“তোমার আর কিছু বাকি নেই। কিন্তু তোমার ভাই, বাপরে, ঠিক একটা ষড়। চোখ পাকালো ট্রডি। “ও যেমন ভালো ফাইট করে তেমনি কি বিছানাতেও ভালো?”
মুহূর্ত খানিক ওর দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলল শন, আমার ভাই কিন্তু যেমন তেমন না। বিয়ে করার সময় তো বলতে গেলে কুমারীই ছিল। সন্দেহ আছে তোমাকে খুশি করতে পারবে কিনা।”
“আমরা দেখিয়ে দিব। কী করতে হবে। এরিকা আর আমি।” প্রমিজ করল ট্রুডি।
“তোমার কী মনে হয় অটো?” ক্লায়েন্টের দিকে তাকাল শন। “ওদেরকে আজ রাতের জন্য ধার দেবে? মাঝরাতের আগেই আবার তোমার তাবুতে ফিরিয়ে দিয়ে আসব।”
মাথা নাড়লেন অটো,
“মাই ফ্রেন্ড। তুমি এত মজার সব জোকস বলল না! গালর্স তোমরা কী বলো?
আহত বুক খামচে ধরে ওদের সাথে হেসে ফেলল শন।
আজ কী ঘটে গেছে তা সবার চেয়ে ওই ভালো বুঝেছে। ভাই সুলভ হাতাহাতি নয়; যেন ফাইনাল ব্যাটল লড়েছে অধিকার পেতে মরিয়া দুটো আঁড়।
ও হেরে গেছে আর বেদনাটাও অনেক ভারী।
জানে আর কখনোই চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। গ্যারি ওকে সবদিকে হারিয়ে দিয়েছে। বোর্ডরুম থেকে শুরু করে পেশির’র যুদ্ধে। শন শুধু এখন একটাই কাজ পারে। ওর ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা।
***
স্বপ্ন দেখছে গ্যারি। কিন্তু এতটাই স্পষ্ট যে মনে হচ্ছে সত্যি। একদল নৃত্যরত বনপরীর হাত থেকে বাঁচার জন্য তৃণভূমির উপর দিয়ে যেন ছুটছে গ্যারি। কিন্তু এত কষ্ট হচ্ছে! যেন গরম গুড়ের ভেতর ডুবে যাচ্ছে পা।
তৃণভূমির ওপারে হোলি আর দাঁড়িয়ে থাকা সন্তানদেরকেও দেখতে পাচ্ছে। হোলি চিৎকার করে কিছু বললেও বুঝতে পারছে না গ্যারি। কাঁদছে। ওর স্ত্রী।
যতবার ওর কাছে যেতে চাইছে, পেছন থেকে জড়িয়ে ধরছে বনপরীদের উষ্ণ হাত। ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল হোলি আর বাচ্চারা। ছোট্ট বাবুটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে তৃণভূমির ওপারে অদৃশ্য হয়ে গেল সকলে।
মন চাইল চিৎকার করে ওদেরকে অপেক্ষা করতে বলে; কিন্তু নিজের ভাবনা চিন্তাও কেমন যেন এলোমেলো ঠেকছে। হঠাৎ করে কী হলো। আর পালাতে চাইছে না গ্যারি। ঘুমের মাঝেও বুঝতে পারল যে এটা স্বপ্ন; অথচ চাইছে যেন এ ঘোর না ভাঙ্গে কোনদিন।
চারপাশ থেকে ওকে ঘিরে ধরল নরম তুলতুলে উষ্ণ শরীর। নাকে ধাক্কা খেল নারী দেহের মিষ্টি গন্ধ। শুনতে পাচ্ছে হাসির রিনরিনে আওয়াজ।
হোলি আর বাচ্চারা চলে গেছে, ওদেরকে ভুলে লালসায় ডুবে গেছে গ্যারি।
এরপর হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বুঝতে পারল যে এটা স্বপ্ন নয়; ওর বিছানায় সত্যি সত্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটা হাত। মুখের উপর সমূদ্রের জালের মতো ভেসে বেড়াচ্ছে সিল্কি চুল। নরম শরীর দু’টো ওকে পেচিয়ে ধরেছে বনদেবীদের মতন।
খানিকক্ষণ শুয়ে থেকেই তড়াক করে এক লাফ দিয়ে বসে পড়ল গ্যারি। ওপাশে পাথরের মতো জ্বলছে নগ্ন নারী দেহ।
বিছানার কিনারে বসে আছে শন। বুকে সাদা টেপ হলেও মুখে হাসি। “ফার্স্ট প্রাইজটা তুমিই পেয়েছ গ্যারি; এনজয় ল্যাড এনজয়!”
