“তোমার কুকুর ছানার নাম কী?”
“জুলাই ছাব্বিশ।”
“এটা তো বেশ অদ্ভুত নাম। কেন এই নামে ডাকো?”
মায়ের অজ্ঞতা দেখে অবাক হয়ে গেল নিকি। “জুলাই ছাব্বিশেই তো বিপ্লব শুরু হয়েছিল। সবাই জানে।”
“ওহ্, আচ্ছা তাই তো। আমি কী বোকা।”
“আমি অবশ্য শুধু ছাব্বিশ ডাকি।” শিষ বাজাতেই দৌড়ে এলো নিক্রি ছাব্বিশ। “সিট” হ্যান্ড শেক কর।”
একটা পা তুলে এগিয়ে দিল ছাবিশ।
“তোমার ছাব্বিশ তো বেশ চালাক। ভালই ট্রেনিং দিয়েছ।”
“হ্যাঁ।” শান্ত স্বরে মেনে নিল নিকি। “ও হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে চালাক কুকুর।”
“মাই বেবি।” আপন মনে ভাবল বেলা, “ওরা তোমার কী হাল করেছে? ছোট্ট মনটার উপর কতটা ছাপা ফেলেছে যে ভয়ংকর কোনো এক রাজনৈতিক ঘটনার নামে নিজের কুকুরের নামে রেখেছ?” নিকোলাস কোন বিপ্লবের কথা বলছে বুঝতে না পারলেও বেলা’র চোখে মুখে ফুটে উঠল নিদারুণ যন্ত্রণা। বিস্মিত নিকি তাই জানতে চাইল, “তুমি ঠিক আছে, মাম্মা?”
“ওহ! হ্যাঁ, ঠিক আছি।”
“চলো আদ্রার কাছে নিয়ে যাই।” হাঁটতে গিয়ে ছেলের হাত ধরতে চাইল বেলা; কিন্তু আস্তে করে সরিয়ে নিল নিকি।
“তুমি যে সকার বল দিয়েছিলে, সেটা এখনো আমার কাছে আছে।” বেলা’কে প্রবোধ দিতে চাইল নিকি। আবারো তাকে ছেলের সাথে ভাব করার জন্য শুরু থেকে চেষ্টা করতে হবে ভাবতেই ভিজে উঠল চোখ।
“আমাকে সবকিছু সহজভাবেই নিতে হবে।” নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল বেলা। “ওকে বেশি চাপ দেয়া যাবে না।”
বেলার কোনো ধারণাই ছিল না যে ছেলেকে কমব্যাট পোশাকে দেখবে। এক চোখের উপর হেলানো টুপি আর বেল্টে পোড়া বুড়ো আঙুল নিয়ে নিকি চাইল মায়ের মনোযোগ পেতে। নিজের মানোঃকষ্ট লুকিয়ে রেখে তাই মাঝে মাঝেই প্রশংসা করতে বাধ্য হলো বেলা।
সাথে করে এমন কিছু বই নিয়ে এসেছে যা নিকোলাসের বয়সী ছেলেরা পছন্দ করে। ভাগ্য ভালো এর মাঝে ফক অব দ্য বুশভেল্ড আছে; একজন লোক আর তার পোষা কুকুর নিয়ে রচিত আফ্রিকান ক্লাসিক।
মলাটের ছবিটা দেখে সাথে সাথে খুশি হয়ে গেল নিকি। কাহিনী সহজভাবে লেখা হলেও বেশ সুন্দর। আর নিকোলাসের মেধা দেখে অবাক হয় বেলা। একটা কি দুটো অপরিচিত শব্দ বাদে একাই পড়ে ফেলল পুরো গল্প।
এরপর আদ্রা এসে ওকে ঘুমাতে নিয়ে যাবার মাঝেই আবারো বেশ অন্তরঙ্গ হয়ে উঠল দু’জন।
গুডনাইট জানিয়ে মায়ের সাথে হাত মেলাতে এসে আচমকা বলে উঠল নিকি : “গল্পটা বেশ ভালো। জা দ্য ডগ’মে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আর তুমি আসাতেও ভালো লাগছে। তাই স্কুলে না গেলেও কোনো ক্ষতি নেই।” নিজের বক্তব্যে নিজেই লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি রুম থেকে চলে গেল ছোট্ট বুড়া।
