হাল তার মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, “আমি এখনো আমার বাবার কাছে দেয়া কথায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যখন আমি সেটা থেকে মুক্ত হতে পারব তখন আমি আপনার সাথে যোগ দেব। সেদিন আসার আগ পর্যন্ত অ্যাবোলি আপনাকে সঙ্গ দিবে…”
“অবশ্যই…তাহলে বলি,” শুনুন। “আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে গতকাল মার্কেটের সামনে অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তাটা কী বলছিল? আমার ধারণা সে আসলে ওমানের রাজা জেনারেল আহমেদ এল গ্রেং-এর অনুসারীদের কথা বলছিল, যারা আবারো হলি গ্রেইল আত্মসাৎ করেছে। আপনি এল গ্রেং-এর নাম শুনেছেন?”
“আমি ভাল করেই জানি এই এল গ্রেং-কে ছিল। আমি তার সাথে যুদ্ধও করেছি,” হাল বলল।
“ও আচ্ছা… আর সেই দিন ভবিষ্যদ্বক্তা অন্ধ লোকটি বলছিল যে এই ঘটনা পৃথিবীটাকে ধ্বংস করে দিবে। হলি গ্রেইল-এর চোর আমাদেরকে অন্ধকারে পতিত করবে।”
হাল একটা বিস্ময়সূচক অভিব্যক্তি দিয়ে বলে, “হুম… আমার মনে হয় না অন্ধ লোকটির ভবিষ্যদ্বাণী কোনো গুরুত্ব বহন করে।”
“গ্রে-ও তাই মনে করে, পেট উত্তর দেয়। “সে জানতে খুবই আগ্রহী ছিল যে সেই অন্ধ লোকটির কথায় আদৌ কিছু ছিল কি-না। আপনারা জানেন যে বিভিন্ন লোকজনের সাথে মি, গ্রে-র বেশ ভাল যোগাযোগ আছে। আমি আগেই বলেছি আমি সেখানে থাকাকালীন সময়েই সে বেশ কিছু খবর পায়। মি. গ্রে সেই লোকটির সাথে আরবিতে কথা বলছিলেন। কিন্তু লোকটির সাথে কথা বলার সময় তার চেহারা গম্ভীর হতে থাকে।” এরপর লোকটি চলে যাওয়ার পর তিনি আমার দিকে ফিরে বলেন, “আমি যা ভয় পেয়েছিলাম, সেটা সত্য।” “ক্রিশ্চিয়ানদের সেই মূল্যবান গুপ্তধন যেটার জন্য ক্যাপ্টেন কার্টনি এবং জেনারেল নাজেত প্রাণপ্রণে সাহসের সাথে যুদ্ধ করেছেন, সেটা পুনরায় এল গ্রেং-এর হাতে গিয়ে পড়েছে।”
“সে কী আপনাকে আরো কিছু বলেছে?” হাল ভ্রূ কুঁচকে বলল।
“হ্যাঁ বলেছে… সে বলেছে যে সেই ইথিওপিয়ান বালক রাজা অথবা তাকে যে বিশপটা উপদেশ দেয় সে বলেছে…”
“ফেসিলাইডস।”
“হ”, “ফেসিলাইডস-ই তার নাম”… “সেই ফেসিলাইস গুপ্তচর পাঠিয়েছে জেনারেল নাজেকে খুঁজে বের করার জন্য।”
হাল চোখ বড় বড় করে বলে, “আপনি কী তাকে কিছু বলেছেন? জেনারেল নাজেত এখানে আছে-আপনি কী তাকে একথা বলে দিয়েছেন?”
