“হ্যাঁ, তুমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছ।” ক্যাপ্টেন রিভারস তার পাইপটা নিয়ে আবার বলতে শুরু করল, “আমি আজকে অনেক কঠিন একটা দিন পার করেছি। অনেক পরিশ্রম হয়েছে। এখন আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে। তুমি তোমার লোকদের জাহাজে ফিরে যেতে বল এবং আমি আমার লোকদের উপকূলে ফিরে যেতে বলব। কোনো রক্তারক্তি হবে না।” “যুবক কার্টনি তোমার ওপর কী এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে যে তুমি কোনো রকম মদপান করতে পারবে না?”
“আমি একজন নাইট, মুসলমান নই। আমি আপনার সঙ্গে যোগ দিতে রাজি আছি”, হাল কষ্ট করে তার মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে বলল।
“খুব ভাল। তাহলে সূর্য ডোবার পরে এখানে এসো। একা। এরপর আমরা কথা বলবো। এরপর তুমি আমাকে বলবে যে তুমি কেন এখানে এসেছে। কী চাও তুমি? এরপর আমি বলবো যে, তুমি সেটা পাবে, কী পাবে না।”
এরপর রিভারস তার তলোয়ারটা বালি থেকে তুলে কোমড়ের বাঁট-এ গুঁজে রাখল। এরপর আর একটাও কথা না বলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিচ ধরে হাঁটতে শুরু করে দিল।
টর্চলাইটগুলো বালির ওপরেই রাখা ছিল। টর্চের আলো রাতের অন্ধকার বিদীর্ণ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। হাল-এর ফ্লিন্টক দুটো লোড করা আছে এবং তলোয়ারটা ওর বট-এ রাখা আছে। ক্যাপ্টেন রিভারস-এর মনে যদি বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনোরকম ইচ্ছে থাকে তবে তা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত আছে ও।
যেভাবে অনুরোধ করা হয়েছে হাল একদম সেভাবেই এসেছে-একা। এমনকি অ্যাবোলি এবং অন্যান্য অফিসারকেও সাথে নিয়ে আসা হয় নি। কিন্তু এই অল্প সময়ের মধ্যেই হাল ধারণা করতে পেরেছে যে রিভারস সবকিছুই নিজের রাস্তায় করে, যা আগে থেকে আঁচ করা যায় না।
হাল আর রিভারস বিচ-এর ওপর পেতে রাখা ছোট্ট একটা টেবিলের ওপর বসে আছে। টেবিলের ওপর মাদেইরা ওয়াইন-এর একটা বোতল এবং দুটো ক্রিস্টাল গ্লাস রাখা আছে। এসবই এক পর্তুগীজ ক্যাপ্টেন-এর সম্পত্তি ছিল যার জাহাজ এখন দ্বীপের দক্ষিণ দিকে পড়ে আছে।
তাদের দুজনের চারপাশে এখন স্বর্গীয় সৌন্দর্য বিরাজ করছে। রাতের আকাশে তারাগুলো মুক্তার মতো জ্বলজ্বল করছে। হাল তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল জুডিথ কী এই তারাগুলো দেখতে পাচ্ছে, নাকি কোনো অন্ধকার কারাগারে বন্দি আছে যেখানে দিনের আলো পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না?
“তাহলে ট্রোম্প তোমার জাহাজ কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল?” জলদস্যুটা ক্যাপ্টেন হাল-এর গ্লাসে রাম ঢেলে দিতে দিতে বলে।
“চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়”, হাল জানালো।
“অ্যাবোলি, ট্রাম্প এবং বিগ ডেনিয়েল তাদের লংবোট নিয়ে পানির ধারে অপেক্ষা করছে। পানসিটা পুনরায় বাউ-এর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেই সাথে হাল এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে রিভারস-এর ডাগআউট ডিঙ্গিগুলো পুনরায় আক্রমণ করার চেষ্টা করবে। রিভারস-এর লোকদের কাউকে হাল আশে পাশে দেখতে পাচ্ছে না। যদিও অন্ধকারে লুকিয়ে থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।
“এরপর থেকে ট্রোম্প নিজেকে আমার কাছে বেশ বিশ্বস্ত হিসেবে প্রমাণ করেছে,” হাল বলতে থাকল।
সে চারপাশে তাকিয়ে দেখল। আশে পাশে প্রাণের চিহ্ন বলতে কেবল বালির ওপর দিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া কাঁকড়া আর ঝোঁপের ঐ পাশে থাকা লোকজনের হাসি-ঠাট্টার শব্দ।
“আপনি হয়ত শুনেছেন যে, শত্রুরা আমার কাছ থেকে কাউকে কেড়ে নিয়েছে।” কথাগুলো বলতেও হাল-এর বেশ কষ্ট হচ্ছিল। “এমন কাউকে যে আমার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে প্রিয় মানুষ। যে করেই হোক আমি তাকে ফেরত পেতে চাই। যারা তাকে নিয়ে গিয়েছে আমি তাদেরকে হত্যা করতে চাই। কিন্তু আমি নিজে সেই কাজটা করতে পারছি না।”
পরবর্তী কয়েক মিনিট হাল রিভারসকে সব গল্প খুলে বলল। সে জানায় যে জাঞ্জিবার-এর পরবর্তী বাজারের দিনে জুডিথকে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হবে। জুডিথকে পাওয়ার একমাত্র রাস্তা হচ্ছে তাকে কিনে আনা। কিন্তু হাল নিজে সেই ক্রেতা হতে পারছে না।
রিভারস মনোযোগ দিয়ে শুনল। সে ভাবছে যে তার এখন কি বলা উচিত। এরপর সে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কীভাবে নিশ্চিত হলে যে, তাকে সেখানে সে সময় বিক্রির জন্য আনা হবে?”
“আমি রাষ্ট্রদূত গ্রে-এর কাছ থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছি।”
“সেই লোক, যে তোমার সাথে প্রথমবার প্রতারণা করেছিল?”
হাল মাথা নেড়ে বলে, “হ্যাঁ,”
“তাহলে এখন কেন তুমি তাকে বিশ্বাস করছ? এমনও তো হতে পারে সে তোমাকে ফাঁদে ফেলার জন্য এরকম প্রলোভন দেখাচ্ছে।”
“অবশ্যই সেরকম হতে পারে। কিন্তু তারপরও…এতে কিই বা আসে যায়। আমি যদি সেই বাজারে উপস্থিত থাকি তবে তাকে ফিরে পাওয়ার আশা আছে-তা সে যতই ক্ষীণ, হোক। কিন্তু যদি আমি সেখানে উপস্থিত না থাকি তবে সেই আশা একেবারেই নেই।”
“কিন্তু এখানে আমি কী করতে পারি?”
“আমি চাই, আপনি আমার পক্ষ হয়ে নিলামে সাড়া দিবেন। আমি বা আমার সাথে সম্পৃক্ত কেউই সামনা সামনি দর হাঁকাতে পারবে না। কিন্তু আপনার এবং আমার মাঝে কোনো যোগাযোগ আছে এটা দ্বীপের বাইরে কেউই জানে না। আমি জানতে পেরেছি যে বাজারের দাস বিক্রেতাদের সাথে আপনার পরিচয় আছে।”
“হুম।”
“সেই সাথে জাঞ্জিবার এমন একটা জায়গা যেখানে আপনার কৃতকর্মের জন্য আপনাকে বন্দি করার কোনো আদেশ দেয়া হয়নি।”
