“তুমি কী নিশ্চিত যে তুমি পারবে?” স্ট্যানলি জিজ্ঞেস করে।
“তুমি শীঘ্রই সেটা জানতে পারবে।” মাঝি উত্তর দেয়।
“ডেনী তুমি নটটা শক্তভাবে ধরে রেখ। আমি প্রথমে যাব,” হাল বলল। সে তার এক বাহু এবং এক পা দিয়ে রশিটাকে জাপটে ধরে-হরিণ মারার পর যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেকটা সেভাবে। বিগ ডেনিয়েল তার শক্ত বাহু দিয়ে রশিটাকে টান টান রাখার চেষ্টা করছে।
“আপনি নামুন ক্যাপ্টেন,” সে বলল, হাল রাতের অন্ধকারের মধ্যে আস্তে আস্তে হামাগুড়ি দিয়ে নামতে থাকে। তার নেপচুন তলোয়ারটা পেছন থেকে ঝুলছে, দুটো পিস্তল তার কোমড়ে আটকানো। এখন কোনো কথা নয় শুধু মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে। সে তার পা দুটো দিয়ে আড়াআড়ি করে রশিটাকে ধরে রাখে। তার জীবনের অর্ধেকটা সময় সে মাস্তুলের ওপর রশি বেয়ে উঠানামা করেছে। কিন্তু কোনো গার্ড যদি এখন বাড়ির পেছন থেকে বের হয়ে কিংবা জানালা দিয়ে কেউ দেখে ফেলে তবে তার সেই দক্ষতা তাকে– বাঁচাতে পারবে না।
অন্ধকারের মধ্যে স্কুলে থেকে হাল যদিও তার চারপাশের কিছু দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু তার নিজের হার্টবিট সে নিজ কানে শুনতে পাচ্ছে। জাঞ্জিবার এর রাস্তা থেকে ঘেউ ঘেউ করতে থাকা কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। সাগরের ঢেউ-এর শব্দ শোনা যাচ্ছে। সে অপেক্ষা করছে কেউ কোনো গানফায়ার-এর শব্দ করে কি-না। কিন্তু কোনো শব্দই এলো না। আস্তে আস্তে রশির শেষ মাথায় পৌঁছে যায় হাল।
হাল এক পা রেলিং-এর ওপর দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে সমস্ত শরীরটাকে টেনে বেলকনির ভেতরে নিয়ে আসে এবং অ্যাবোলির মুখোমুখি দাঁড়ায়। হাল আর অ্যাবোলি একে অপরের দিকে তাকিয়ে নীরবে মাথা নেড়ে একটা ম্যাসেজ পাঠিয়ে দিল পরস্পরের কাছে-এখনো পর্যন্ত সব ঠিক-ঠিক মতোই চলছে। ওরা তাকিয়ে দেখল যে স্ট্যানলিও ততক্ষণে এগিয়ে আসছে। ঠিক তখনই জাঞ্জিবার-এর আকাশ থেকে মেঘ কেটে যায়। চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে যায় শহরটা। স্ট্যানলি যে কি-না এতক্ষণ অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে নড়াচড়া করতে পারছিল না, সেও এগিয়ে আসছে রশি বেয়ে। কিন্তু হঠাৎ ঝাঁকুনিতে বিগ ডেনিয়েল তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। হাল শুনতে পায় ডেনিয়েল চিৎকার দিয়ে উঠেছে। স্ট্যানলি দ্রুত পড়তে থাকে, কিন্তু স্রেফ কপালগুণে শেষ পর্যন্ত ঝুলে থাকতে পারে; বিগ ডেনিয়েল-এর পা পিছলে যাওয়ার পরও পেছন দিকে ঝুঁকে রশি টান টান করে ধরে রেখেছিল সে।
