“থাক, এখন বেশ ভালো লাগছে।” পড়ে থাকা চেয়ার সরিয়ে মুঠি পাকিয়ে ভাইয়ের দিকে দৌড়ে গেল শন।
“শন” এতক্ষণে হুশ ফিরে পেল বেলা। “স্টপ ইট, শন! ওকে ছেড়ে দাও!” ভাইদের মারামারি থামাতে দৌড়ে গেল বেলা, কিন্তু হাত ধরে ওকে থামালেন শাসা। মুক্তি পাবার জন্য ছটফট শুরু করল বেলা।
বসে থেকেই নিজেকে সালমাতে চাইল গ্যারি। নাক টেনে চেষ্টা করল রক্ত পড়া থামাতে; হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে উপরের ঠোঁট মুছে চোখের সামনে এনে ভালোভাবেই তাকাতেই অবিশ্বাসে হা হয়ে গেল চোখ।
“উঠে এসো, বেকুব কোথাকার।” গ্যারি’র সামনে গিয়ে দাঁড়াল শন।” উঠে দাঁড়াও।”
“ওকে ছাড়ো শন, প্লিজ।” ওর অত্যন্ত প্রিয় দু’জন মানুষ এমনভাবে মারামারি করছে দেখে ভয় পেয়ে গেল বেলা, “স্টপ ইট! স্টপ প্লিজ।”
“চুপ করো, বেলা! মেয়ের হাত ধরে ঝাঁকি দিলেন শাসা, “ওদেরকেই সামলাতে দাও।”
ধুলার মাঝে বসে বড়সড় সেন্ট বানার্ড ডগের মতো নিজেকের ঝাঁকি দিল গ্যারি।
“কাম অন, মিঃ ব্লাডি চেয়ারম্যান অব দ্য বোর্ড।” ভর্ৎসনা করে উঠল শন। “চলো, তোমার স্টাইল দেখাও মিঃ ফরচুন ম্যাগাজিন ৫০০।”
“ওদেরকে ওদের মতো থাকতে দাও, বেলা।” এখনো হাত ধরে রেখেছেন শাসা, “বিশ বছর ধরে জমানো রাগ এবারে বেরিয়ে আসছে। ওরাই মিটিয়ে ফেলবে।” হঠাৎ করেই সবকিছু বুঝতে পারল বেলা। সারা জীবনের জমানো রাগ উগরে দিচ্ছে শন।
প্রথম সন্তান হিসেবে সমস্ত সম্মান আর পদবী ওরই প্রাপ্য ছিল। কিন্তু শন্ কিছুই পায়নি।
“পিস্-বেড” বলে উঠল-শন,”
“ফোর আইজ।” ছোট্টবেলায় এসব বলে গ্যারি’কে অপমান করা হত। বড় ভাই হওয়াতে সবসময় গ্যারি’কে দিয়ে বিভিন্ন কাজ করাত শন্। শীতকালে ঘুম থেকে টেনে তুলে টয়লেটে পাঠিয়ে দিত ওর জন্য সিটটাকে গরম করে তোলার জন্য; সবকিছু মনে করল বেলা। মনে পড়ে গেল এরকম আরো হাজারো অজুহাত যার মাধ্যমে গ্যারি’কে অপমান করত শন্।
উঠে দাঁড়াল গ্যারি। বিশ বছর পরিশ্রম আর সাধনা করে সারিয়ে তুলেছে নিজের দুর্বল শরীর। গড়ে তুলেছে পেশি বহুল বুক আর মনোভাব। তারপরেও দাঁড়াবার পর দেখা গেল বড় ভাইয়ের চেয়ে অন্তত ইঞ্চি চারেক খাটো।
“এটাই” আস্তে করে বলে উঠল গ্যারি,” শেষবার। এরপর এরকম আর হবে না, বুঝেছ?”।
“না” মাথা নাড়ল শন্। “আমি কিছুই বুঝিনি বিছানায় মুতুকারী। আমাকে বোঝাও।”
টয়োটা থেকে নেমে শনে’র পিছু পিছু এলো তার জার্মান ক্লায়েন্ট আর সুন্দরী নার্স দু’জন। বোঝা গেল বেশ মজা পাচ্ছে।
চশমা ছাড়া, পেঁচার মতো চোখ পিটপিট করে উঠল গ্যারি। কিন্তু চোয়ালের সাথে দাঁতগুলো এত জোরে আটকে ধরল যে কানের নিচে ওয়ালনাটের মতো ফুলে উঠল পেশি। সুখে হাসি নিয়ে আগে বাড়ল শন্ এগিয়ে এলো গ্যারি।
