স্নান সেরে, তরতাজা হয়ে ক্যাম্প ফায়ারের কাছে এসে বসল পুরো পরিবার। হাতঘড়ির দিকে তাকালেন শাসা।
“এক পেগের জন্যে কি বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে গেল নাকি?”
“কী যেন বলো না। আমরা তো ছুটিতে এসেছি।” বারম্যান’কে ডেকে অর্ডার দিল গ্যারি।
ঠাণ্ডা হোয়াইট ওয়াইনে চুমুক দিল ইসাবেলা। গত দু’বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মনে হলো কেমন যেন নিরাপদ মনে হচ্ছে নিজেকে বেশ শান্তি শান্তিও লাগছে। কেবল মাইকেল’কে মিস করছে। অন্যদিকে বাবা আর গ্যারি মিলে শনে’র ক্লায়েন্টের কথা আলোচনা করছে। জার্মান ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অটো হায়দার।
“শনের চেয়ে বছর বিশেকের বড় হলেও দুজনে যেন হরিহর আত্ম; একসাথে যে তারা কী করে, গড।” বলে উঠলেন শাসা, “বিপদের গন্ধ এতটাই ভালবাসে লোকটা যে শন ছাড়া আর কারো সাথেই শিকার করতে চায় না।”
“আমি স্পেশাল সার্ভিসকে দিয়ে ওর উপর পুরো রিপোর্ট তৈরি করেছি।” মাথা নাড়ল গ্যারি। কোম্পানির সিকিউরিটি থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এসপিওনাজ পর্যন্ত সমস্ত কিছুর দেখভাল করে এই ইন্টিলিজেন্স সিস্টেম। “অটো হায়দারের সম্পত্তির বিবরণ চার পাতা ছাড়িয়ে গেলেও লোকটা বেশ বুনো প্রকৃতির। আমার মনে হয় আর্থিকভাবে উনার সাথে জড়িয়ে পড়াটা ঠিক হবে না।”
“আমারও তাই মনে হয় মাথা নাড়লেন শাসা। “কিন্তু লোকটা বেশ ইন্টারেস্টিং। জানো উনি সাথে করে ব্লান্ড-ব্যাংক ও নিয়ে আসেন; যদি হাতি পাড়া দেয় কিংবা ষাঁড়ের গুঁতো খান!”
“এটা তো জানি না।” ক্যাম্প চেয়ারের সামনে ঝুঁকে এলো গ্যারি।
হেসে ফেললেন শাসা, “সেল্ফ অ্যাডমিনিস্টারিং ট্রান্সফিউশনস্।”
“মানে? ইসাবেলা’ও এবারে আগ্রহী হয়ে উঠল।
“সাথে দু’জন কোয়ালিফায়েড নার্স নিয়ে আসেন। দুজনেই যথেষ্ট সুন্দরী বয়স পঁচিশ আর রক্তের গ্রুপ এবি পজিটিভ। রক্ত লাগলেই দু’জনের কাছ থেকে নেবার পাশাপাশি সেবাও পাওয়া যাবে।”
“আর রক্ত যদি নাও লাগে সাফারি’তে ওদের সঙ্গ’ও মন্দ হবে না।”
“ইউ আর ডিসগ্যাস্টিং, গ্যারি।” গ্যারির মন্তব্য শুনে হেসে ফেলল বেলা।
“আমি! ওই ব্যাটা অটো’র বুদ্ধি দেখেছ; আমার মনে হয় ওর সাথে ব্যবসা খারাপ হবে না।”
“বাদ দাও। সকালেই নার্সদেরকে নিয়ে চলে যাবেন অটো। আমাদের আসল ক্লায়েন্ট আসবেন কাল দুপুরবেলা। শন্ অটো’কে সালিশ ব্যুরিতে নামিয়ে দিয়ে উনাকে নিয়ে ফিরবেন” হঠাৎ করে কথা থামিয়ে ক্যাম্পের সামনের অংশে তাকালেন শাসা।
“শনের ট্রাকের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, ওই তো ও আসছে।”
মাইল খানেক দূর থেকে খোলা প্রান্তরের উপর দিয়ে এগিয়ে আসছে হান্টিং ভেহিকেল।
