“কেউ একজন আসছে গান্ডওয়েন,” অ্যাবোলি হালকে বলল। তারা পায়ের শব্দ শুনতে পায় এবং বুঝতে পারে একটু আগে দেয়া গ্রের চিৎকারে তার লোকেরা এগিয়ে আসছে।
গ্রের দরজায় দু’বার টোকা মেরে কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, “কনসাল। সব ঠিক আছেতো? কনসাল!”
গ্রে একবার হাল, আরেকবার অ্যাবোলির মুখের দিকে তাকাল। এরপর তার দিকে তাক করা তলোয়ার-এর দিকে এক ঝলক দৃষ্টি দিয়েই দরজার দিকে চোখ দিল। তার চেহারা ভয় আর সিদ্ধান্তহীনতায় প্রায় জমে যাচ্ছে।
“আমাকে সাহায্য কর,” সে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল। ধড়াম করে দরজা খুলে গিয়ে দুজন লোক ভেতরে প্রবেশ করল।
বিদ্যুৎ বেগে অ্যাবোলি ওদের একজনের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বাহু দিয়ে গলা প্যাচিয়ে ধরে পেছনে নিয়ে যায়। হাল তার তলোয়ারটা লোকটার মুখে ঢেকিয়ে দিল। কিন্তু তলোয়ার সরিয়ে আরেকজন গার্ড হালকে আঘাত করতে উদ্যত হয়। কিন্তু তার আগেই স্ট্যানলি তাকে পেছন থেকে আঘাত করে বসলো। গার্ডটা মেঝেতে পড়ে যায়। তার গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। এরপর স্ট্যানলি বিছানার দিকে এগোয়। যে ছোট ছেলেটা বিছানায় ছিল সে চাদরের নিচে লুকোতে থাকে।
এদিকে দরজার পাশে থাকা অ্যাবোলি অন্য গার্ডটাকেও প্রতিহত করতে সমর্থ হয় এবং বলে উঠে, “অনেক হয়েছে! তোমার গডের কাছে যাও এখন?”
এসব দেখে ভয়ে আর আতংকে প্যান্ট ভিজিয়ে দিল গ্রে। তার মূত্রের ধারা গড়িয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
“জুডিথ কোথায়? তারা জুডিথকে কোথায় নিয়ে গেছে?” হাল তার তলোয়ারটা গ্রে’র পেটের দিকে তাক করে জিজ্ঞেস করে। অ্যাবোলি ততক্ষণে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে ওটার দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়েছে।
গ্রে বুঝতে পারল যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। তার চেহারা থেকে ঘামের ফোঁটা চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। কিন্তু সে কোনোরকম কথা বলছে না।
হাল তার তলোয়ারের অগ্রভাগ গ্রে’র গালে ছোঁয়াল। পেছাতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে গেল কনসাল গ্রে। তার গালে লাল দাগ পড়ে গেল সাথে সাথে।
“ওরা জুডিথকে কোথায় নিয়ে গেছে?” হাল আবারো জিজ্ঞেস করল।
হাল এবার তার মুষ্টি দিয়ে গ্রে’র কানের ওপরে সজোরে ঘুসি লাগাল।
গ্রে’ প্রথমে মাথা ঘুরে পড়েই যাচ্ছিল। কোনোরকমে ভারসাম্য রক্ষা করে আবারও সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। তীব্র ভয়ে ওর চোখগুলো বড় বড় হয়ে গিয়েছে।
“তুমি আমাকে হত্যা করতে চাও তাই না হাল?” সে বলে উঠে। “তবে তাই কর।”
“আমি আপনাকে এরপর আর কোনো কিছু জিজ্ঞেস করব না,” হাল বলল। “আমাকে শুধু বলুন যে বুজার্ড এবং তার লোকেরা জুডিথকে কী করেছে?”
