ক্যাম্পে আসা লোকজন সবাই মনোযোগ দিয়ে নিলাম ডাকা দেখছিল, কেউ খাচ্ছিল, কেউ পাইপ টানছিল।
কিন্তু একজন নাবিক নিলাম-এর দিকে তাকিয়ে ছিল না। সে প্রিন্স-এর ঘেরাও করা জায়গার দিকে তাকিয়ে ছিল। বুজার্ড যখন সামনে এগিয়ে এসে তার মাথা নাড়াল, তখন সেই নাবিকটি তার পাইপে লম্বা টান দিয়ে একটা কাগজে আগুন ধরিয়ে দিল।
এরপর লোকটা সেই আগুন গান পাউডার-এর লাইনে ধরিয়ে দেয়। তারপর যা হওয়ার তাই হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিৎকার শোনা যায়। আগুন! বাঁচাও! আগুন।
বিক্রি এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু নিলামদার শেষ দর-এর জন্য অপেক্ষা করল না। সে জুডিথকে টেনে স্টেজ থেকে নামিয়ে পেছনের দিকে একটা ঘরে নিয়ে গেল।
মুখোশ পরা লোকটা সেখানে অপেক্ষা করছিল। “আমি একে নিয়ে যাচ্ছি,” সে বলল।
নিলামদার অনেকটা দোটানার মধ্যে পড়ে যায়। তার বিশ্বাসভাজন লোকেরা মুখোশ পরা লোকটাকে দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে। “কিন্তু আমার টাকা,” নিলামদার মুখোশ পরা লোকটাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে বলল। “আমাকে বলা হয়েছিল যে এই দাস কোনোভাবেই বিক্রি করা যাবে না। আর আমাকে এর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কমিশনও দেয়ার কথা ছিল।”
“কাল সকালে প্রাসাদে যেও, তুমি তোমার কমিশন পাবে। কিন্তু এখন আমি একে নিয়ে যাচ্ছি,” বুজার্ড বলল। এরপর সে জুডিথ-এর গলায় বাধা দড়ি ধরে টান দিয়ে বলল, “তুমি যদি স্বাভাবিক মানুষের মতো দৌড়ে আমার সাথে যেতে না চাও তবে আমি তোমাকে এটা ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাব।”
জুডিথ বাইরে এলোমেলোভাবে ছুটে পালানো লোকজনের চিৎকার শুনতে পেল। “তুমি কী আমাকে প্রাসাদে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছ?” সে জিজ্ঞেস করল।
বুজার্ড মাথা নাড়াল। জুডিথ বুজার্ড-এর পেছন পেছন দৌড়ে ভিড় থেকে পালিয়ে বাইরে চলে আসলো। ওখানে এসে দেখল, প্রিন্স-এর বাহন বাইরে অপেক্ষা করছে। “উঠে বস,” বুজার্ড বলল। “কেউ যদি দেখতে না পায় তবে আপনি নিরাপদ থাকবেন।”
জুডিথকে যেমনটা বলা হলো, তেমনটাই করল সে। আগুন লাগার পূর্বেই জুডিথ-এর মনে অদ্ভুত একটা দুশ্চিন্তা কাজ করছিল। এখানে অনেক রকম মানুষ সমবেত হয়েছে। তাই অনেক রকম লোভ-লালসা এবং প্রতিহিংসাও একত্রিত হয়েছে। সে অনেকটা সময় ধরে সৈন্যদের মাঝে কাটিয়েছে। সে জানে যেকোনো মুহূর্তে এসব উপাদান বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
“ঈশ্বর, হালকে নিরাপদে রেখ, সে প্রার্থনা করতে থাকল। যদি সে নিরাপদে থাকে এবং আমি প্রিন্স এর প্রাসাদে ফিরে যাই তাহলে হয়ত আমরা মিলিত হব না। কিন্তু তারপরও একটা আশা থেকে যাবে।
বাহনে উঠে বসার পর সে খেয়াল করল যে, এখনো তার হাত পেছনে বাধা। এমনকি গলায়ও রশিটা বাধা আছে। প্রিন্স এর বন্দি থাকা অবস্থায় কখনো তার সাথে এমনটা করা হয়নি। তাহলে কেন বুজার্ড তার সাথে এমনটা করছে এখন?