“মাস্টার শনের তো মনে হচ্ছে বেশ তাড়া আছে।”
গর্জনের মতো শোনা গেল ট্রাকের ইঞ্জিনের আওয়াজ। পানি খেতে আসা জন্তুগুলো ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল।
কাছে এগিয়ে আসতেই খোলা টয়েটার আরোহীদেকে স্পষ্ট দেখা গেল। ইঞ্জিনে বনেটের উপর ফেলে রাখা হয়েছে উইন্ডস্ক্রিন। পেছনের উঁচু আসনে বসে আছে চারজন। শনের কৃষাঙ্গ দুই টাকার আর দু’জন শ্বেতাঙ্গ নারী। এরাই হয়তো জার্মান নার্স, ভাবল ইসাবেলা।
সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে বসে আছেন মধ্য বয়স্ক এক পুরুষ। চোখে গোল্ড রিমের চশমা। ইনিই নিশ্চয়ই অটো।
হুইলে বসে থাকা শন’কে দেখে ক্যাম্প চেয়ার ছেড়ে দৌড় দিল ইসাবেলা।
বুশ শার্ট পরিহিত শনের অনাবৃত বাহুদ্বয় একেবারে তেল চকচক করছে, পেশি আর স্বাস্থ্যের আভায়। কাধ পর্যন্ত লম্বা চুল।
দ্রুত জোরে ব্রেক কষল যে গাড়ির পেছন পেছন উড়ে আসা ধূলিঝড়ের মাঝখানে থেমে গেল হেভি ভেহিকেল। লাফিয়ে নেমেই ওদের দিকে দৌড়ে এলো শন। পরনে থাই পর্যন্ত লম্বা খাকি শর্টস আর মোজা বিহীন চামড়ার জুতা।
“শন?” ভাইকে দেখে আনন্দে চিৎকার করে উঠল বেলা। কিন্তু চোখে মুখে ভয়ংকর একটা ভাব নিয়ে বোন’কে এড়িয়ে চলে গেল শন। হা হয়ে তাকিয়ে রইল বেলা।
একই ভাবে বাবাকেও ছাড়িয়ে গিয়ে দাঁড়ালো ছোট ভাইয়ের সামনে।
“নিজেকে কী ভাবো তুমি। বলোতো?” শীতল ক্রোধ নিয়ে জানতে চাইল শন; মুছে গেল গ্যারি’র হাসি।
“তোমাকে দেখে খুশিই হয়েছি।” আস্তে করে জানালো গ্যারি।
কিন্তু সামনে এগিয়ে গ্যারির শার্ট চেপে ধরল শন। ঝাঁকি দিতেই ক্যানভাস চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল গ্যারি।
“শোন তাহলে” হিসহিস করে উঠল শন, “পুরো সিজনে দেখা সবচেয়ে সুদর্শন মদ্দাটার পেছনে আমি চারদিন ধরে ঘুরে মরছি। অথচ তুমি এসে সব ভণ্ডুল করে দিলে!”
“দেখ, শন্ আমি তো…”গ্যারি চাইল ভাইকে শান্ত করতে; কিন্তু কিছুই শুনছে না শন।
“ধুত্তোরি, কাকে মুগ্ধ করতে চাও, অ্যাঁ?”
“শন” হাত বাড়িয়ে দিল- গ্যারি,
বুঝতে চেষ্টা করো, আমি তো জানতাম না যে এমন হবে।”
“বুঝতে চেষ্টা করব? আমার সবকিছু ভেস্তে দিয়েছ আর শান্ত হবো? আমার ক্লায়েন্টকে চটিয়ে সাফারির শেষ সুযোগটাকে হারিয়ে ঠাণ্ডা হবো?”
“বলেছি তো আমি দুঃখিত।”
“যদি এখনি সরি হও, তাহলে আগামী পাঁচ মিনিটে কেমন দশা হবে” বলে উঠল শন। বাম হাত দিয়ে পেছন দিকে ধাক্কা দিল গ্যারি’কে, কিন্তু গ্যারি নিজেকে সামলাতেই আবার চড়াও হল শন।
পাঁচ ইঞ্চি দূর থেকে শনের ঘুষি খেয়ে গ্যারি’র দাঁতে দাঁতু ঠেকে গেল। পেছনে হেলে যেতেই চোখ থেকে খসে পড়ল চশমা। ক্যাম্প চেয়ারে হাঁটু গেথে ধপাস করে পেছন দিকে পড়ে গেল গ্যারি।
