অন্য মানুষ কী ধারণা করেছে সেটা বুজার্ড বুঝতে পারছে। সে বেনবুরির চোখের দিকে তাকিয়ে দেখল যে বেনবুরি তার রিং-এর দিকেই তাকিয়ে আছে। তাই সে বলে উঠল, “এটা নিয়তি। এগুলো লাগানো হয়েছে যেন আমাকে কুকুরের মতো টেনে নেয়া যায়।” “আচ্ছা যাই হোক, এখন এই বিষয় বাদ দেয়া যাক। অন্য কথা বল।”
“তো বেনবুরি তুমি আমার গল্প শুনেছে,” বুজার্ড আবার বলতে শুরু করে। “এখন বল তুমি এবং তোমার পেলিকান-এর কী অবস্থা?” “আমি আশা করব তুমি এখনো সেটার মালিক আছ। তাই না?”
“হ্যাঁ, আমি এখনো এটা গর্ব করে বলতে পারি যে, আমি পেলিকান-এর ক্যাপ্টেন,” বেনবুরি উত্তর দেয়। এখন আমি ব্যবসার ব্যাপারে চিন্তা করব। সেই ব্যবসায় আমরা দুজনেই কীভাবে লাভবান হতে পারি সেই চিন্তা করব।”
বুজার্ড সামনের দিকে ঝুঁকে বসে এবং মাথাটা এমনভাবে কাত করে যেন তার একমাত্র চোখটির দৃষ্টি সরাসরি সামনের লোকটির চোখে পড়ে। এরপর প্রশ্ন করে, “কীভাবে?”
“আমি এখানে এক ধরনের ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসায়ের সাথে যুক্ত হয়েছি। তুমি কী বালথাজার বোবো নামে কোনো পর্তুগীজ ব্যবসায়ীর নাম শুনেছ?”
“ঠিক বলতে পারছি নে।”
“সে হচ্ছে এক অন্যরকম ভদ্রলোক। আমি হয়ত তোমাকে বলেছিলাম যে বহুবছর ধরে সাহিলি উপকূলের বন্দরে পর্তুগীজদের জাহাজ নোঙর করা আছে। ওখানে তাদের নিয়মিত যাতায়াত আছে। কিন্তু ওখানে সাদা লোকদের প্রবেশ নিষেধ। তারা সেখানে আশেপাশের রাজ্যে সোনা বিক্রি করে।”
“আমি এসব জানি বেনবুরি। আমি পর্তুগীজদের অনেক জাহাজ চালিয়েছি। তাদের জাহাজের ভেতর সোনা বোঝাই করা থাকে। কিন্তু পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে কোনোরকম যুদ্ধ করার অনুমতি না থাকায় আমি সেসব নিতে পারি নি।”
“এরপর বহুবছর যাবত পর্তুগীজরা সেই বন্দরে থেকে দ্বীপের ভেতর বাণিজ্য চালিয়েছে। এখানে সেখানে তাদের ব্যবসার কতগুলো স্থান রয়েছে। কিন্তু মিশনারীরা-যারা তাদের আত্মা শুদ্ধ করতে দ্বীপে যায়-স্থানীয় লোকদের সোনার আসল গ্রহণযোগ্যতা বা মূল্য বুঝিয়েছে। তাই এখন বালথাজার লোবো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সোনা ক্রয় করার জন্য আর উপকূলে অপেক্ষা করবে না। সে দ্বীপের ভেতরে যাবে। কিংডম অব মানিয়াকা নামে একটা জায়গায় সে খনিজ পদার্থের খনি খুঁজে পেয়েছে।”
“আমার মনে হয় না স্থানীয় প্রধান এতে খুশি হবে, তাই না।”
“লোবো স্থানীয় প্রধানের মুখ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সম্মানী দিয়েছে। সে একটা খনি উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে এবং তাতে যথেষ্ট পরিমাণ সোনা পেয়েছে।”
“সে কী তোমাকে কিছু দেয়, বেনবুরি? এটাই কী তোমার ব্যবসা?”