বুজার্ড দেখতে পেল যে জুডিথ পেছনে উঠে বসেছে। সে তার দাসটাকেও পেছনের সিটে বসতে বলল। এরপর সে হেঁটে বাহনের সামনে এসে ডাইভারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। “তুমি কী আমাকে উঠতে সাহায্য করবে? সে ড্রাইভারেরর পাশের সিটের দিকে ইশারা করে বলল।”
ড্রাইভার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বুজার্ডকে টেনে তোলার চেষ্টা করল।
বুজার্ড লোকটির হাত শক্তভাবে ধরে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে নিচের দিকে টান দিল। চালকটি তার আসন ছেড়ে মাটিতে পড়তে শুরু করল।
চালকটি যখন নিচে পড়ে গেল তখন বুজার্ড তার তলোয়ারটি লোকটির গলায় বসিয়ে শক্তভাবে টান দিল। লোকটি যখন রক্তশূন্য হয়ে মারা যেতে শুরু করল তখন বুজার্ড কোনোভাবে ড্রাইভারের আসনে উঠে বসলো। সে তার তিন আঙুলবিশিষ্ট একমাত্র হাতটি দিয়ে ঘোড়ার লাগাম ধরে শক্তভাবে টান দিল। প্রাণী দুটো তার কণ্ঠের তীব্রতা বুঝতে পেরে বাহনটাকে সর্বোচ্চ বেগে রাস্তা বরাবর ছুটিয়ে নিয়ে গেল।
যেখান থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়েছিল তার কাছাকাছিই ছিল গ্রে’র অবস্থান। তাই যারা প্রথম এলার্ম শুনতে পেয়েছিল, তাদের মধ্যে সে একজন।
গার্ডদের ক্যাপ্টেন-এর প্রধান দায়িত্ব প্রিন্স-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার মালিককে বাহন-এ উঠিয়ে প্রাসাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা নিশ্চিত করার পর এদিকে কী ঘটেছে সেটা দেখার জন্য সে আবারও নিলাম-এর বাজারে ফিরে আসলো। কয়েক মিনিট পরে গ্রে তাকে খুঁজে পায়। প্রিন্স নিরাপদে পৌঁছেছে কি-না এটা জিজ্ঞেস করার পর সে তার আসল দুশ্চিন্তা সম্পর্কে জানতে চাইলো। “তোমরা কী কার্টনিকে খুঁজে পেয়েছ?”
ক্যাপ্টেন না-সূচক মাথা নাড়াল, “না,” “আপনি যেখানে বলেছেন আমার লোকেরা সে জায়গার দিকেই যাচ্ছিল। ঠিক তখনই আগুন ধরে গেল। এরপর তারা সেখানে পৌঁছে আর কার্টনিকে খুঁজে পায়নি।”
“তাহলে, সে নিশ্চয়ই লোকজনের সাথে এখান থেকে পালিয়ে গিয়েছে।”
গার্ড ক্যাপ্টেন মাথা নাড়ায়। “না, আমার লোকেরা সেদিকে নজর রেখেছে। লোকজন যখন বেরিয়ে রাস্তায় পৌঁছেছে আমার লোকেরা সেখানেও এল তাজারকে খুঁজে পায়নি।”
“তাহলে আমি তাকে খুঁজে বের করব।” কনসাল গ্রে বলল। সেই সাথে সে মনে মনে আরো বলল, “আমার নিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।”
বাহনটা ঠকঠক করে যেতে যেতে একসময় থেমে গেল। বুজার্ড চালকের আসন থেকে নেমে এসে পেছনের দরজা খুলে সামনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠল, “বেরিয়ে আসুন।”