এরইমধ্যে স্ট্যানলি বেলকনিতে পৌঁছে যায়। অ্যাবোলি ছুরি হাতে প্রস্তুত হয়ে যায়-যদি হঠাৎ করেই কোনো গার্ড চলে আসে। এরপর সে জানালার হাতলটা শক্তভাবে ধরে ধাক্কা দেয়। জানালা খুলে যায়। লাফ দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে অ্যাবোলি, সেই সাথে ছুরি হাতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।
কিন্তু ঘরে কেউ ছিল না। কিছু আসবাবপত্র চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল। হাল আর স্ট্যানলি অ্যাবোলির সাথে যোগ দিয়ে দরজার দিকে এগুতে থাকে। হাল দরজার খিলটা আস্তে করে খুলে ফাঁকা অংশ দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল। সে সেটাই দেখতে পায় যা সে প্রত্যাশা করেছিল।
বিল্ডিং-এর তিনপাশে একতলাসমান উঁচু যে স্তম্ভ শ্রেণিগুলো রয়েছে সেগুলো একেবারে উঠোন পর্যন্ত চলে গিয়েছে যার মাঝখানটায় যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা রয়েছে। এর বিপরীত দিকে যেদিকে হাল ও তার সঙ্গীরা দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে কোনো স্তম্ভশ্রেণি নেই। একারণে তারা বিল্ডিংগুলোর পুরো অংশ দেখতে পাচ্ছে। বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর যে বিল্ডিংটা সেটার জানালাগুলো আয়রণ লিয়ন দিয়ে নকশা করা। সম্ভবত গ্রে তার নিজের ব্যবহারের জন্যই এটা সংরক্ষণ করে রেখেছে। হাল দেখতে পায় জানালা দিয়ে মোমবাতির মৃদু আলো বেরিয়ে আসছে যেটা থেকে বোঝা যায় যে গ্রে হয়ত এখনো জেগে আছে। ডেম! হাল চিন্তা করে, “সে যদি জেগে থাকে তাহলে ব্যাপারটা জটিল হয়ে যাবে।”
হাল বাকিদের ইশারা করলে তারা হাল-এর সাথে সাথে স্তম্ভগুলোর ভেতর দিয়ে আসতে থাকে। হাল জানে প্রধান প্রবেশ পথের সামনে আরও দুজন গার্ড থাকতে পারে। কিন্তু এদিক সেদিক তাকিয়ে সে গার্ডদের কোনো চিহ্ন দেখতে পেল না।
তারা তিনজনে মিলে ঘেরাও করা জায়গাটার চারদিকে ঘুরে-ঘুরে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখতে থাকল। জায়গাটার মাঝখানে একটা নরম পানির ঝরণা পানির ফুলিঙ্গ ছড়াচ্ছে। তাই টাইলস করা মেঝেতে পা যেন পিছলে না যায় সেদিকেও তাদের খেয়াল রাখতে হচ্ছে। পেয়াজের ন্যায় গোল জায়গাটায় ঘুরতে ঘুরতে একসময় তারা একটা কাঠের দরজা দেখতে পায়। হাল তার ডানহাতে ছুরিটা নিয়ে দরজার খিল খুলে ধাক্কা দেয়। দরজাটা খুলে যাওয়ার পর আস্তে আস্তে ভেতরে প্রবেশ করে সে। অ্যাবোলি আর স্ট্যানলিও তার সাথে ভেতরে প্রবেশ করে।
এমন সময় হাল চিকন স্বরের চিৎকার শুনতে পায়। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। দেখতে পেল, ঘরের ভেতরে গ্রে প্রায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।
“স্যার হেনরি,” গ্রে অনেকটা তোতলামি করে বলে উঠল। তার পেছনে একটা নগ্ন আফ্রিকান বালক শুয়ে আছে। তেল দেয়ার ফলে ছেলেটার কফি রঙা চামড়া চকচক করছে।
‘কনসাল গ্রে,” হালও তার নেপচুন তলোয়ারটা তাক করে সম্বোধনের জবাব দেয়।
