“এর সাথে বেশি সময় নষ্ট করো না, এলিনা অনুনয়ের স্বরে বলে উঠে। “তোমাকে ছাড়া আমার প্রতিটা মুহূর্তই শূন্য লাগে।” এরপর এলিনা ডিভান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। যাওয়ার সময় সে জুডিথ এর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকায় যেটাতে যুদ্ধের স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল।
প্রিন্স একটা আত্মতৃপ্তির হাসি দিয়ে সামনে ঝুঁকে বসে সরাসরি জুডিথ-এর দিকে তাকাল। আমি একজন সভ্য জগতের মানুষ এবং আমি গর্বিত যে আমি ওপরওয়ালার নীতি অনুযায়ী চলি। কিন্তু আমি স্বীকার করছি যে আমার মধ্যে কিছু অদ্ভুত জিনিস রয়েছে। আপনি যদি জেনারেল সমমর্যাদার কোনো পুরুষ হতেন তবে আমি যুদ্ধক্ষেত্রে আপনার মুখোমুখি হতাম এবং আপনাকে বন্দি করতাম। এরপর আপনাকে আপনার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করতাম। আপনার মতো কমান্ডার-এর মুক্তিপণ নিশ্চয়ই কল্পনার চেয়েও বেশি হত। ইথিওপিয়ার মহারাজা নিশ্চয়ই নিজের গুপ্তধন থেকে সেই মুক্তিপণটা মেটাতে চাইত। আর সে যদি সেটা মেটাতে না পারত তাহলে আপনাকে সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ করতে হত।”
“কিন্তু আপনি কোনো পুরুষ নন এবং সেটাই ব্যাপারটাকে এত জটিল করে তুলেছে। আপনি আপনার জনগণের কাছে এমনকি আমার কাছেও অনেক সম্মানের পাত্রী। এমনকি যে কোনো পুরুষের কাছেই আপনি জাদুকরী মানবী। আপনার মতো যুবতী রমণীর-যাকে ঠিক বালিকাও বলা যায় না-কখনও এরকম বিশাল সৈন্য বাহিনীকে শাসন করা উচিত নয়। সত্যি বলতে, আপনার মতো নারীর অবস্থান সাধারণ মানুষের চেয়েও উর্ধ্বে। আমি জানি যে আপনার জনগণ বিশ্বাস করে আপনি স্বর্গ থেকে নেমে আসা কোনো এঞ্জেল।”
“আর তুমি মনে কর আমি নরক থেকে নেমে আসা কোনো অপদেবী, তাই না।” জুডিথ বলে উঠে। “কিন্তু আমি কোনো এঞ্জেলও নই, কোনো অপদেবীও নই। আমি অতি সাধারণ একজন নারী। এখন তুমি কী করতে চাও সেটা বল?”
প্রিন্স অনেক চিন্তাপূর্ণ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। “আহ, এখন সেটাই প্রশ্ন। আমি অনেক দিন ধরে এই ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করেছি। আমি যদি আপনাকে হাতের কাছে পাই তাহলে আমি কী করব? আমি অনেকবার আমার মনকে পরিবর্তন করেছি। আবারও পরিবর্তন করতে পারি।”
“এবং…?”
সে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে, “তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্ল্যান যেটা ছিল সেটা হচ্ছে, আপনাকে কোনো দাস বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেয়া। কিন্তু আপনার মতো একজনকে এত চড়া দামে কে কিনতে পারে? কিন্তু আপনার হাতে যারা নির্যাতিত হয়েছে তারা কী এতে কোনো আনন্দ পাবে? আর আপনাকে এভাবে ছেড়ে দেয়া কী অনেক বড় অপচয় হবে না? এতে আমি কী কোনো আনন্দ পাব নাকি উপকৃত হব?”
“এছাড়ও আপনি আকর্ষণীয় সৌন্দর্যের অধিকারী এবং প্রজননশীলও বটে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের বিচারে আমি আপনাকে একটা আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিতে পারি।”
আমার ভাই গ্রেট মোগল অথবা কনস্টান্টিনোপাল-এর সুলতান-এর উপপত্নী হিসেবে নিজের জীবন বেছে নিন। যদি তাদেরকে একটা পুত্র সন্তান দিতে পারেন তবে তাদের জন্য সেটা অনেক মূল্যবান কিছু হবে। কিন্তু এরপরেও…” জাহান আপনমনেই বলতে শুরু করে দিল, “কেনই বা আমি ওই দুইজন লোককে সেই সুবিধা নিতে দিব? যতদিন আমি আছি ততদিন আমার উচিত আপনাকে আমার উপপত্নী করে রেখে দেয়া।”
জুডিথ রাগে লোকটিকে প্রায় থাপ্পড় দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, “তোমার উপপত্নী হওয়ার চেয়ে বরং মরে যাওয়া ভাল। এমনকি তোমার প্রাসাদে তোমার গড-এর আওতায় বড় হওয়ার আগেই আমি আমার সন্তানকে নিজ হাতে খুন করে ফেলব।”
“হাঁ, আমি সেটাই ভয় পাচ্ছিলাম।” প্রিন্স লোকটি তার মাথা নাড়িয়ে বলে উঠে। এক্ষেত্রে আমি আপনাকে বন্দি খানায় নিয়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত হারেমে রেখে দিতে পারি। কিন্তু এখানেও আপনি একজন শত্রু তৈরি করে ফেলেছেন। সে হচ্ছে এলিনা। সে যেমন মুরগির বাচ্চার মতো কোমল তেমনি বাঘিনীর মতই হিংস্র। এছাড়া আমার অন্যান্য উপপত্নীর কথাও মাথায় রাখতে হবে। তারা যদিও বিভিন্ন জায়গা থেকে উঠে এসেছে কিন্তু তারা সকলেই অনুন্নত পরিবেশ থেকে এসেছে। তারা যে জীবন পেছনে ফেলে এসেছে সে জীবনের তুলনায় এখানে তারা স্বর্গে বসবাস করে। তার বদলে তাদের যেটা করতে হয় তা হলো আমাকে সম্মান ও সন্তুষ্ট করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা কখনোই আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে যাবেনা। তথাপি আপনি হয়ত তাদের মাথায় এমন সব ধারণা ঢুকিয়ে দিবেন যেটা তাদের মনে ঝড় তুলবে, আমাকে অসম্মান করতে বাধ্য করবে, তাদেরকে বিদ্রোহী করে তুলবেন। ব্যাপারটা আমাকে খুব অসুবিধায় ফেলে দিবে। তখন তাদের সবাইকে খুন করে আমাকে আবার নতুন উপপত্নী আনতে হবে।”
“আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, আমি তোমার জন্য এধরনের অসুবিধা বয়ে আনব না,” জুডিথ অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলে উঠে। “কিন্তু এখন বল, তুমি আমাকে নিয়ে যে সম্ভাব্যতার কথাগুলো বলেছে, তার সবই প্রায় উড়িয়ে দিয়েছে। তাহলে তুমি আমাকে নিয়ে কী করতে চাও?”
“প্রথমত, আপনি আজকের রাতের ডিনারে আমার সংগে যোগ দিবেন। ইথিওপিয়ায় সামরিক অভিযান সম্পর্কে আমি আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই। যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য আপনি অগ্রিম কী ধরনের যুদ্ধ কৌশল নিয়েছেন, আপনার সৈন্যবাহিনীকে কীভাবে সাজিয়েছেন সে ব্যাপারে শুনব। তবে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে কোনোরকম অসম্মান আপনার জন্য অপেক্ষা করে নেই। আপনি কী এতে সম্মত আছেন?”
