“আমি জাঞ্জিবার-এর নিয়ম না ভাঙার ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। সেকারণেই হয়ত আমি মুক্তভাবে সেখানে যেতে পারি। এছাড়া তুমি নিশ্চয়ই এটাও জান যে জাঞ্জিবার চলে তার নিজের নিয়মে। পৃথিবীর নিয়ম সেখানে খাটে না। জায়গাটা অনেকটা গ্র্যান্ড বাজারের মতো। তুমি সেখান থেকে যে-কোনো কিছু এমনকি যে কাউকে কিনতে পার। এই যে দেখ তুমি তোমার প্রিয় নারীকে সেখান থেকে কিনতে যাচ্ছ।”
“অথবা আমার হয়ে আপনি যাচ্ছেন।”
“কিন্তু কী কারণে আমি সেটা করতে যাব, যেখানে তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক বা চুক্তি নেই? আমার যদি কোনো লাভ না থাকে তাহলে আমি নিশ্চয়ই আমার নিজের চামড়ার ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাব না, তাই না?”
হাল তার সামনে বসা রিভারস-এর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। রিভারস নিমগ্নচিত্তে তার পাইপ টানছে। হাল জানে যে খুব অনুনয় করে কিংবা বেপরোয়া হয়ে এর কাছ থেকে কিছু আদায় করা যাবে না। তাকে শান্ত থাকতে হবে-যত নিষ্ঠুর সময়ের মধ্য দিয়েই সে সময় পার করুক না কেন।
“ট্রোম্প কী কখনো আপনাকে ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষ-এর ব্যবসা সম্পর্কে কিছু বলেছে?” হাল জিজ্ঞেস করল।
রিভারস মাথা নাড়ায়, “হ্যাঁ কিছুটা বলেছে। বলেছে যে ক্যাথলিকরা জেসাস কিংবা কুমারী ম্যারি সম্পর্কিত যেকোনো পুরনো রেলিক-এর জন্য অনেক মূল্য দেবে। একসময় আমি তার কথা বিশ্বাস করেছিলাম। ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষ দেখার জন্য কমপোস্টেলার আশেপাশে সমস্ত তীর্থস্থান আমি ঘুরে বেড়িয়েছি। কিছু রেলিক দেখে আমার কাছে শুকিয়ে যাওয়া মুরগির হাড়ের মতো মনে হয়েছে। এরকম ধ্বংসাবশেষ বিক্রি করে টাকা বানাতে হলে লোকজনকে বোকা বানাতে হবে। ট্রোম্প সেটা কখনোই পারবে না। আমাকেই সেটাতে হাত লাগাতে হবে।”
“আপনি এখনো সেটা পারেন, হাল বলল। “যখন ট্রোম্প আমার জাহাজ আক্রমণ করতে যায় তখন সে এবং তার লোকেরা অভুক্ত ছিল। বাতাভিয়া ছেড়ে আসার পর সঠিকভাবে সে তার জাহাজের লোকদের খাবার যোগাতে পারছিল না। কারণটা পরিষ্কার। সে তার সমস্ত টাকা-পয়সা ও সম্পদ সেসব ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষ তৈরি করতে নষ্ট করেছে। আমি যখন ডেফট পরিদর্শনে যাই তখন সেসব ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষসহ ব্যারেলগুলো খুঁজে পাই। কুমারী মেরীর অশ্রু, সত্যিকার ক্রসের টুকরা এমনকি জেসাস-এর সুন্নতে খানা করার সময় যে ফোরস্কিন বেঁচে গিয়েছিল সেটাও রয়েছে। আমি এইসব প্রতারণাপূর্ণ ব্যবসায় নিজেকে জড়াতে চাই না। কিন্তু আমি জানি ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকদের কাছে এসব জিনিসের অনেক মূল্য আছে। এসব জিনিস আমি আপনার হাতে তুলে দিতে রাজি আছি যদি আপনি আমার হয়ে জাঞ্জিবার-এর বাজারে যান।”
“তার মানে তুমি বলতে চাইছ, আমার কোনো নৈতিকতা নেই?”
