“কিন্তু স্যার একটা কথা না বলে আমি থাকতে পারছি না। কিছু মনে করবেন না যদি আমি বলি যে আপনার অবস্থা একসময় যতটা ঈর্ষণীয় ছিল এখন ততটা নেই। আমি এটাও না বলে পারছি না যে, আপনার দেয়ালটা দেখে মনে হচ্ছে, সেখানে আরও কিছু ছবি ছিল যেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অথবা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। যদিও আপনার বাড়ির সামনের জায়গাটুকু অনেক মনোরম এবং ঝরনাটার চারপাশে অনেক ফুলের গাছ লাগানো আছে। কিন্তু আমি এটাও উল্লেখ না করে পারছি না যে, আপনার চাকর-বাকরেরা এগুলোর সঠিক যত্ন নেয় না। যদিও তাদেরকে দেখে মনে হয় তারা তাদের মনিবের প্রতি যথেষ্ট বাধ্যগত কিন্তু তাদের কাজের মাধ্যমে সেটা প্রমাণিত হয় না।”
“পর্যবেক্ষক হিসেবে আপনার প্রশংসা না করে পারছি না, মি. পেট,” বেশ তীক্ষ্ণভাবেই গ্রে কথাটা বলল।
“আমার ব্যবসার স্বার্থেই আমাকে এটা করতে হয়।”
“তাহলে আপনাকে একজন দক্ষ ব্যবসায়ীই বলতে হয়। আমিও জানি অন্যায় ও অবিচার এর মধ্য দিয়ে গেলে কতটা দুর্ভোগ-এর স্বীকার হতে হয়। আমি স্যার হেনরি কার্টনির কথা বিশ্বাস করেছিলাম। উনি যে ভদ্রলোকের মুখোশ পরে থাকেন, ওটা আমি আগে বুঝতে পারিনি।”
“আমি জানতে পেরেছি যে, সে কৌশলে আপনার কাছ থেকে সব তথ্য আদায় করে নিয়েছিল।”
“সেটা সত্য। সে এখানে আমার বন্ধু হতে এসেছিল। কিন্তু আসলে সে তার জাহাজকে একজন সত্যিকার সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিয়ে এসেছিল। সেই সাথে যুদ্ধ করেছে সেই লোকটার বিরুদ্ধে, যাকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিল সে।”
পেট অনেক কষ্ট করে লোকটির এই ব্লাসফ্যামী সহ্য করে যাচ্ছে। এই লোকটিকে শাস্তি দেয়ার জন্য যে তার মাথার ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু সে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে কারণ তাকে তার কাজ শেষ করতে হবে। আর সেজন্য মি, গ্রে’র সহযোগিতার প্রয়োজন পড়বে। তাই গ্রে’র আচরণ তার মনে যতই বিদ্রোহ জাগিয়ে তুলুক তাকে চুপচাপ থাকতে হবে।
“আমি ধারণা করতে পারছি যে কার্টনির কৃতকর্মের জন্যে আপনাকে অন্যায়ভাবে দোষরোপ করা হয়েছে।”
“একদম ঠিক। আমার জন্য সব দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে পেট। একজন সম্মানীত ব্যক্তি হিসেবে যে দরজাগুলো একসময় আমাকে স্বাগত জানানোর জন্য সদা প্রস্তুত থাকত, সব। আমার ভাগ্য একসময় যতটা সুপ্রসন্ন ছিল ঠিক ততটাই দুর্ভোগ চলছে এখন। আমার জীবনে এমন ভাটা এর আগে কখনো পড়েনি। কিন্তু কার্টনি আমার সঙ্গে এইরকম মিথ্যে বলার পরেও কীভাবে নির্লজ্জের মতো ধৃষ্টতাভরে এখানে নিজের চেহারা দেখাতে আসে? যদি সে এখানে তার অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে আসত এবং পুনরায় বন্ধুত্ব স্থাপন করতে আসত আমি হয়ত দ্বিতীয় বারের মতো একটা সুযোগ দিতাম। কিন্তু ক্ষুদ্র অপরাধবোধ বা অনুশোচনাও তার মধ্যে দেখিনি আমি।”
“তার তারুণ্যই হয়ত এসব দমিয়ে রেখেছে। কার্টনি হয়ত এখনো তার ভুলের গভীরতা বুঝতে পারছে না। সে এমনভাবে চলছে যে দেখে মনে হচ্ছে, সে কোনো মজার খেলা খেলছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত দেখতে পারছি যে সে নিজের গলায় নিজেই ফাঁস পরতে যাচ্ছে।”
“এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, আপনি নিজ হাতে তার ফাঁসি দিতে চাচ্ছেন?”
“বেঁচে থাকার জন্য একজন লোককে কত কী করতে হয়, সেটা আপনি আমার থেকেও ভাল জানেন, মি. গ্রে।”
“অবশ্যই জানি। কিন্তু জাঞ্জিবার-এর সেই সব মানুষের কথা চিন্তা করে হলেও এই কাজ করতে হবে যারা তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা খুবই খুশি হবে যদি তারা কার্টনির হাত থেকে মুক্তি পায়। সেই সাথে যে আমাকে এই কাজে সাহায্য করবে তার প্রতিও তারা কৃতজ্ঞ থাকবে।”
“আমি আপনার সহযোগী হতে পারলে খুশি হব। আমাদের আলোচনায় আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে আসা উচিত। জাঞ্জিবার-এ কার্টনি কিন্তু একা আসেনি। তার সাথে তার স্ত্রীও রয়েছে যে কি-না তার সন্তানের মা হতে যাচ্ছে।”
গ্রে’র চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে বিস্ময়াবিভূত হয়ে খাবারের টেবিলের দিকে তাকিয়ে রইল। “সে এখন এখানে আছে? যে গুজব শোনা গিয়েছিল সেটা কী তাহলে সত্যি? হাল কার্টনি জেনারেল নাজেতকে সাথে করে নিয়ে এসেছে। সেই বিখ্যাত, শক্তিশালী ওমানী যোদ্ধা। যে কি-না জেনারেল এল গ্রেং-কে পরাজিত করে ছোট্ট আইয়াসুকে সিংহাসনে বসিয়েছে?” সে বাতাসে আঙুল দিয়ে তুরি মেরে বলল, “অথবা আমার বলা উচিত ক্রিশ্চিয়ান মহারাজা, রাজার রাজা, গালা এবং অ্যামহারার শাসন কর্তা, খ্রিস্টীয় বিশ্বাসে আত্মসমর্পণকারী ব্লা ব্লা ব্লা…কার্টনি তাহলে ইথিওপিয়া থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য এই কালো মুক্তোকে বেছে নিয়েছে?”
“সে আসলেই জেনারেল জুডিথ নাজেত। এবং আমি জানি তাকে কোথায় পাওয়া যাবে। এখন আমাদের আলোচনায় আসতে হবে যে আমাদের কিভাবে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমাকে অবশ্যই একটা পার্স জোগাড় করতে হবে এবং সেই সাথে লাগবে আরও কিছু জিনিস-আর্ল অব কাম্বারল্যান্ড-এর সাথে-সাথে আমার টুলবক্সও তলিয়ে গিয়েছে। আমি আপনাকে আরেকটা পরামর্শ দেই। যদি কার্টনি এবং নাজেতকে কোনোভাবে আলাদা করা যায় তাহলে আমাদের কার্য সম্পাদনে সুবিধা হবে। এক্ষেত্রে একটু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আর সে ব্যাপারে আমি আপনার পরামর্শ আশা করব।”