“না, সে আমাকে কিছু দেয় না…এখনো পর্যন্ত। তবে আমি আশা করি যে। সে শীঘ্রই দিবে। দেখ, সেনর লোবোর একটা ছোট সমস্যা আছে। সে এমন কোনো নারী খুঁজে পাচ্ছে না যে তাকে একটা সন্তান দিতে পারে।”
“সম্ভবত সমস্যাটা মহিলাদের নয়।”
“হ্যাঁ, তুমি হয়ত ঠিকই বলেছ কোকরান। কিন্তু দেখ, যদি এমন কোনো রমণী খুঁজে পাওয়া যায় যার পেটে সন্তান আছে, আর তাকে যদি লোবোর হাতে তুলে দেয়া যায় এবং কিছুদিন পরে তাকে বিশ্বাস করানো যায় যে এ সন্তান তার নিজের তাহলে হয়ত এ ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান করা যায়।”
“তা অবশ্য করা যায়। আমার মনে হয় এতে সে আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাবে।”
“এখন আমাকে এই ধরনেরই একটা নারী খুঁজে বের করতে হবে লোবোর কাছে বিক্রি করে দেয়ার জন্য। আমি জাঞ্জিবার-এ এসেছি এরকম কাউকে পাওয়ার আশায়। আমি সুলতান-এর হারেমে তোমার যাতায়াতের ব্যাপারে গল্প শুনেছি। আমি ভেবেছি যে সুলতান যখন তার কোনো উপপত্নীকে নিয়ে ক্লান্ত এবং একঘেয়ে হয়ে উঠে তখন কী করে? সে নিশ্চয়ই তাকে অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দেয়। এবং এক্ষেত্রে তুমিই আমাকে সাহায্য করতে পার। সুলতান যদি তার কোনো উপপত্নীকে বিক্রি করে দেয়, তবে সে যেন আমার কাছেই বিক্রি করে। তুমি তাকে এ ব্যাপারে প্রভাবিত করবে।”
এরপর বুজার্ডের লুকানো চেহারায় এক ধরনের হাসি ফুটে উঠে। মুখোশের ওপর আঁকানো হাসির ন্যায় প্রশস্ত সে হাসি। বেনবুরির কথায় সমস্ত সমস্যার সমাধান সে একটাই দেখতে পায়। একটা নতুন জীবন শুরু, প্রিন্স-এর কাছ থেকে মুক্তি এবং কার্টনির ওপর প্রতিশোধ।
“আমি তোমার জন্য এর চেয়ে অনেক অনেক ভাল কিছু করতে পারি। আমি তোমাকে এমন মহিলা এনে দিতে পারি যে কিনা লোবোর জন্য সন্তান ধারণ করবে। কিন্তু তার জন্য তোমাকে একটা পেনীও খরচ করতে হবে না…তার চেয়ে বরং লোবো তোমাকে যে টাকাটা দেবে, ওটার অর্ধেকটা আমাকে দিও, তাহলেই হবে।”
“কিন্তু আমি তা কেন করব?”
“কারণ এই রমণীর মূল্য কোনো রাজার চেয়ে কম নয়। ওকে পেলে যে কেউই নিজেকে রাজা বলে ভাবতে শুরু করে দেবে।”
এরপর বুজার্ড সবকিছু বলতে শুরু করে। গল্প করতে করতে সামনে রাখা মদের বোতল শেষ করার পর বেনবুরির জন্য ওয়াইন-এর বোতল অর্ডার করে। যখন তাদের মদের বোতলগুলো খালি হয় তখন তারা হ্যান্ড শেক করে তাদের কথা পাকাঁপোক্ত করে নেয়। বুজার্ড তার দাসদের নিয়ে ট্রেস মেকাকোস ত্যাগ করে। এখানে আসার সময় যেরকম অনুভূতি নিয়ে এসেছিল সে, এখন তার চেয়ে অনেক ভাল অনুভব হচ্ছে ওর।
