স্তম্ভিত শন্ কিছুই করতে পারল না। ডাইনিং টেন্ট ছিঁড়ে একসাথে জড়াজড়ি করে পড়ে গেল দু’জনে। মূল্যবান আর প্রাচীন সব ওয়াইন, ক্রিস্টাল নিয়ে উপুড় হয়ে গেল বার টেবিল। ফেনার মেঘের ভেতরে ডুবে গেল দুই ভাই।
ডাইনিং টেবিল ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল দামি বাসন-কোসন। সারা শরীরে দড়িদড়া আর ক্যানভাস পেঁচিয়ে তাঁবুর পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে এলো দু’জনে। আতঙ্ক আর উত্তেজনায় ছুটাছুটি শুরু করে দিল ভুত্যের দল।
বৃত্তের মতো করে একে অন্যকে ধাওয়া শুরু করল দুই ভাই। কিছুতেই ছাড়তে রাজি নয় গ্যারি। শনের পেছনে ডাবল লক করে ধরে রেখেছে। পাইথনের মতই পিষে ফেলতে চাইছে শিকার।
শনের একটা হাত ভয়ংকরভাবে বেঁকে গেছে। খোলা হাতটা দিয়ে দুরমুশের মতো গ্যারি’র মাথায় পেটাতে লাগল; কিন্তু আগের মতো তেমন জোর নেই। যদিও গ্যারি’র ঠোঁটও কেটে গেল।
একে অন্যকে ধরা অবস্থাতেই আবারো সকলের মাঝখানে চলে এলো শন আর গ্যারি। নার্সদের একজন কিছু বুঝে উঠার আগেই ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল। স্কার্ট উল্টে আন্ডারওয়্যার বেরিয়ে গেলেও কেউ তাকিয়ে দেখল না।
শন’কে মাটি থেকে তুলে ফেলতে চাইছে গ্যারি। বুকে গ্যারি’র মোচড়ের চোটে শনের চেহারা ঘেমে নেয়ে অন্ধকার হয়ে উঠলেও বিড়ালের মতো ঠিকই প্রতিবার ঘোরার পরেও মাটিতে নেমে আসছে। একেবারে ক্যাম্প ফায়ারের মাঝখানে ভাইকে নিয়ে এলো গ্যারি। শনে’র শূন্য পায়ের নোম পুড়ে গেল; চামড়ার জুতায় আগুন ধরে গেল।
ভয়ংকর গর্জন করে লাফ দিল শন আগুন এড়াতে পারলেও গ্যারি’র মুঠি সরাতে পারল না। হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল শন্! ঝুঁকে এলো গ্যারি।
শনে’র ফুসফুস থেকে বাতাস বেরিয়ে গেল; মুখে ভরে গেল রক্ত। এরপরেও মুঠি আলগা করল না গ্যারি। শনে’র চোখজোড়া মনে হচ্ছে সকেট থেকে বেরিয়ে যাবে; চোয়াল হা হয়ে ঝুলে পড়ল।
“গ্যারি! তুমি ওকে মেরে ফেলছ?” আর্তচিৎকার করে উঠল ইসাবেলা। কিন্তু শাসা কিংবা গ্যারি, মনে হলো কেউই ওর কথা শুনতে পায়নি।
এবারে শনে’র পাজর ভেঙে যাবার স্পষ্ট শব্দ শুনতে পেল সবাই। চিৎকার করে গমের খালি বস্তার মতো আছড়ে পড়ল গ্যারি’র হাতের উপর। ওকে ছেড়ে পিছিয়ে এলো গ্যারি। এতক্ষণের পরিশ্রমে ওর নিজের চেহারাও ঘেমে নেয়ে একাকার।
উঠে বসতে চাইলেও বুক চেপে ধরে গোঙ্গাতে লাগল শন্। দুই-হাত দিয়ে মাথার চুল ঠিক করছে গ্যারি।
“রাইট!” শান্ত স্বরে জানিয়ে দিল গ্যারি, “এবার থেকে সমঝে চলবে বুঝেছ?”
