“কী বলছ তুমি?” বিড়বিড় করে উঠল বেলা।
“গন্ধ বিহীন গ্যাসটার কল্যাণে কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যু ঘটবে। তবে চাইলে যে কেউ যে কোনো গন্ধ মেশাতে পারে-যেমন টসটসে আপেল, জেসমিন কিংবা চ্যালেন ফাইভ।”
“তুমি তো এমন ভয়ংকর ছিলে না, বাবা।”
কিছুই বললেন না মেয়েকে। “অবশ্য মিক্সিং এর তিন ঘণ্টা পার হয়ে গেলে আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না এই গ্যাস। ফলে সুবিধা হলো বিপক্ষেরও আর্মির উপরে গ্যাস ছেড়ে দিলেও তিন ঘণ্টা পরেই তোমার নিজের বাহিনী দিয়ে সে জায়গা দখল করে নিতে পারবে।”
“বেশ মজা তো।” ফিস করে বলে উঠল বেলা।
“রাজনৈতিক ভাবে সম্ভাব্য সবকিছু নিশ্চয়ই ভেবে রেখেছেন মিঃ প্রাইম মিনিস্টার?”
দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন শাসা। বেলা আবারো জানতে চাইল, ন্যাটো চুক্তি প্রত্যাহার করে নেয়ার পর একমাত্র পিগনাটেলি কেমিক্যালস এই সিনডেক্স-২৫ উৎপাদন করছে?”
“না, ওরা পরীক্ষা করে দেখেছে। কিন্তু ন্যাটোর চুক্তি শেষ হবার পরেই সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছে। অরিজিন্যাল স্টকও নষ্ট হয়ে গেছে।”
বাঁকা চোখে বাবার দিকে তাকাল বেলা। “নষ্ট হয়ে গেছে?” বেশ ক্ষণস্থায়ী গ্যাস। মাত্র ছয় মাস অটুট থাকে সমস্ত গুণ। তাই তারপরেই আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়।”
“ক্যাপরিকর্ণ কেমিকেলস্-এর জন্যে বেশ লাভজনক হবে।” মেয়ে’র মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন শাসা।
“প্ল্যান্টের জন্যে ব্লু-প্রিন্ট-সাপ্লাই করবেন সিগনোর পিগটেলি। উৎপাদন প্রক্রিয়াও বেশ জটিল হবে।”
“কবে থেকে উৎপাদন শুরু করবে তোমরা?” ইসাবেলা’র প্রশ্ন শুনে মিটিমিটি হাসলেন শাসা।
“ধীরে ব্যস ধীরে। মহিলা এহেন প্রস্তাবে রাজি হবেন কিনা সেটাই তো এখনো নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে মাত্র কথা শুরু হবে আজ।” হাত ঘড়ির দিকে তাকালেন শাসা। “লাঞ্চ টাইম প্রায় হয়ে গেছে; অথচ ক্যাম্প এখনো আধা ঘণ্টা দূরত্বে।”
***
শনে’র আগমন সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা থেকেই এয়ারস্ট্রিপে জড়ো হয়েছে সকলে।
হাত দিয়ে চোখের উপর ছায়া বানিয়ে উইন্ডস্কিনের ভেতর দিয়ে শনের ডান দিকে বসে থাকা আরোহীকে দেখতে পেলেন শাসা। দুজনে একই দুনিয়ার বাসিন্দা হলেও অদ্ভুত ব্যাপার হলো যে শাসা আর এলসা। আগে কখনো সাক্ষাৎ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন প্রোগ্রামে দু’জন একই সাথে উপস্থিত থাকলেও কখনো দেখা হয়নি। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। দু’জনের সম্পদ আর ক্ষমতা।
