“সে হয়ত আমাকে দেখে খুশি হবেনা,” ট্রোম্প বলতে থাকে। কিন্তু এক শিশি পরিমাণ ভার্জিন টিয়ার সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য যথেষ্ট, তার চোখ চকচক করে উঠল। এই রকম একটা গুপ্তধন একশ পাউন্ডে বিক্রি করতে পারবেন আপনি। কিংবা এত সোনা আর রুপা পাবেন যে আপনার যেকোনো একটা নৌকো ভরে যাবে।
হাল একটা বুদ্ধিদীপ্ত চাহনি দিল। এরপর তার মাঝিমাল্লাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “মাস্টার ড্যানিয়েল, বন্দুক হাতে আমার চল্লিশজন ভাল মানুষ চাই। আর ডেন্ট থেকে আমরা যে ব্যারেলগুলো নিয়েছি সেগুলো এখানে নিয়ে এস।”
“ক্যাপ্টেন” বিগ ডেনিয়েল একটা সমর্থনপূর্ণ দৃষ্টি দিল। এরপর সে অ্যামাডোডা সৈন্যদের সেই সব ধর্মীয় ধংসাবশেষগুলো নিয়ে আসতে বলল।
“মি. টেইলর, বন্দুক হাতে নাবিকদের প্রস্তুত থাকতে বলুন এবং আমার টেলিস্কোপটা হাতে নিন। গোলমাল-এর ইঙ্গিত পাওয়ার সাথে সাথে রণতরীটা ডুবিয়ে দিয়ে দস্যুদের জন্য নরকের দরজা খুলে দেবেন।”
নেড টেইলর তার চোয়াল শক্ত করে বলল, “ক্যাপ্টেন আপনার কাছে যদি ওইসব দস্যুদেরকে সুবিধাজনক মনে না হয় তবে শুধু বন্দুকের একটা গুলি ছুড়বেন। এরপর দেখবেন ওদের জাহাজের ছোট ছোট টুকরা ওপর থেকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ছে।”
“ভেরি গুড”, হাল তাদের দিকে বেশ আস্থাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল। এরপর আস্তে আস্তে সবার দিকে একবার করে তাকিয়ে দেখে নিল যে কে কীভাবে প্রস্তুত আছে। আজকে যদি রিভারস কোনোরকম চালাকি করার চেষ্টা করে তবে আজকের দিনটিই হয়ত হবে তার জীবনের শেষ দিন।
.
“তারপর…ট্রোম্প…এখানে কেন এসেছ, সেটা বলল।” রিভারস তার নিজের হ্যাট খুলে অন্য একজন হ্যাট পরা নাবিকের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াল-সূর্যের আলো থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্য ক্ষুদ্র প্রয়াস আরকি। “সেই সাথে এরকম সুন্দর একটা জাহাজ সাথে করে নিয়ে এসেছ। মাই গড!” বেশিক্ষণ ঝুঁকে থাকতে না পেরে নিজের হ্যাটটা পরে আবারও সোজা হয়ে দাঁড়াল সে।
বাউ-এর বেশিরভাগ নাবিক সাগরের এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে সমুদ্রের ঢেউ এসে তাদের পা ছুঁয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চারজন নাবিক পানসির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। গ্রেপশুট লোড করা কামান থেকে গুলি ছোঁড়ার জন্য তাদেরকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাল-এর ডান কাঁধের পাশে অ্যাবোলি একটা বড় কুঠার হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
“এটা কী আমার জন্য নিয়ে এসেছ, ক্যাপ্টেন?” রিভারস জিজ্ঞেস করে।