“অত্যন্ত সম্মানের সাথেই বলছি, ক্যাপ্টেন রিভারস, আপনার অস্তিত্ব সেটাই প্রমাণ করে।”
“সম্মানের সাথে! যদিও তুমি তোমার পশ্চাৎদেশ দিয়ে কথাগুলো বলেছ, কিন্তু তুমি ঠিকই বলেছ। আমি বেশ খুশি হয়েই এসব ধ্বংসাবশেষ খ্রিস্টীয় যাজক সম্প্রদায়ের কাছে, তীর্থযাত্রীদের কাছে এমনকি সম্ভব হলে পোপ-এর কাছেও বিক্রি করব। আমি ক্যাথলিক-এ বিশ্বাসীদেরকে সম্মান করি একজন এনটিক্রিস্ট হিসেবে। অতএব, আমি আমার মতো করেই কাজটা করব।”
পার্লামেন্টের হয়ে আমি যুদ্ধ করেছি। আমি স্টুয়ার্টদের ঘৃণা করি একজন টাইরান্ট হিসেবে নয় বরং একজন প্যাপিস্ট হিসেবে। তাই আমি এসব ধ্বংসাবশেষ নে এবং বিক্রি করে আমার পুরস্কার আদায় করব। কিন্তু এসব ধ্বংসাবশেষই যথেষ্ট নয়।
“ট্রোম্প আমাকে নিশ্চিত করেছে যে এসবের মূল্য কয়েকশ এমনকি হাজার পাউন্ডও হতে পারে।”
“এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু আমার মাথার দাম এর চাইতেও বেশি।”
“তাহলে আপনার মাথার মূল্যায়ন করতে হলে আপনাকে কী পুরস্কার দিতে হবে?”
রিভারস তার পাইপ-এ মগ্ন হয়ে গভীরভাবে প্রশ্নটা নিয়ে চিন্তা করতে লাগল। এরপর পেছনে হেলান দিয়ে বসে রাতের আকাশে ধোয়া ছাড়ল কিছুক্ষণ। এরপর সে হাল-এর দিকে তাকিয়ে বলল, “ধ্বংসাবশেষগুলো আমি নেব। সেই সাথে তারা যে জাহাজে করে এসেছে সেটাও আমার চাই।”
“কিন্তু ডেফট-এর মূল্য অন্তত পাঁচ’শ গিনি হবে?”
“ডেফট-কে চুরি করে আনা হয়েছে তাই না?” তুমি তো আমাকে তা-ই বলেছ। ট্রোম্প তার সমস্ত টাকা-পয়সা এসব ধ্বংসাবশেষ তৈরি করতে খরচ করেছে। সে যদি খাবারই জোগাড় করতে না পারে তাহলে সে নিশ্চয়ই এরকম সুন্দর একটা জাহাজ কিনতে পারেনি, তাই না?”
“ট্রোম্প বোটটা কীভাবে পেয়েছে, সেটা তার ব্যাপার, আমার না।”
“ভাবো একবার। তুমি ডাচ্ নেভীদের জাহাজ দখল করেছ যখন কি-না ইংল্যান্ড এবং হল্যান্ড-এর মধ্যে শান্তি চুক্তি বিরাজ করছে। তোমাকে তো ডাকাতির জন্য ফাঁসিতে ঝুলানো হবে। বুঝতে পেরেছ?”
রিভারস-এর যুক্তিগুলো হাল বুঝতে পেরেছে, কিন্তু তার চাহিদা পূরণে হাল খুব একটা অগ্রসর হলো না। রিভারস যেন হাল-এর মনের কথা বুঝতে পেরেছে এমনভাবে বলতে থাকে, “শান্ত হও বালক।” আমি জানি তুমি ব্যাপারটা পছন্দ করছ না। একজন নাইট হয়ে আমার মতো একজন দস্যুর সাথে দর কষাকষি করাটা তোমার জন্য অসম্মানের। কিন্তু ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখ। তুমি সেসব ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষগুলো চাও না। আর জাহাজটা তুমি চাইলেও ব্যবহার করতে পারবে। আমি তোমার স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার বদলে এমন দুটো জিনিসই তোমাকে দিতে বলেছি যে দুটো জিনিস তঅমার কোনো কাজেই আসবে না। এখন চিন্তা করে দেখ ব্যাপারটা কী খুব একটা খারাপ হবে?”
