অথচ এখন কিনা সেখানে বসে আছে গ্যারি। চশমা ঠিক করে নিয়েছে। নাকের ফোলা ভাবটাও কমেছে। শাওয়ার নেয়াতে চুল এখনো ভেজা। বড়সড় আত্মতৃপ্ত মানুষটা বসে আছে শনের চেয়ারে।
চোখ তুলে ভাইয়ের দিকে তাকাল গ্যারি। নাস্তায় নিয়েছে ইম্পালা লিভার, অনিয়ন আর স্ক্যমবেলড এগস। “মর্নিং, শন,” আনন্দ চিত্তে চিৎকার করে উঠল গ্যারি,” এসে পড়েছ যখন আমাকে এক কাপ কফি এনে দাও।”
হঠাৎ করেই টেবিলের সকলে একেবারে চুপ করে গেল। সবাই তাকিয়ে আছে শনের দিকে। ধীরে ধীরে হেসে ফেলল শন।
“চিনি কতটা দেব?” আইজ্যাকের হাত থেকে কফি-পট নিয়ে এলো।
‘দুই-চামচেই কাজ হবে।” আবারো খেতে শুরু করল গ্যারি। টেবিলের অন্যরাও স্বস্তি পেল। সকলেই খেতে শুরু করল।
ছোট-ভাইকে কফির মগ এনে দিল শন। মাথা নাড়ল গ্যারি, “থ্যাংক শন। বসো।” পাশের খালি-চেয়ারটা দেখিয়ে দিল গ্যারি, “কয়েকটা ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে।”
‘আলোচনাটা শোনার জন্য মরিয়া হয়ে গেল বেলা; কিন্তু সমানে কিচির মিচির করে চলেছে দুই নার্স। শাসা আর অটোর সাথে টাংকি মারছে। জানে এই ক্যাম্পে কয়েকদিন পরেই যে মিটিং হবে তার কথা বলছে গ্যারি। যেটির ভিজিটরস আর প্রতিটা ডিটেইল নিকি আর বেলার জন্য অত্যন্ত দামি।
“আর এই ইটালিয়ান নারী? আগেও তো তোমার ক্লায়েন্ট হিসেবে এখানে এসেছিল। কেমন উনি?” বেলা গ্যারির প্রশ্নটা শুনতে পেল। কাঁধ ঝাঁকাল শন।
“এলসা পিগুটেলি? সুইস ইটালিয়ান। গুলি চালাতে ওস্তাদ। ট্রিগার টিপলেই কিছু না কিছু পড়বে। কখনো মিস্ করতে দেখিনি।”
খানিকক্ষণ ভেবে নিয়ে মাথা নাড়ল গ্যারি, “আর কিছু?”
“বেশ রগচটা। সবকিছু নিজের মতো করেই চায়। মনে হয় মাথার পেছনেও চোখ আছে। কিছু লুকাতে পারবেনা। বিল খানিকটা বাড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ঠিকই ধরে ফেলছে।”
আবারো মাথা নাড়ল গ্যারি। “আশ্চর্য হবার কিছু নেই। ইউরোপের অন্যতম ধনবান নারী। ফার্মাসিউটিক্যালস আর কেমিকেল’র ব্যবসা আছে। হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং। জেট ইঞ্জিন, আর্মামেন্টস্ সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই খেলা দেখাচ্ছে। অসম্ভব রকম বিখ্যাত।”
“গত সিজনে আহত একটা জাম্বোর উপর ফুল আউট চার্জের সময়ে মাত্র বিশ কদম দূর থেকে ব্রেইনের একেবারে সামনের অংশে গুলি করেছেন মহিলা। অথচ এরপর আমার উপরে সে কী চোটপাট। আমিই নাকি তাঁর হাতিকে মেরেছি। বেশ কঠিন ধাতু দিয়ে গড়া।”
“আর কিছু? কোন দুর্বলতা? মদ?” জানতে চাইল গ্যারি।
মাথা নাড়ল শন্। “প্রতি সন্ধ্যায় এক গ্লাস করে শ্যাম্পেন। প্রতিবার ডম পেরিগননের ফ্রেশ বোতল। এক গ্লাস খেয়ে বাকিটা দিয়ে দিতেন। প্রতি বোতল পঞ্চাশ ডলার।”