এক হাতে বুক ধরে কোনমতে উঠে দাঁড়াল শন।
“শুনেছ আমার কথা?” এগিয়ে এলো গ্যারি।
“গোল্লায় যাও।” ফিসফিস করে বললেও বুকে ব্যথা পাচ্ছে শন্।
খানিকটা ঝুঁকে মোটাসোটা শক্ত বুড়ো আঙুল দিয়ে ভাইয়ের বুক স্পর্শ করল গ্যারি,
“আমার কথা শোননি?”
ওকে, ওকে। শুনেছি।” হাল ছেড়ে দিল শন।
“গুড।” মাথা নেড়ে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সদের দিকে তাকাল গ্যারি, “ফ্রাউলেইন” যথাসাধ্য জার্মানে বলে উঠল “আপনাদের সাহায্য দরকার।”
দুজনেই দৌড়ে গিয়ে দুপাশ দিয়ে শকে ধরে ওর তাবুর দিকে নিয়ে গেল।
ইসাবেলা’র হাত ছেড়ে দিলেন শাসা।
“তো” বিড়বিড় করে বলে উঠলেন, অবশেষে সব সাঙ্গ হল।” ডাইনিং টেন্টের ভগ্নদশা’র দিকে তাকিয়ে হাঁক ছাড়লেন, “ওরে কে কোথায় আছিস, চিভাস নিশ্চয়ই শেষ হয়ে যায়নি।”
***
৬. ক্যাম্প-বেডের উপর বসে
ক্যাম্প-বেডের উপর বসে আছে গ্যারি। ফার্স্ট এইড বক্স থেকে মলম নিয়ে ওর ক্ষতের উপর লাগিয়ে দির বেলা। শনে’র ঘুসি খেয়ে গ্যারির হাত আর উর্ধাঙ্গে জিরাফের মতো দাগ পড়ে গেছে। ফুলে ঢোল হয়ে গেছে নাক আর ঠোঁট।
“মনে হয় ভালই হয়েছে” হেসে ফেলল ইসাবেলা, “আগে তোমার নাকটা অর্ধেক ছিল; এখন পুরো মুখ জুড়েই নাক দেখা যাচ্ছে।”
মিটিমিট হেসে গ্যারি বলে উঠল, “মাস্টার শন’কে তো এক হাত নিয়েছি। এবার দেখছি তোমাকে শিক্ষা দেবার পালা এসেছে।”
ভাইয়ের মাথায় কি করল বেলা। টেডি বিয়ার, তুমি জানো হোলি কতটা লাকি যে তোমাকে পেয়েছে।” লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল।
গ্যারি। ভাইয়ের প্রতি স্নেহে বেলা’র বুক ভরে গেল।
***
একটু পরপরেই ব্যথায় কাতরাচ্ছে শন আর হেসে গড়িয়ে পড়ছেন অটো।
“এই যে নাও!” বেডসাইড টেবিলের উপর রাখা টাম্বলার গ্লাসে ঢেলে দিলেন তিন আঙুল পরিমাণ হুইস্কি “ব্যথার জন্য এটা ক্লোরোফর্মের কাজ করে।”
কাত হয়ে গ্লাসটাকে নিয়ে সবটুকু হুইস্কি গলায় ঢেলে দিল শন! “ষাড়ের দৌড় আর-জাম্বো পুঁতো খেলেও এবারে! ওই টুডি সামালকে মেরি মা।”
হাতে সার্জিক্যাল টেপ নিয়ে থেমে গেল স্টুডি। হেসে শনের ঠোঁটে কিস্ করল।
“চুপ করে বসে থাকো। আমি সব ঠিক করে দেব।”
“হুম, এ কাজে তো তুমি দক্ষ।” স্বীকার করল শন। টেপ বাড়িয়ে দিল কিং-সাইজ বেড়ে। শনের পিছনে বসে থাকা এরিকার দিকে।
“আর কোনো গুঁতোগুতি করা চলবে না।” তীব্র শব্দে হেসে ফেলল এরিকা। আরেক হাতের নিচ দিয়ে টেপ চলে এলো ট্রডির কাছে।
আবারো হাসতে লাগলেন অটো হায়দার। “তুমি কী এভাবেই পড়ে থাকবে? আর দুই মাদী শিয়ালকে কে সামলাবে? আমি একা?” শন তার বহুদিনের পুরোন দোস্ত। চারজন মিলে-অটো, স্টুডি, এরিকা আর শন-শুধু শিকারই করে না আরো অনেক বেশি মজা করে।
