.
ওহ আমি আমার হিসাব তো চুকাবোই-এতে কোনো ভুল নেই, পেট মনে মনে চিন্তা করতে লাগল। তারা তিনজনে কফি শপ পার হয়ে সরু রাস্তা দিয়ে দোকানীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
যেতে যেতে মি. পেট মনে মনে হাসতে লাগল। বৃদ্ধ ব্লাসফেমার মি. গ্রে ঠিকই ধারণা করেছিল। হুক্কার ধোঁয়ায় মেশানো হাসিস এবং আফিমের মিশ্রণ বেশ ভালভাবেই কাজ করেছে।
সরু রাস্তা পার হয়ে তারা আরও একটি সরু গলির প্রবেশমুখে এসে দাঁড়াল। এদিক দিয়ে নিচে যেতে হবে। হাল এবং অ্যাবোলিকে দুটি উঁচু দেয়ালের মাঝপথ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছিল পেট।”
“আপনি নিশ্চিত এই পথ দিয়ে?” হাল জিজ্ঞেস করে। অ্যাবোলির ভারী শরীর বয়ে আনতে আনতে হাঁপিয়ে পড়েছিল হাল।
“অবশ্যই,” পেটও জবাব দেয়। সেও হাঁপাতে হাঁপাতে এমনভাবে কথা বলছিল যেন আর একটি কথা বলার শক্তিও তার নেই। যদিও তার সমস্ত মনোযোগ ছিল ভেতর মুখী। এখন সে তার মাথার ভেতর আরও স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছে সেই কণ্ঠস্বর, যেমনটা শুনেছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। “নাও! ডু ইট নাও!”
এটাই উপযুক্ত সময় এবং স্থান যেখানে ওপরওয়ালা হেনরি কার্টনিকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। “তুমি দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছো, এখন অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজটা সেরে ফেল।”
পেট-এর মনে এবং শরীরে এক ধরনের প্রশান্তির বাতাস বয়ে যাচ্ছিল। সে মনে মনে চিন্তা করছিল এই অপ্রকৃতিস্থ মাতাল আফিসারটি তার জন্য কোনো অসুবিধাই বয়ে আনবে না। তার হাত পকেটে চলে যায় যেখানে সে একটি ধারালো ছুরি লুকিয়ে রেখেছে। এই ছুরিটা মি, আজার তার প্লেটের পাশে রেখেছিল। এখন যেহেতু তার ডান হাত মুক্ত রয়েছে, তাই সে এটা সহজেই ব্যবহার করতে পারবে। হাল যদিও শেষমুহূর্তে তলোয়ার আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু সেটা সে কোনো কাজেই লাগাতে পারবে না। কারণ সে ডান বাহু দিয়ে আফ্রিকান লোকটাকে বয়ে চলেছে। আফ্রিকান লোকটাকে ছেড়ে দিয়ে সে কোনোভাবেই তার তলোয়ার-এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবে না।
পেট শক্তভাবে ছুরিটার হাতল ধরে রাখল। সে তাড়াহুড়ো না করে আস্তে আস্তে এগোতে থাকে। ছুরিটা পকেট থেকে বের করে হাতটা শরীরের পাশে ঝুলিয়ে রাখল সে। তারা গলিটার প্রায় অর্ধেকটা পার হয়ে গিয়েছে। এখন যে কোনো দিকে পালিয়ে যেতে হলে সমান দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে। এটাই সঠিক সময় কাজ সারার।
“ডু ইট!” অদৃশ্য কণ্ঠটি পেটকে আদেশ দেয়।
এবং উইলিয়াম পেট এত দ্রুততার সাথে আঘাত করে যাতে তার ভিকটিম কোনোভাবেই বুঝতে না পারে। অ্যাবোলিকে পাশ কাটিয়ে তার হাতটা সোজা কার্টনির বরারব নিয়ে আসে। এরপর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিবোধহীন হেনরীকে আঘাত করে।
.
“চোখের দিকে তাকাও, গান্ডওয়েন!” অ্যাবোলি সবসময় তাকে শিক্ষা দিয়েছে। তুমি যদি ব্লেড-এর দিকে তাকাও তাহলে তুমি অনেক দেরিতে প্রতিরক্ষা করতে পারবে। ব্লেড বলে দিবে প্রতিপক্ষ এখন কী করছে। কিন্তু চোখ বলে দেবে যে এরপর সে কী করবে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অ্যাবোলি তাকে এই শিক্ষা দিয়েছে-যতদিন পর্যন্ত না এটা তার স্বাভাবিক প্রকৃতিতে পরিণত হয়েছে। তাই কোন পরিস্থিতে তাকে কী করতে হবে এটা তাকে আর চিন্তা করে বের করতে হয় না। কারণ এখন এটা তার অভ্যাস-এ পরিণত হয়েছে।
সেই স্বাভাবিক নিয়মেই হাল পেট-এর চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল-অনেক আগে থেকেই। যখন থেকে দোকান মালিকের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তাদের টেবিলে এত খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল, যখন থেকে হুক্কার সুবিধার কথা বলে ওটা টানতে পেট তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিল, কিংবা যখন থেকে অ্যাবোলি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল-তখন থেকেই সে পেটের চোখের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মন বোঝার চেষ্টা করছিল।
আর এইভাবেই হাল গ্রে-এর সাথে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছিল এবং তার মনে জেগে উঠা সন্দেহকে যাচাই করছিল। সে মনে করেছিল গ্রে হয়তো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুনজর পাওয়ার আশায় পেটকে দেশে পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহী হবে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই মুসলিম দাস ব্যবসায়ী লোকটির পেটের মতো একজন পাগলাটে লোকের সাথে এত বেশি বন্ধুত্ব দেখানোর ব্যাপারটা তার কাছে মোটেও স্বাভাবিক মনে হয়নি।
এর একটাই অর্থ হতে পারে-গ্রে এবং পেটকে দেখতে যতটা সহজ-সরল মনে হয় আসলে তারা তা নয়। হাল-এর মনে ভয় কাজ করছিল যে সে নিশ্চয়ই গ্রে-কে চিনতে বড় কোনো ভুল করেছে। গ্রে নিশ্চয়ই গোল্ডেন বাউকে বড় কোনো সমস্যায় ফেলতে যাচ্ছে। সেই অনুমান এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। গ্রে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।
যেদিন হাল ঘুম থেকে উঠে পেটকে বিছানার পাশে দেখতে পেয়েছিল সেদিনই তার মনে হয়েছিল যে পেট কিছু একটা নিয়ে ফন্দি আঁটছে। সে নিশ্চয়ই ট্রোম্পকে কোনো কারণে যুদ্ধ করার জন্য বাধ্য করতে চাচ্ছিল। এরপর বন্দুক যুদ্ধের সময় ইচ্ছে করেই চুপচাপ থাকা, ট্রোম্প গুলি করার পর আস্তে ধীরে নিশানা ঠিক করে গুলি করা, এবং সেই গুলি যখন ট্রাম্পকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয় তখন তার ক্রুদ্ধ মুখভঙ্গি, এগুলো মোটেও কোনো শান্তিপ্রিয় ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্য নয়। এগুলো একজন খুনির বৈশিষ্ট্য।