“হাহ,” ট্রাম্প হাসি দিয়ে বলল। “এমনকি এটা যদি আমারও হত তবুও তুমি এটা পেতে না।” হাল এখনো নিজেকে চুপ রেখেছে। দস্যুটার দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিল ট্রোম্প। “আমি এখন আর ক্যাপ্টেন নই।” সে কোনোরকম ইতস্তত বোধ না করেই বলল। “আমি এখন গোল্ডেন বাউ-এর সেকেন্ডমেট।” এরপর সে হাল-এর দিকে ঘুরে বলল, “আমি কী আমাদের ক্যাপ্টেন-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারি? উনি হচ্ছেন, স্যার হেনরি কার্টনি। আমাদের ক্যাপ্টেন।”
রিভারস তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আগে হাল-এর নীল চোখের দিকে তাকিয়ে তার ওজন বোঝার চেষ্টা করল। হালকে দেখে মনে হচ্ছে সে হ্যান্ডশেক করতে নারাজ। কারণ তাহলে হয়ত তার নিজেকে এবং তার রক্তকে অসম্মান করা হবে। হাল বুঝতে পারছে যে তার পেছনে ট্রাম্প অত্যন্ত দুশ্চিন্তামগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
“গান্ডওয়েন,” অ্যাবোলি পাশ থেকে ফিসফিস করে বলল। হাল সামনে এগিয়ে দস্যু ক্যাপ্টেন-এর সাথে হ্যান্ড শেক করল।
“আপনি খুব কুখ্যাত, ক্যাপ্টেন,” সে বলে ফেলল।
দস্যুটা হাল-এর কথায় খুব একটা বিরক্ত হয়েছে বলে মনে হল না। “আমার ব্যবসায়িক কাজে কুখ্যাতি হচ্ছে সোনা কিংবা আইভরি পাথরের মতই মূল্যবান। মাঝে-মাঝে কিছু বণিক কিংবা নৌযাত্রী আমার জাহাজ চিনতে না পেরে বোকার মতো যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বসে। আর তাদের পরিণতি খুব একটা ভাল হয় না।”
সে ট্রাম্প-এর দিকে এক নজর তাকিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করল। “এরকমটা সচরাচর না হলেও মাঝে-মাঝে ঘটে আরকি। কোনো-কোনো ক্যাপ্টেন মাঝে মাঝে তার লোকদের জীবনের চেয়ে তার সম্মানকেই বেশি মূল্য দিয়ে ফেলে। আর সেটাই তার জীবনের শেষ ভুল হয়ে দাঁড়ায়। সে হাল-এর দিকে তাকিয়ে ঐ কুঁচকে বলল। কিন্তু আমি আপনার নাম শুনেছি সম্ভবত। আপনি নিশ্চয়ই ফ্রাঙ্কি কার্টনির ছেলে। কিন্তু সে নিজে এই মূল্যবান জাহাজটা চালাচ্ছে না কেন? নাকি সে এরচেয়ে বড় কোনো একটা পেয়েছে?”
“আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে, হাল বলতে থাকে। “কেপ অব গুড হোপ-এ মিথ্যে জলদস্যুতার অভিযোগে ওলন্দাজ ঔপনিবেশকরা তাকে অত্যাচার করে এবং…ফাঁসি দেয়।”
রিভারস তার পাইপ-এর অগ্রভাগটা ট্রোম্প-এর দিকে উঠিয়ে বলল, “ওলন্দাজরা আপনার বাবাকে হত্যা করেছে আর আপনি এখানে একজন ওলন্দাজ-এর সাথে মৈত্রী গড়ে তুলেছেন?”
“ট্রোম্প কখনোই আমার পিতার হত্যার ব্যাপারে যুক্ত ছিল না।”
“বাজি ধরে বলতে পারি যে, সে ঐ সময় এর চেয়েও জঘন্য কোনো কাজে ব্যস্ত ছিল। আমি ঠিক বলেছি না, মিজনহর ট্রোম্প?”।
ওলন্দাজ লোকটা কাঁধ ঝাঁকিয়ে হেসে জবাব দিল, “আপনি আমাকে খুব ভালভাবে চিনেন, ক্যাপ্টেন রিভারস।”
“তা অবশ্য চিনি…। আচ্ছা, এখনো বলছ না কেন যে তোমরা কী কারণে এখানে এসেছ। আমি এখন দুশ্চিন্তায় আছি। তোমাদের যেকোনো ক্ষতি হতে পারে এখন। তোমাদের জাহাজগুলো আর তোমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না এটা নিয়েও আমি বেশ সংকিত।”