“মাই ডিয়ার ক্যাপ্টেন কার্টনি। আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি আপনারা সেখানে উপস্থিত থাকার সময় যতটা বিচক্ষণ ছিলাম আপনারা চলে আসার পরও ঠিক ততটাই ছিলাম। কিন্তু আপনি যখন আমার বিচক্ষণতা এবং বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তখন ব্যাপারটা আমার মনে দাগ কেটেছে। আমার বিশ্বস্ততার কারণেই কোম্পানির পরিচালকরা খুবই সংবেদনশীল ব্যাপারে আমার ওপর ভরসা রেখেছেন, আর…”
“আমি ক্ষমাপ্রার্থী মি. পেট। একজন স্বামী হিসেবে স্ত্রীকে নিয়ে আমারও চিন্তা হয়। আমি কথাগুলো আপনাকে অপমান করার জন্য বলিনি। কিন্তু তারপরেও যদি আপনি সেরকম ভেবে থাকেন…”।
“না, না, আমি সেরকম কিছু ভাবছি না।” পেট ভ্রুকুটি করে বলে। “মি. অ্যাবোলি। আপনাকে এমন অদ্ভুত দেখাচ্ছে কেন?”
হাল খুব দ্রুত অ্যাবোলির দিকে তাকিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বলল, “অ্যাবোলি, আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?”
অ্যামোডোডা যযাদ্ধার চেহারা রক্তশূন্য হয়ে গিয়েছে। তার চোখ দৃষ্টিশূন্য, মুখে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। তার নিজের ভাষায় বনের লোকদের সাথে যেভাবে কথা বলে এখন সে ঠিক ওভাবেই কথা বলছে। হালকে ছোটবেলা থেকেই সে এই ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তবে ওর কথাগুলোর সারমর্ম বুঝতে পেরেছে হাল।
“তার অবস্থা ভাল নয়।” কিছু একটা তাকে এরকম অসুস্থ করে দিয়েছে। মি. পেট, আমি এটা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, “আপনার এই উপকারী ধোঁয়া, যেটা আপনি তাকে নিতে বাধ্য করেছেন, সেটাই তার এই অবস্থা করেছে, হাল খুব ক্রুদ্ধস্বরে কথাগুলো বলে উঠল।
পেট একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে। “সেটা হতে পারে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবাইকে সমান করে তৈরি করলেও আমরা সবাই কিন্তু সমান নই। আমি অনেক ইন্ডিয়ান এবং অ্যারাবিয়ানদের দেখেছি কোনোরকম প্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই হুক্কা সেবন করতে।” “পার্সিয়ানরাও এটার উপাদানে অভ্যস্ত। কিন্তু সম্ভবত আফ্রিকানরা এটার উপাদানে অভ্যস্ত নয়। তাছাড়া এমনও হতে পারে যে হয়ত এখানকার বাতাস ওর সহ্য হয়নি, বা সে এমন কিছু খেয়েছিল যাতে তার এই অবস্থা হয়েছে।”
“সে যাই হোক, সেটা নিয়ে আমি এখানে বিতর্কে জড়াতে চাই না। আমি দ্রুত তাকে নিয়ে আমাদের জায়গায় ফিরে যেতে চাই। তার সঠিক যত্ন প্রয়োজন। ওষুধের দোকানীটা হয়ত তার জন্য কোনো ঔষধী গাছ অথবা মিশ্রণ খুঁজে দিতে পারবে।”
“সেটাই ভাল হবে,” পেট বলল, “আমি আপনাকে সাহায্য করছি।”
সে এবং হাল উঠে দাঁড়ায়। অ্যাবোলির দুপাশ দিয়ে দুজনে তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করে। মনে হচ্ছিল লম্বা কোনো গাছ ঝড়ের বাতাসে হেলে পড়ে যাচ্ছে। “উঠুন, মি. অ্যাবোলি,” পেট অ্যাবোলির বাহু নিজের কাঁধের ওপর ফেলে তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করে। হালও অপর পাশ থেকে অ্যাবোলিকে ধরে রাখে। “আমরা আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেব। আমাদের খাবারের মূল্য নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। আপনাদেরকে পৌঁছে দিয়েই হিসাব চুকানোর জন্য আমি আবার এখানে ফেরত আসব।”