“আর কিছু?” মোটা চশমা’র ভেতর দিয়ে গ্যারি’কে একদৃষ্টে তাকাতে দেখেই হেসে ফেলল শন।
“কাম অন গ্যারি। আন্টির বয়স না হলেও-পঞ্চাশ।”
“আসলে উনার বয়স বেয়াল্লিশ।” জানিয়ে দিল গ্যারি।
কাঁধ ঝাঁকাল শন। “ওকে। আমি অফারটা দিয়েছিলাম। এটা সার্ভিসের অংশ। কিন্তু তিনি হেসেছেন। জানিয়েছেন, শিশুকে লাঞ্চনার দায়ে গ্রেফতার হতে চান না।”
মাথা নাড়ল শন। শারীরিকভাবে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করতে চায় না।
“পিটি! আমরা উনার সাথে ব্যবসা করতে চাই। তা যা কিছু সম্ভব করতে হবে।” বলে উঠল গ্যারি।
“আজ বিকেল পাঁচটায় উনাকে নিয়ে আসব।” প্রমিজ করল শন। “তারপর তুমি যা খুশি করো।”
সকলে মিলে এয়ারস্ট্রিপে এলো অটো আর নার্সদেরকে বিদায় জানাতে। জার্মান মেয়ে দুটো যে গ্যারি’কে ক্ষমা করে দিল তাই নয়, মনে হলো ওদের শ্রদ্ধাও জিতে নিল গ্যারি। যাবার আগে ওর চুল টেনে। কি করে এমন অবস্থা করল যে লজ্জায় লাল হয়ে গেল গ্যারি।
গর্জন করতে করতে এয়ারস্ট্রিপ ছেড়ে উঠে গেল বীক্রাফট। দু’শ ফুট ওপরে উঠে আধ মাইল দূরে গিয়েও আবার ঘুরে সোজা ওদের দিকে ধেয়ে এলো প্লেন। মাথার উপর মাত্র বিশ ফুট উপরে ঝুলে রইল। পাগলের মতো হাত নাড়ছে প্লেনের পেটে বসে থাকা স্টুডি আর এরিকা।
“কাউবয়!” টয়েটার হুইলে উঠে বসল গ্যারি, “আসবে বেলা?”
“আমি বাবার সাথে আসছি।” উত্তরে জানাল বেলা। জানে ভাইয়ের চেয়েও বাবারর পেট থেকে কথা বের করা বেশি সহজ হবে।
ক্যাম্প থেকে তখনো প্রায় অর্ধেক দূরত্বে, এমন সময় সুযোগ পেল বেলা,
“তো এই এলসা পিগনাটেলীকে বাবা? আগে তো কখনো উনার কথা শুনিনি?”
বিস্মিত হয়ে গেলেন শাসা, “তুমি কিভাবে জানলে?”
“আমাকে বিশ্বাস করো না? আমি তো তোমার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নাকি?” অত্যন্ত বুদ্ধি করে বাবাকে অপরাধবোধে ফেলে দিল বেলা।
বুঝতে পারলেন শাসা, বলে উঠলেন, “মাফ করো, বেলা। এমন না যে তোমাকে বিশ্বাস করি না।”
“উনার কারণেই তো আমরা এখানে এসেছি, তাই না?”
তারপরেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে রইলেন শাসা।
“এলসা পিগনাটোলি গত তিন সিজন ধরে এখানে আসছেন। সিংহ আর চিতা বাঘ শিকার করতে অসম্ভব পছন্দ করেন। তুমি তো জানোই এসব কাজে শন কতটা দক্ষ।”
“আমরা নিশ্চয় উনার শিকার করা দেখতে আসিনি?” বাবাকে জোর দিল বেলা।
“এলসাল’র সম্পত্তির ভেতরে কেমিকে ফ্যাক্টরী’ও আছে কীটনাশক, প্লাস্টিক, পেইন্টস। আর এসবের পেটেন্টের ব্যাপারেই আমাদের যত আগ্রহ।”
“তাহলে গ্যারি’ই তো জেনেভা কিংবা রোমে, উনি যেখানে থাকেন, চলে। যেতে পারে?”
