জুডিথ ভ্রুকুঁচকে তাকাল। বুজার্ড সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় যদিও বাইরের অংশটা পুরোপুরি দেখতে পাচ্ছে না। তবুও তার মনে হলো যে এটা প্রিন্স-এর প্রাসাদ নয়।”
“আমি কোথায়?” সে জিজ্ঞেস করল। বুজার্ড উত্তর দিল না। তার পরিবর্তে শুধু বলল, “একে ধর।”
সে সামনে থেকে সরে গেলে সেখানে দুজন লোক এসে হাজির হলো। একজন আফ্রিকান এবং একজন সাদা চামড়ার লোক পূর্বেই সেখানে দাঁড়িয়ে। ছিল। তারা জুডিথ-এর দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। জুডিথ ভয়ে পিছিয়ে গিয়ে অন্যপাশের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে চেষ্টা করল।
কিন্তু ঐপাশেও সে অন্য একজন লোকের বাহুতে গিয়ে পড়ল। লোকটি তাকে শক্তভাবে ধরে রেখেছে। এরপর এমনভাবে জুডিথকে কাঁধের ওপর তুলে ফেলল যেন জুডিথ স্রেফ ছোট্ট শিশু। এরপর সে জুডিথকে নিয়ে দ্রুত দৌড়াতে থাকে। ছোট পাথর বসানো পথ দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সে পানির ধারে পৌঁছে যায়। এরপর পানির ওপর বসানো কতগুলো পাতলা নৌকোর ওপর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যেতে থাকে লোকটা। যখন তারা লংবোট-এ গিয়ে পৌঁছে তখন দ্রুত লংবোট ছাড়ার আদেশ দেয় সে।
গ্রে তার নিজের বাড়িতে পৌঁছে তার চাকরদেরকে ডাক দেয়। তাদের হাতে কিছু নামের তালিকা ধরিয়ে দেয়। সেখানে সম্মানিত কার্পেট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অনেক ক্রিমিনালও রয়েছে। তাদেরকে বলে দেয় কোথায় এসব লোকদের পাওয়া যাবে। এরপর ওদেরকে রাস্তায় বেরিয়ে যেতে বলে। সে নিজেও বেরিয়ে পড়ে।
সে যেসব ধনী ব্যবসায়ী এবং ওমানী অভিজাত লোকদের সাথে কথা বলল তারা ক্যাপ্টেন কার্টনির ব্যাপারে খুব বেশি কিছু তথ্য দিতে পারল না। কিন্তু তার চাকরেরা ফিরে আসার পর তাদের মাঝে দু-একজন তাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সে কিছু নতুন নাম খুঁজে পেল এবং সেসব লোকদের ঠিকানায় খোঁজ নেয়া শুরু করে দিল। এরপর কনসাল গ্রে আবিষ্কার করল যে ক্যাপ্টেন কার্টনির সাথে কী ঘটেছে কিংবা অদূর ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে। আপনমনে কিছুক্ষণ চিন্তা করল সে। তার প্রত্যাশিত ফল পেতে হলে এখন কারো সাহায্যের প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে কেবল একজনই তাকে সাহায্য করতে পারে। একথা মনে আসা মাত্রই সে প্রিন্স জাহানের প্রাসাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল।
*
ধীরে-ধীরে চোখ খোলার চেষ্টা করল হাল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না সে। কথা বলার চেষ্টা করল, কিন্তু না, পারছে না। এরপর সে বুঝতে পারল যে তার মাথায় পট্টি বাঁধা এবং মুখটা কাপড় দিয়ে আটকানো আছে। সে তার পেছন দিকটা দেয়ালে ঠেকিয়ে মেঝেতে বসে আছে। তার হাত বাঁধা, গোড়ালিতে শেকল পরানো। এককথায় তাকে অসহায় জীবই বলা যায়।
যদিও সে শুনতে পাচ্ছে এবং গন্ধ শুঁকতে পারছে। এই দুটি ইন্দ্রিয়ই তাকে আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে বলে দিচ্ছে। কুকুরের ময়লা, আবর্জনা যুক্ত স্থানে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং একটু দূর থেকে সে একটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে।
হাল-এর ভয় হচ্ছে কুকুরটি যদি এসে তাকে আক্রমণ চালায় তবে তার কিছুই করার থাকবে না। কুকুরের চিৎকার-এর সাথে সাথে আরেকজন লোকের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। সে কুকুরটাকে থামানোর চেষ্টা করছে। লোকটার হাতে ধরা চাবুক দিয়ে সে বাতাসে আঘাত করছে-সেই শব্দও পাওয়া যাচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে সবকিছু নীরব হয়ে যায়, হাল-এর চিন্তা-ভাবনা তখন আশে পাশের জগৎ থেকে সেই লোকটির কাছে চলে যায় যে তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। রিভারস নিশ্চয়ই তার সাথে প্রতারণা করেছে। কিন্তু সেটার ব্যাখ্যা কী হতে পারে। এরপর তার স্মৃতি সেই পুরনো মুহূর্তটায় ফিরে যায়। সে পাশে তাকিয়ে দেখে যে ট্রোম্প তার পাশে নেই।
“আমি কি চরম বোকা। কেন আমি ব্যাপারটা বুঝলাম না? ট্রাম্প আমাকে রিভারস-এর কাছে নিয়ে গিয়েছে। তাদের দুজনের নিশ্চয়ই একত্রে কোনো পরিকল্পনা ছিল আমার বিরুদ্ধে, হাল মনে মনে ভাবতে লাগল।
ওদের দুজনের প্রতারণার কথা মনে করে হাল-এর পেটের ভেতর সবকিছু যেন মোচড় দিয়ে উঠছে। হাল যেখানে বসে আছে তার কিছু দূর থেকে সে লোকজনের অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে। লোকটির কথার সাথে সাথে চিৎকার এবং হৈ হুল্লোর-এর শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এক মুহূর্তের জন্য হাল-এর মনে হলো যে সে সম্ভবত এখনো নিলাম-এর বাজারে রয়েছে।
তাকে ব্লক-এর পেছনে আনা হয়েছে। কিন্তু কথাগুলো নিলাম-এর লোকগুলোর মতো মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে একটা আবদ্ধ জায়গায় কয়েকজন লোক কথা বলছে। এরপর গোলমাল আবার হঠাৎ করে বাড়তে থাকে। হাল-একটা দরজা খোলার শব্দ শুনতে পায়। কুকুরটি আবারও ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করেছে। এবার পূর্বের চেয়ে বেশি উচ্চস্বরে। সেই সাথে কুকরটির মালিকের ক্রমাগত চিৎকার এবং চাবুকের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু চাবির ঝনঝন আওয়াজ শুনতে পায় হাল। এরপর চাবির আওয়াজ আর কুকুর-এর ঘেউ ঘেউ শব্দ তার কাছ থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যেতে থাকে। কিন্তু তবুও সে কুকুরের শব্দ এবং চিৎকার আর হৈ হুল্লোর শুনতে পাচ্ছে।
ডগফাইট। হাল চিন্তা করল, কিন্তু আমি এখানে কী করছি? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার আগেই কেউ একজন হাল-এর বাহু খামচে ধরে তাকে দাঁড় করানোনার চেষ্টা করল। ওদেরকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করল হাল। ওদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সে পিছিয়ে গেল। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হলো না। লোকগুলো তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে হালকে ধরে রেখেছে।
