কিছুই ঘটলনা। এলসা পিগটেলি সাথে করে হ্যান্ডসাম একটা অ্যাটাচি কে নিয়ে এলেও এটার তালা আর খোলাই হলো না।
বোঝাই যাচ্ছে এখনো সিনডেক্স-২৫ এন্টারপ্রাইজের ব্যাপারে মন ঠিক করতে পারেননি এলসা। একই সাথে বেশ কিছু বিষয়ে সন্দেহও করছেন।
“ন্যাটো তাদের চুক্তি প্রত্যাহার করাতে আমি যার পরনাই খুশিই হয়েছি। কেননা এমন কোন দুনিয়াকে আমি অস্ত্র দিতে চাই না, যার উপরে আমার কোন প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।”
পুরো সকাল জুড়েই মহিলার ভয় দূর করার চেষ্টা করল গ্যারি আর শাসা।
“যদি আপনার উৎপাদন শুরু করে দেন; তাহলে এ গ্যাসের স্যাম্পেল অ্যানালাইস করা কোনো ন্যাটো এক্সপার্ট নির্ঘাৎ টের পেয়ে যাবে এর উৎপত্তিস্থল আর সমস্ত দোষ এসে পড়বে পিগটেলি’র ঘাড়ে…”
এখনো নাছোড়বান্দা এলসা। আলোচনা চলতে চলতে চেয়ার ঘুরিয়ে শাসা’র মুখোমুখি হয়ে গেলেন মহিলা। নিজের সমস্ত মন্তব্য আর প্রশ্ন কেবল শাসা’র দিকেই ছুঁড়ে দিচ্ছেন।
যেন গ্যারি’র কোনো অস্তিত্বই নেই। সবার আগে গ্যারিই ব্যাপারটা ধরে ফেলল। বুঝতে পারল-শাসা’র কাছ থেকেই নির্ভরতা চাইছেন এলসা পিগটেলি। অত্যন্ত সাবধানে তাই একেবারে চুপ করে গেল গ্যারি। তাকিয়ে দেখল দুজনের প্রেমকাতর চাহনি, যদি বুঝতে পারল না যে ঠিক কী ঘটছে।
***
টয়েটোর ফিরে আসার শব্দে সকলের ঘোর ভাঙ্গল। হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠলেন শাসা।
“ওহ্, ঈশ্বর, প্রায় লাঞ্চটাইম হয়ে গেছে। আর এখনো আমরা কিছুই ঠিক করতে পারি নি।”
“আমাদের হাতে এখনো দু’সপ্তাহ আছে।” মনে করিয়ে দিলেন এলসা, কাল সকালে আবার এখান থেকেই শুরু করব।”
তিনজনে মিলে ডাইনিং টেন্টে ফিরে এসে দেখল ক্রিস্টালের জগে পিমস নাম্বার ওয়ান মিক্স করছে শন; নিজের রেসিপি নিয়ে সে রীতিমতো গর্বিত।
“গুড নিউজ আছে সিগনোরা” খুশি খুশি গলায় বলে উঠল, শন, “পিমস্ দিয়েই উৎসব শুরু করা যাক?
হাসি দিয়ে শনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন এলসা। আমি শুধু লেবু দিয়ে পানি খাবো। কিন্তু গুড নিউজটা কী?”
“চিতাবাঘটা কাল রাতেও এসেছিল। সবকিছু দেখে মনে হয়েছে সূর্য ডোবার ঘণ্টাখানেক আগে আসে। দু’দিনেই বেশ সাহসী হয়ে উঠেছে।”