নিকি’র বেডরুমের আলো নিভে যেতেই আদ্রা’র খোঁজে বের হলো বেলা। জানতে ইচ্ছে করছে রামোন কোথায়, নিকি’কে অপহরণের ব্যাপারে ওর ভূমিকাটাই বা কতটা ছিল।
রান্নাঘরে ডিনারের ডিশগুলো ধুতে ব্যস্ত আদ্রা বেলা’কে দেখেই একেবারে চুপ মেরে গেল। এক শব্দে ইসাবেলার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেও চোখের দিকে তাকাচ্ছে না। চেষ্টা ছেড়ে তাই নিজের ঘরে চলে এলো বেলা।
ভ্রমণের ক্লান্তি সত্ত্বেও আরাম করে ঘুমোল। ভোরবেলা তাড়াতাড়ি উঠে গেল পুত্রের সঙ্গ পাবার জন্য। তবে সারাদিন ছাব্বিশ’কে নিয়ে সৈকতেই কাটিয়ে দিল দু’জন। ব্যাগ ভর্তি উপহারের মধ্যে নিকোলাস একটা টেনিস বল পেয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এটা নিয়ে আনন্দ করল নিকি আর টুয়েন্টি-সিক্স।
এরপর রীফে সাঁতার কাটল দুজনে মিলে; মা’কে কোরালের গর্ত থেকে সী-ক্যাট বের করে আনার কৌশল দেখাল নিকি। ছোট ছোট অক্টোপাসগুলোকে নিয়ে মায়ের ভয় দেখে হেসে বাঁচেনা নিকি।
“আদ্রা। ডিনারে রান্না করে দেবে, কোন সমস্যা নেই।” প্রমিজ করল। নিকোলাস।
“তুমি আদ্রা’কে বেশ ভালোবাসো, তাই না? জানতে চাইল বেলা।
“অবশ্যই। আদ্রা তো আমার মা।” কী বলেছে বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিল নিকি মানে তুমি আমার মাম্মা; কিন্তু আদ্রা’ই তো আমার আসল মা।”
বেলা’র ইচ্ছে হল চিৎকার করে কেঁদে উঠে।
দ্বিতীয় দিন বাইরে ভোরের আলো না ফোঁটার আগেই ওর ঘরে এসে ঘুম থেকে ডেকে তুলল নিকি। “চলো, আমরা মাছ ধরতে যাবো। জোসে আমাদেরকে বোটে করে নিয়ে যাবে।”
আসার সময়ই ক্যাম্পের গার্ডদের মাঝে জোসে’কে দেখেছে বেলা। মনে হচ্ছে নিকি’র সাথে এই কৃষাঙ্গ তরুণের বেশ ভাব। নৌকা আর ফিশিং লাইন ঠিক করার সময় গল্পে মেতে উঠল দু’জন।
“তুমি ওকে পেলে কেন ডাকো?’ স্প্যানিশ জোসে’কে কে জিজ্ঞেস করল বেলা; কিন্তু উত্তর দিল নিকি।
“কারণ স্কুলে আমিই হচ্ছি সকার প্লেয়ার চ্যাম্পিয়ন, তাই না জোসে?”
সেদিন সন্ধ্যায় একসাথে বসে ফকের আরেকটা চ্যাপ্টার পড়ল নিকি আর বেলা।
নিকোলাস ঘুমিয়ে পড়ার পর আবারো আদ্রার সাথে কথা বলার চেষ্টা করল বেলা; কিন্তু চেষ্টাই সার; কোনো লাভ হলো না। কিন্তু রান্নাঘর থেকে চলে আসার সময় অন্ধকারে ওর পিছু নিল আদ্রা। তারপর আচমকা হাত ধরে প্রায় বেলা’র কানের কাছে বলে উঠল, “আমি আপনার সাথে কথা বলতে পারব না; ওরা সবসময় নজর রাখছে।”
বেলা কিছু বোঝার আগেই আবারো রান্নাঘরে ফিরে গেল আদ্রা।
সকালবেলা নিকোলাসের কাছ থেকে আরেকটা সারপ্রাইজ পাওয়া গেল। সৈকতে ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল জ্যোসে। নিকি বলা মাত্রই ওর হাতে অস্ত্র তুলে দিল। দ্রুত আর দক্ষ হাতে একে এমে’র সবকটি অংশ খুলে নিল নিকি।