সেনটেইন আর ইসাবেলা প্রোগ্রাম গিলে খায় এমন সব চকচকে উইমেন ফ্যাশন ম্যাগাজিনে এলসা’র ছবি দেখেছেন শাসা। গত বিশ বছর ধরে উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করে আসছে কোর্টনি ইন্ডাস্টিজ। তাই এই মিটিং এর আগে স্পেশাল সার্ভিসের তৈরি করা ফাইল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে এসেছেন শাসা।
বীচক্রাফর্টের ইঞ্জিন বন্ধ করল শন। মাটিতে নেমে এলেন এলসা পিগটেলি। লম্বা গড়নের এলসা’র চালচলন ঠিক তরুণ জিমেন্যাস্টদের মত; ব্রুনো পিগনাটেলি’কে বিয়ে করার আগে ভেস সেন্ট লরেন্টের মডেল হয়েছিলেন-এই নারী।
পূর্ব প্রস্তুতি থাকলেও মনে মনে বোকা বনে ইলেকট্রিক শক খেয়েছেন। গলা আর হাত দুটো কেমন যেন অবশ হয়ে যাচ্ছে। গ্যারি। ইসাবেলা, ভুত্যের দল পেরিয়ে এবারে শাসা’র উপরে স্থির হলো এলসা’র দৃষ্টি। 1
এলসা পিগটেলি’র কেশরাজি এতটাই কালো যে নীল আভা ছড়াচ্ছে। মাথার পেছনে কয়েলের মতো বেঁধে রাখাতে স্পষ্ট হয়ে আছে উন্নত কপাল। পূর্ণ যৌবনা এই নারীর ঠোঁট দুটো বেশ নরম।
মডেল সুলভ ভঙ্গিমা নিয়ে শাসা’র দিকে এগিয়ে এলেন এলসা, “শাসা কোর্টনি” হাসতেই ফুটে উঠল পরিষ্কার চোয়াল। আগামী জুলাইতে তেতাল্লিশতম জন্মদিন হবার কথা থাকলেও এখনো নিভাজ নিখুঁত চামড়া।
“সিগনোরা পিগনাটেলি” এলসা’র হাত ধরলেন শাসা। ঠাণ্ডা আর দ্রুত গতি’র হলেও হাত বেশ শক্তিশালী উজ্জ্বল চোখ জোড়া থেকে ঝরে পড়ছে বুদ্ধির দীপ্তি। ঘন পাপড়ির নিচ থেকে বাদামি সোনারি আভা বিকিরণ করছে চোখের মণি।
“আরো আগেই আমাদের দেখা হওয়া উচিত ছিল।” শাসা’র অদ্ভুত ইটালীয় ভাষা শুনে চোস্ত ইংরেজিতে উত্তর দিলেন এলসা, “ওহ, দেখা তো হয়েছে।”
“কোথায়?” বিস্মিত হয়ে গেলেন শাসা।
“উইন্ডসর পার্ক। দ্যা গার্ডস্ পোলো ক্লাব।” মজা পেলেন-এলসা, “ডিউক অব এডিনবার্গের নিমন্ত্রিত দলের দুই নম্বর খেলোয়ার ছিলেন আপনি।”
“মাই গুডনেস, সেটা তো দশ বছর আগের কথা।”
“এগারো।” শুধরে দিলেন এলসা।” পরিচয় না থাকলেও ম্যাচের পরে ব্যুফেতে দেখা হয়েছিল তিন সেকেন্ডের জন্য। আমাকে স্মোকড স্যামন স্যান্ডউইচ অফার করেছিলেন।”
“আপনার স্মৃতি শক্তি তো দেখছি অসাধারণ।” হার মানলেন শাসা।
“তো স্যান্ডউইচ নিয়েছিলেন?”
“ইস্ কেন যে আপনার মনে নেই।” অন্যদের দিকে তাকালেন এলসা,
“তুমি নিশ্চয়ই গ্যারিক কোর্টনি? প্রথমে গ্যারি তারপর ইসাবেলা’র সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন শাসা।
একগাদা লাগেজসহ চারটা গার কে ট্রাকে তুলে নিল পরিচারকদের দল। মানুষ কেবল প্রাইভেট জেটে ভ্রমণের সময় এতসব ভারী লাগেজ নিয়ে আসে।
“আপনি আমার সাথে আসুন, সিগনোরা” নিজের হান্টিং ভেহিকেলের উঁচু ড্রাইভার সিটে চড়ে বসল শন। কিন্তু ওর কথায় কর্ণপাত না করে দ্বিতীয় ট্রাকে শাসা’র পাশে গিয়ে চড়ে বসলেন এলসা। ইসাবেলা ওদের পিছু নিতেই ওর হাত ধরে থামাল গ্যারি।