“ইউ বাস্টার্ড!” ওকে ধরতে এগিয়ে গেল গ্যারি।
কিন্তু দ্রুত পায়ে সরে পড়ল শন। মেয়ে দুটোও তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে গেল। বিড়াল চানার মতো করে দু’হাতে দু’জনকে ধরে তুলে ফেলল গ্যারি। তাঁবুর বাইরে নিয়ে আসতেই চিৎকার জুড়ে দিল নার্সদ্বয়।
ড্রেসিং গাউনের বেল্ট লাগাতে লাগাতে তাবুর বাইরে বেরিয়ে এলেন শাসা,
“কী হয়েছে?”
“আমার ডার্লিং ব্রাদার, বিছানাতে সাপ ছেড়ে দিয়েছে। ওগুলোকে তাড়িয়ে এলাম।” নম্রভাবে উত্তর দিল গ্যারি।
“ধুর!” বলে উঠলেন শাসা, “অযথাই সুযোগ হারালে।”
মিটিমিটি হাসতে হাসতে ছেলের পিছু নিলেন শাসা।
ঘুম কাতুরে চোখ নিয়ে লেসের শর্ট নাইটি পরে নিজের ভঁবু থেকে বের হয়ে এলো বেলা,
“গ্যারি, কী হয়েছে?”
“আমিও তো তাই ভাবছি।”
“দু’জন গ্যারি? একটু বেশিই হয়ে গেল না?”
“শন’কে জিজ্ঞেস করো, এটা ওর আইডিয়া।”
“এখন কী করবে? আমি আসব?”
“সানন্দে। হোলি’র কাছে তুমি আর বাবা রিপোর্ট করো।”
ছোট্ট দলটাকে নিয়ে ক্যাম্পের বাইরে পানির কিনারে চলে এলো গ্যারি। বেশ ঠাণ্ডা পড়েছে বাইরে; পায়ের নিচে বরফ ভাঙছে।
“প্লিজ, আমরা কেবল মজা করতে চেয়েছিলাম।” গ্যারির হাতের নিচে ঠকঠক করে কাঁপছে ট্রডি।
“সত্যিই মজা করেছি।” কাঁদো কাঁদো স্বরে জানাল এরিকা।
“প্লিজ যেতে দিন।” বাতাসে যেন সাইকেল চালাচ্ছে এমন ভাবে দুলছে ওর পা।
“আমিও মজাই করছি।” বলে উঠল গ্যারি। কিন্তু মনে হয় তোমাদের চেয়ে আমারটাই ভাল হবে।”
প্রথম থ্রোটা তেমন ভালো হলো না। মাত্র বিশ ফুট। কিন্তু এরিকা ভারী হওয়াতে এমনটা হয়েছে। ট্রডি গিয়ে পড়ল পাক্কা ত্রিশ ফুট দূরে চিল্কারে কান পাতা দায় হলেও ঠাণ্ডা পানিতে পড়ার সাথে সাথে থেমে গেল সবকিছু।
গায়ে কালো মাটি মেখে ভয়ংকরভাবে কাঁপতে কাঁপতে উঠে এলো দু’জনে।
“এবারে” বলে উঠল গ্যারি, “দেখ, সত্যিকারে মজা কাকে বলে?”
***
ব্রেকফাস্টে দেরি করে ফেলল শন। ডাইনিং টেন্টে ঢুকতে গিয়েও থেমে গেল। চোখ সরু করে তাকাল চারপাশে।
ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই মেরামতো করে ফেলেছে ভূতেরা। ভাঙ্গা ফার্নিচারগুলো মেরামত করা হয়েছে। ট্রডি আর এরিকাও ধুয়ে ফেলেছে মাটি। কিন্তু এসবে মনোযোগ দিচ্ছে না শন।
তাকিয়ে আছে লম্বা টেবিলের মাথায় নিজের চেয়ারের দিকে। এটা ওর ক্যাম্প। বহুদিন ধরেই এ জায়গাটা ওর। সবাই জানে। ক্যানভাসের চেয়ারের পেছনেও ওর নামটাই প্রিন্ট করা আছে।
