“পাঁচ’শ গিনী?” আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে আপনি এতগুলো টাকা কীভাবে পাবেন। কী এমন কাজ করেছেন যার বিনিময়ে আপনি এতগুলো টাকা পাচ্ছেন?
পেট অভিব্যক্তিহীন চোখে গ্রে-র চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি গোডিংস-কে হত্যা করেছি।”
গ্রে ক্ষিপ্ত হয়ে এক লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। “গেট আউট।” সে সরাসরি দরজার দিকে ইশারা করে বলল, “আমার মনে হয় কার্টনি ইচ্ছে করেই আপনার এইসব ফালতু গল্পসহ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার সাথে এইসব ফালতু গল্প বলে লাভ নেই। আমি গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার আগে আপনি বের হয়ে যান।”
পেট একটুও নড়ল না। এমনকি তার অভিব্যক্তিতেও কোনো পরিবর্তন আসল না। বরং গ্রে কথা শেষ করার আগ পর্যন্ত সে নীরবে অপেক্ষা করল। এরপর বলল, “আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি আমি আপনাকে যে কথাগুলো বলেছি তার একচুলও মিথ্যে নয়। আমি এগুলোর প্রমাণ দেখাতে পারি। কিন্তু সেজন্য আপনাকেও আমার খুন করতে হবে। এই ছোট্ট চামচটা যেটা আপনি একটু আগে ব্যবহার করেছেন, কিংবা এই ছোট্ট ট্রেটা যেটার ওপর মিষ্টির প্লেটগুলো রাখা আছে অথবা শুধু আমার হাত দিয়ে কাজটা আমি সহজেই করতে পারি।”
গ্রে-র মনে হল তার শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে গিয়ে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। পেট-এর কথাবার্তার মধ্যেই ভয়ের কিছু একটা ছিল। সে কাউকে কত সহজে হত্যা করতে পারে শুধু সেই কথাটাই জানিয়েছে। এতে খুব স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে কাউকে বশে আনতে খুব বেশি পরিশ্রম করতে সে নারাজ।
“আমি তোমাকে প্রিন্স জাহান-এর কাছে ধরিয়ে দিতে পারি। তিনি তোমাকে শাস্তি দেবেন,” গ্রে খুব তর্জন গর্জন করে বলার চেষ্টা করলেও সে জানে তার কথাগুলোতে কতটা ভয় মিশ্রিত ছিল।
“না, মি. গ্রে, তুমি তা পার না,” পেট বলল। “আমি জাঞ্জিবার-এ কোনোরকম অন্যায় করি নি। এমনকি সে কিংবা তার ভাই গ্রেট মোগল দ্বারা শাসিত কোনো ভূমিতেও আমি কোনো অন্যায় করিনি। যদি আপনি বলেন যে এই কথাগুলো আমি নিজমুখে স্বীকার করেছি তাহলে আমি বলব যে, আপনি মিথ্যা বলছেন। ঠিক আপনার মতো করেই বলব যে এগুলো গাঁজাখুরি গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।”
“তাই আসুন শূন্য হাতে এসব হুমকি দেয়া আমরা বাদ দেই। আমি বিশ্বাস করি যে আমি বাড়ি ফেরার জন্য যথেষ্ট টাকা-পয়সা জোগাড় করতে পারব এবং আপনি বা আপনার লোকেরা সেই ফান্ড-এর ব্যবস্থা করে দিবেন। এখন আমাকে বলুন আপনি হাল কার্টনির ব্যাপারে কী ভেবেছেন?”
ব্যাপারটা খুব একটা কঠিন হবে না। গ্রে-কে ডিভান-এ হেলান দিয়ে বসতে দেখে পেট চিন্তা করল। সে কিছু বলল না কারণ সে জানে তার যা প্রয়োজন সব তথ্যই রাষ্ট্রদূত-এর কাছে আছে। এখন শুধু এটাই দেখার বিষয় যে রাষ্ট্রদূত গ্রে কিভাবে এগোয়।
আরেকবার গ্রে তুর্কিস মিষ্টিবলগুলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। এখনও পেট চুপচাপ আছে। আর গ্রে মিষ্টি বলটা খেয়ে ঠোঁটে লেগে থাকা মিষ্টিটুকু জিব দিয়ে চেটে খাওয়ার পর বলল, “যেহেতু আপনি আপনার গল্প বলেছেন। এবার আমাকে আমার সম্পর্কে কিছু বলতে দিন…?”
পেট হাত নাড়িয়ে ইশারা করল যার অর্থ। “আচ্ছা, শুরু করুন।”
“আমি একটা নম্র ও ভদ্র পরিবার থেকে এসেছি। সে জন্য আমি গর্ববোধ করি। আমার জন্ম এবং বেড়ে উঠা ইয়র্কশায়ার-এর হেবডেন ব্রিজ-এ। আমি জানি আমাকে দেখতে হয়ত সেরকমটা মনে হয় না। কিন্তু ইয়র্কশায়ার ম্যান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আমার বাবা-মা ভ্রমণকারীদের জন্য একটা সরাই খানা চালাত। মাঝে মাঝে আমাদের সরাইখানায় দক্ষিণ থেকে এমনকি লন্ডন থেকে ভ্রমণকারীরা আসত এবং তখন আমার মনে হত আমাকে আমার ভাগ্য অন্বেষণে বের হতে হবে। তাই আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই। তখন আমার পকেটে মাত্র কয়েক পেনী ছিল। তার দুই বছর পর আমি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে কেরানি হিসেবে যোগদান করি। আমার মা-বাবার কাছে এটা ছিল অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু আমার কাছে এটা ছিল শুধু শুরু।”
“আপনি দেখেন মি. পেট। সব শ্রেণির মানুষের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলার এক ধরনের ক্ষমতা আমার আছে। আমি ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা পছন্দ করি। এমনকি সুলতান এবং মহারাজার সাথেও আমার বন্ধুত্ব আছে। আমি লর্ড আর লেডিসদের বিনোদনের ব্যবস্থা করি। আমি এমন সব পর্তুগীজদের সাথে আহার করি যাদের সম্পদ সম্পর্কে আপনি ধারণাই করতে পারবেন না। একটা অনুষ্ঠানে ইংল্যান্ডের মহারাজার সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলাম আমি।”
আমার মনে হয় না অনুষ্ঠানটা মহারাজার কাছে এতটা স্মরণীয় ছিল। পেট মনে মনে ভাবল। গ্রে আবার বলতে শুরু করল, “জাঞ্জিবার-এর মতো শহরে কেউ শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচতে পারে না। ছিনতাই, পকেট মার, দাস ব্যবসা কিংবা অন্য কোনো অন্যায়ের সাথে তাকে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত হতেই হবে। বিশ্বের যেকোনো মানুষকে হয়ত দেখা যাবে কোনো গলিতে দাঁড়িয়ে এমন কারও সাথে ব্যবসা করছে যে কি-না কিছুক্ষণ আগে তার মেয়েকে বিক্রি করে দিয়ে এসেছে।”
“এই স্বাতন্ত্র্য সবসময় দেখা যায় না,” পেট বলল।
“সেটা হয়ত ঠিক,” গ্রে ব্যাখ্যা করে বুঝাল। “আমার মতে একজন মানুষ সেরকম ব্যবহারই করে যেরকমটা পরিস্থিতি তাকে করতে বাধ্য করে। আমি হয়ত আমার আজকের অবস্থানে পৌঁছতে পারতাম না যদি ভীরু, কাপুরুষের জীবন বেছে নিতাম।”