মদ্দা ষাঁড়ের মতই দ্রুত এগিয়ে এলো নিজের ভারী শরীর নিয়ে; কিন্তু চিতাবাঘের মতো ক্ষিপ্র শন্। গ্যারি’র পেটের বামদিকে দিল গুঁতো। যুদ্ধ ট্যাংকের গায়ে যেন ইট ছোঁড়া হলো। একচুলও নড়ল না গ্যারি। কাঁধ ঝাঁকিয়ে আবার ছুটে এলো।
ঠোঁটে গা জ্বলানো হাসি নিয়ে ওর সামনে লাফাচ্ছে শন। গ্যারি’কে কাছে এগিয়ে আসার সুযোগ দিয়ে কেবল তো মেরে যাচ্ছে।
কিচকিচ করে উঠল জার্মান নাসদ্বয়। রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এসেছে ক্যাম্পের ভৃত্যেরা। চোখ বড় বড় করে দেখছে সবকিছু।
“ওদেরকে থামাও। ড্যাডি।” ইসাবেলা’র আকুতি কানেই তুললেন না শাসা। যেরকমটা হবেন ভেবেছিলেন সবকিছু সেভাবেই এগোচ্ছে।
প্রতিবার পাঞ্চ মেরে দর্শকদেরকে দেখে নিচ্ছে শন্। বিশেষ করে নার্সদেরকে। নিজের স্টাইল নিয়েও বেশ সচেতন।
অন্যদিকে, গ্যারি বাঁচিয়ে চলছে ওই ভয়ংকর ঘুসিগুলো। কিন্তু ওর মাথায় কিছুতেই আঘাত করতে পারছে না শন। পেশি বহুল কাঁধ দিয়ে প্রতিবার ওকে ঠেকিয়ে দিচ্ছে গ্যারি।
একই সাথে দ্রুত নিজের হাতও চালাচ্ছে। মাথা বরাবর এগিয়ে আসা শনের বেশ কিছু ঘুসি বাইসেপে আটকে গেল।
প্রথমে মনে হচ্ছিল গ্যারি বুঝি এমনি এমনিই তেড়ে আসছে। কিন্তু একটু পরে শাসা খেয়াল করলেন যে শন’কে দেয়ালের দিকে কোণঠাসা করে ফেলছে গ্যারি। শন্ সরে গেলেও ধৈর্য ধরে ঠিকই নিজের কাজ করে যাচ্ছে গ্যারি। নাকের রক্ত মুখ বেয়ে গড়িয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে খাকি শার্ট।
এবারে মুছে গেল শনের হাসি; তিরস্কারের ধারও কমে গেছে। অন্যদিকে একই ছন্দে ও’কে ক্রমাগত পেছন দিকে ঠেলছে গ্যারি। দিকবিদিক জ্ঞানশূন্যের মতো করে ঘুসি ছুড়ছে শন। এতক্ষণে গ্যারির চাল ধরতে পেরে গোত্তা খেয়ে ডান দিকে সরে যেতে চাইল। কিন্তু পথ আটকে দিল গ্যারি। নিচু হয়ে গ্যারি’র হাতের নিচে দিয়ে বের হয়ে যেতে চাইল শন; কিন্তু এবারে ঘুষি মেরে বসল গ্যারি।
দম বদ্ধ করে তাকিয়ে রইল সমস্ত দর্শক। দু’শ পাউন্ড ওজনের পেশি হাড় আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে বজ্রকঠিন আঘাত করল গ্যারি। বাতাসে শিস কেটে গিয়ে আঘাত লাগল শনে’র চুল ছাড়িয়ে মাথার খুলিতে।
এক মুহূর্তের জন্য যেন অন্ধ হয়ে গেল শন। হাঁটু দুটো কাঁপতে শুরু করল। কোন মতে সামলালেও মুখে ব্যথা ফুটে উঠে আতঙ্কও দেখা দিল। ভালুকের মতো ওর দিকে তেড়ে আসছে গ্যারি।
এতক্ষণ ধরে এর অপেক্ষাতেই ছিল গ্যারি। পুরোন বন্ধুর মতো দুহাত ছড়িয়ে এগোলেও সবাইকে বিশেষ করে শন’কে বোকা বানিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রচণ্ড জোরে লাথি মেরে বসল। ঠিক যেমন করে শিকার ধরতে এগিয়ে যায় মদ্দা ষাড়।
