সে তরবারিটা রেখে দিয়ে বিছানা থেকে নেমে আসে। সে শুধু লিলেন এর পাতলা একটা নাইটগাউন পরে আছে। তাই সে জিজ্ঞেস করে, “আমি কী আমার গাউনটা পরে নিতে পারি?”
“না, ম্যাম। আপনি তা পারেন না,” মুখোশ পরা লোকটি মাথাটা নাড়িয়ে এমনভাবে জুডিথ-এর দিকে তাকাল যেন সে তার একচোখ দিয়ে জুডিথকে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এই লোকটির ক্ষুধার্ত চোখ থেকে বাঁচার জন্য জুডিথ তার যুদ্ধের বর্মটাকে খুব অনুভব করতে লাগল। নিজেকে এখন খুব নরম ও দুর্বল মনে হচ্ছিল ওর। যে নারী এতদিন পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে যুদ্ধ করতে পারতো, অজস্র উপায়ে শত্রুকে হত্যা করতে পারতো, সেই তারই কি-না এখন আকুল নয়নে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে।
না, আমি কোনোভাবেই এই লোকটিকে আমার দুর্বলতার সুযোগ নিতে দেব না! জুডিথ চিন্তা করল এবং নিজেকে খুব জোরালোভাবে তাগিদ দিল সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সরাসরি ওই ঈর্ষাপরায়ণ লোকটির দিকে তাকানোর।
“আপনি কী আমাকে চিনতে পেরেছেন?” কণ্ঠটি জিজ্ঞেস করল। “ওহ, কীভাবে আপনি চিনবেন? আমি তো মৃত। আপনি আমাকে মারা যেতে দেখেছেন।”
জুডিথের স্মৃতি যুদ্ধের ময়দানে ফিরে গেল। সে সাগরের প্রান্তরে যুদ্ধের ছবি মনে করতে লাগল এবং একজন মানুষকে তার জাহাজসহ আগনে পুড়ে ডুবে যেতে দেখল। না, এটা কী করে সম্ভব! কিন্তু এছাড়া..?
“বুজার্ড, সে তার কণ্ঠটাকে যতটা সম্ভব শান্ত রেখে বলার চেষ্টা করল। কিছুতেই তার বিস্ময় এই লোকটার কাছে প্রকাশ করা যাবে না। তাহলে সেটা হয়ত তার আরেকটা বিজয় হবে তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন।
“হ্যাঁ, আমি বেঁচে আছি…এটাকে যদি বেঁচে থাকা বলে তাহলে আমি বেঁচে আছি। আপনার বাস্টার্ড স্বামী যেভাবে আমাকে বেঁচে থাকতে বাধ্য করেছে। আমি সেভাবেই বেঁচে আছি। ওহ আমি সেটার প্রতিশোধ তার নারীর ওপর দিয়ে নিতে চাচ্ছিনা। তার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার আরও অনেক রাস্তা আছে। কিন্তু আরো একজন আছে যে আপনার সাক্ষাৎ পেতে চায়। আপনি আপনার গাউন পরে নিন। আপনার তৈরি হওয়া শেষ হলে আমার সঙ্গে আসুন।”
বুজার্ড-একজন সম্ভ্রান্ত নারীকে সম্মান প্রদর্শনের মতো করে মাথা নিচু করে। বলল, “আপনার বাহন তৈরি, মাই লেডি…”
সে চলে গিয়েছে। কামরা খালি পড়ে আছে। বোকামির জন্য হাল নিজেকে অভিশাপ দিতে লাগল। হঠাৎ সে ঘর থেকে এক ধরনের শব্দ শুনতে পেল। শব্দটা একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ যেটা খাটের নিচ থেকে আসছে। হাল মেঝে পর্যন্ত নেমে আসা বিছানার চাদরটা উঠিয়ে দেখে সেখানে গুটিসুটি মেরে মসি বসে আছে।
হাল তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে নরম সুরে বলল, “ভয় পেয়ো না। তুমি এখন নিরাপদ। বের হয়ে এসো।”
ছেলেটি শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। হাল আবার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো লাভ হয় না। তাই সে এবার ভিন্ন পথ ধরে বলল, “তুমি কী আমাকে সাহায্য করবে, মসি? আমাকে বলবে এখানে কী ঘটেছিল? জুডিথকে কারা উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে? তুমি যদি আমাকে সাহায্য কর তবে আমি অতি দ্রুত জুডিথকে খুঁজে বের করতে পারব।”।
হাল-এর এই পন্থায় কাজ হয়। মসি নিচ থেকে বের হয়ে আসে এবং আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করে। যদিও হাল প্রথমে জুডিথ-এর মতোই মসির কথা বুঝতে পারে না। জিন কী জিনিস বা কোথা থেকে এসেছে কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু মসির পরের কথাগুলো এরকম ছিল : “জিনটা কথাও বলতে পারে! দানবটা আমার ম্যাডাম-এর সাথে কথা বলেছে এবং আমার মনে হয় ম্যাডাম ওকে চেনে। উনি তার নামও উচ্চারণ করেছেন। বোজুরড।”
হাল ভ্রু কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করল। কিন্তু মসির কথা বুঝতে পারছিল না সে। তাই ছেলেটা আবারো একই নাম বলল, “বজরড! বজরঙ!”
এবার হাল তা শুনতে পায়। মসির কথা শুনে অবিশ্বাস্যভাবে সে আঁতকে উঠে। মৃত শত্রুর কথা মনে পড়ে যায় তার। সে মসিকে জিজ্ঞেস করে, “সে কী বুজার্ড বলেছিল?”
ছেলেটি উপরে নিচে কয়েকবার মাথা নাড়িয়ে বলতে থাকে। “হ্যাঁ, হ্যাঁ! বুজার্ড।”
কয়েক মুহূর্তের জন্য হাল সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং ভাবতে চেষ্টা করল আসলে কী ঘটতে পারে। গ্রে এবং বুজার্ড দুই বিশ্বাসঘাতক একত্র হয়েছে শুধু ক্যাপ্টেন স্যার হেনরি কার্টনিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। তারা দুজন সম্ভবত তৃতীয় কোনো পক্ষের সহযোগিতায় জুডিথ এবং তার শেষ দেখতে চায়। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু সে এখনো বেঁচে আছে। এখন কেবল একজনই বলতে পারে জুডিথকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
“মসি, আমার পিস্তলটা নিয়ে এসো,” সে বলল। সেই সাথে মনে মনে প্রত্যাশা করতে লাগল যেন ওগুলো ঠিক জায়গাতেই পাওয়া যায়।
“তুমি কী করতে যাচ্ছ?” অ্যাবোলি জিজ্ঞেস করে।
“আমি মহামান্য রাষ্ট্রদূত-এর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি,” সে বলল। “তুমিও আমার সঙ্গে যাচ্ছ। এমনকি জাঞ্জিবার-এ আমাদের যত লোক আছে সবাই যাবে আমার সাথে। আমি আশা করি সে আমাকে সবকিছু খুলে বলবে।”
“না,” অ্যাবোলি তার মাথা নাড়ায়। এটা সঠিক উপায় নয়। ভেবে দেখ গান্ডওয়েন। রাষ্ট্রদূত-এর বাড়ির চারপাশ গার্ড দিয়ে ঘেরা থাকবে। যখনই সে জানতে পারবে যে তুমি বেঁচে আছ তখনই সে তার দরজা বন্ধ করে দেবে। আমাদেরকে অন্য পন্থায় যুদ্ধ করতে হবে নয়ত শহরের গার্ডেরা হায়েনার মতো রক্তের গন্ধে ছুটে আসবে।”