“এভাবে অনেক সময় লাগবে”, অ্যাবোলি বলে উঠল।
“তুমি গোল্লায় যাও, কার্টনি,” গ্রে ফোঁস ফোঁস করে বলে উঠে। হয় সে তার হারানো সাহস ফিরে পেয়েছে, নয়ত আজকে রাতে সে বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছে। হাল তার তলোয়ার তুলে লোকটাকে পুনরায় আঘাত করতে যাচ্ছিল।
“থাম, গান্ডওয়েন,” অ্যাবোলি বলে উঠল। হাল তলোয়ার নিচু করে তার সঙ্গীর দিকে তাকাল। “তাকে কীভাবে কথা বলাতে হবে সেটা আমার জানা আছে।”
ইতস্তত করছে হাল। কিন্তু অ্যাবোলি তাকে আবারো বলল, “তুমি যদি ওকে আমার হাত না দাও তাহলে ওর মুখ থেকে কথা শুনতে হলে আমাদেরকে এখানে সারা রাত অপেক্ষা করতে হবে।”
হাল-এর ইচ্ছে হচ্ছিল তার নেপচুন তলোয়ারটা বদমাশটার হার্টের ভেতর দিয়ে পার করে দিতে। কিন্তু তাতে তো জুডিথকে রক্ষা করা যাবে না। তাই বহু কষ্টে সে তার রাগ দমন করল। “সে এখন শুধুই তোমার, অ্যাবোলি।”
অ্যাবোলি বিছানা পার হয়ে চেয়ারটার দিকে এগিয়ে যায় যেটাতে কনসাল-এর জামা ভাজ করে রাখা আছে। অ্যাবোলি জামাটার একটু অংশ কেটে নিয়ে গ্রে’র মুখে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে কাপড়টা ভেতরে ঢুকাতে থাকে-লোকটার কাশি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। এরপর চেয়ারটা টেনে ঘরের মাঝখানে নিয়ে আসে এবং গ্রেকে সেটাতে বসায়। তারপর বিছানার চাদর থেকে ফিতার মতো কিছু অংশ কেটে সেটা দিয়ে রশি তৈরি করে। সেগুলো দিয়ে কনসাল-এর পাদুটো চেয়ারের সাথে বেঁধে ফেলল সে। হাল জানে অ্যাবোলির মনে কী খেলা করছে। সে গ্রে’র নিজের বেল্টটা নিয়ে হাতদুটো চেয়ারের পেছনে বেঁধে ফেলল।
গ্রে তার ফুলে যাওয়া চোখগুলো দিয়ে হাল-এর দিকে তাকায়। তার চেহারার একপাশটা গাঢ় পার্পল রঙ ধারণ করেছে। তার মোটা পা দুটো ঠকঠক করে কাঁপছে।
অ্যাবোলি গ্রে’র চেয়ারের পেছনে হাঁটুগেড়ে বসে পড়ে। সে গ্রে’র দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়, এরপর ছুরি হাতে কাজে লেগে যায়। গ্রে ব্যথায় চিৎকার দিয়ে উঠে। কিন্তু গড়গড় আওয়াজ ছাড়া কিছুই শোনা যায় না কারণ তার মুখে কাপড় গুঁজে দেয়া আছে। অ্যাবোলি যখন কাজ শেষ করে উঠে আসে তখন দেখা যায় তার বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনীর মাঝে গ্রে’র কাটা আঙুল ঝুলে আছে। এরপর সে চেয়ারের সামনে গিয়ে গ্রে-কে তার নিজের কাটা আঙুলটা দেখায়।
“ক্যাপ্টেনকে যা জানতে চাচ্ছে তাকে তা বলে দাও, গ্রে”, অ্যাবোলি ভয়ংকরভাবে বলল। “যদি না তুমি যোবা আর অন্ধ হয়ে যেতে চাও। কারণ তুমি যদি না বললো, তাহলে আমি তোমার জিব কেটে ফেলব, সেই সাথে চোখগুলোও তুলে নেব।”
