“আমার দিক থেকে তাকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। এটা আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি ক্যাপ্টেন, ট্রোম্প বলল।
“আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তাছাড়া আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। পেটকে উদ্ধার করেছি। তাকে ভাল খাবার দিয়েছি। কিন্তু আমাদের এখন তাকে বাড়ি ফেরানোর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। যদিও আমার ইংল্যান্ড-এ পাঠানোর মতো অনেক চিঠিপত্র ছিল, কিন্তু সেসব থাক।”
“আমরা কী বাউকে জাঞ্জিবার-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছি?” অ্যাবোলি জিজ্ঞেস করে। সেখানে নিশ্চয়ই অনেকেই আছে যাদের জাহাজ আমরা ধ্বংস করেছি। তারা নিশ্চয়ই সেগুলোর সাক্ষী দেবে, আমাদের জাহাজের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।”
“আমিও সেটা নিয়ে ভেবেছি। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাউকে জাঞ্জিবার এর উপকূল থেকে এক দিনের দূরত্বে রেখে নোঙর করব। এরপর ডেফট জাহাজটাকে উপকূলের কাছাকাছি নিয়ে যাব। ট্রোম্প, কিছু সময়ের জন্য হলেও তুমি তোমার নেতৃত্ব ফিরে পেতে পার। তুমি যদি মনে কর যে তোমার জাহাজকে আমরা বিপদের সম্মুখীন করতে যাচ্ছি তবে বলব যে এ ব্যাপারে তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পার। কারণ সেখানে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে তোমার জাহাজকে ইস্ট ইন্ডিস-এর পানিতে দেখেছে। তাছাড়া, আমরা তোমার জাহাজের নাম বদলে ফেলব। ডেফট-এর নাম রাখব ক্রিস্টিনা। কারণ, আমি জানি এই নাম তোমার অনেক পছন্দের।”
সমবেত সবাই হেসে উঠে। তারা জানে যে এটা সেই অ্যাডমিরাল-এর কন্যার নাম যার সাথে ট্রোম্প প্রথমে প্রণয় গড়ে তুলে পরে বেইমানি করে পালিয়ে আসে। সবার সাথে সাথে ট্রোম্পও হেসে উঠে। “যখন বাতাভিয়া ছেড়ে এসেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম যে অবশেষে ক্রিস্টিনার কাছ থেকে পালাতে পেরেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, পুরোপুরি পারিনি।”
“বাউ-এর ভাল ভাল নাবিকেরা তোমার সাথে থাকবে,” হাল বলতে থাকে। “এর দুটো কারণ আছে। কারণ প্রথমত, এরা তোমার ওপর নজর রাখতে পারবে। দ্বিতীয়ত, আমি যখন উপকূলে থাকব সেখানে হয়ত আমি অস্ত্র নিয়ে যেতে পারব না। কিন্তু আমার প্রয়োজন হলে সময়মত যেন ওরা চলে আসতে পারে, সেই জন্যই তাদেরকে নেয়া। রাষ্ট্রদূত গ্রে হয়ত আমাকে একবার দেখলেই চিনতে পারবে। আর সে নিশ্চয়ই এখনো আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আছে।”
“তুমি তার সাথে প্রতারণা করেছিলে, গান্ডওয়েন, অ্যাবোলি বলতে থাকে। “যদি কোনো লোক আমার সাথে এরকম করত তবে আমিও তাকে ক্ষমা করতাম না।”
“আমি তার সাথে সরাসরি প্রতারণা করি নি।” হাল যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করল। “আমি ওর মাধ্যমে একটা আদেশপত্র নিয়েছিলাম-আরব সৈন্যদের সাথে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করার ব্যাপারে। আর সেকারণে আমি তাকে যথেষ্ট পরিমাণ টাকাও দিয়েছিলাম। তবে এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি যে আমি মুসলিমদের হয়ে কখনো ক্রিশ্চিয়ানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতাম না। আর আমি বিশ্বাস করি না যে সে ব্যাপারটা জানত না। আমি এ ব্যাপারেও নিশ্চিত যে আমার কাজের জন্য তাকে কখনোই দায়ী করা হয়নি। আর যদি করা হয়ও, তাহলে তার সম্পর্কে একটা কথা তোমাদের জানিয়ে দেই। কনসাল গ্রে হচ্ছে এমন একজন মানুষ যার কাছে টাকা-পয়সা হচ্ছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে আমি তার কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করব।”
অ্যাবোলিকে দেখে মনে হচ্ছিল, ব্যাপারটা এখনো তার পছন্দ হচ্ছে না। কিন্তু সে কোনো কথা না বলে চুপচাপ বসে ছিল। সে জাহাজের অন্যান্য কর্মকর্তার সামনে কখনো হাল-এর কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন করতে চায় না। তারা যতই বিশ্বাসী এবং সিনিয়র কর্মকর্তা হোক না কেন।
পরিকল্পনা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হলো। জুডিথ এবং হালকে রেখে সবাই আস্তে আস্তে বের হয়ে গেল।
“আমি কী তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারি?” জুডিথ জিজ্ঞেস করল।
“অবশ্যই, মাই লাভ”, হাল জবাব দেয়। এরপর সে জুডিথ-এর দিকে ভ্রু কুঁচকে অকিয়ে বলে, “তোমার কী শরীর ভাল না?”
সে হেসে হাল-এর কপালে হাত রাখে। “আমি ভাল আছি। কিন্তু আমার পেটে সন্তান। যতই দিন যাচ্ছে আমি আস্তে আস্তে দুর্বল এবং কাহিল হয়ে পড়ছি। আর কিছুদিন পর যখন সময় আসবে তখন হয়ত আমাকে তীব্র ব্যথার সম্মুখীন হতে হবে।”
“না, আমি সেটা হতে দিব না,” হাল জোর দিয়ে বলে উঠে।
জুডিথ হেসে ফেলে, “এমন অনেক কিছু আছে যেটা তোমার আদেশের বাইরে। এমনকি সেটা যদি তোমার জাহাজে ঘটে তবুও।” জুডিথ বলতে থাকে। “সন্তান জন্ম দেয়া হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন এবং বেদনাদায়ক কাজ। এ কারণেই এটাকে বলা হয় লেবার। আমার মনে হয়, আমাকে সাহায্য করার জন্য জাহাজে আরেকজন নারী থাকলে ভাল হত। অন্তত যখন সময় আসবে তখন যেন আমরা উপকূলে গিয়ে একজন ধাত্রী খুঁজে বের করতে পারি।”
“আফ্রিকায় এমন কাউকে খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে, ডালিং।”
“সেটা হত না যদি আমি বাড়িতে থাকতাম। সেখানে আমার বাড়ির সব মহিলা থাকত, চাকরবাকর থাকত। কিন্তু আমাদের এখন কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। কিছু ঔষধি গাছ এবং লতাপাতা আছে যেগুলো দিয়ে মিশ্রণ প্রস্তুত করে খেলে আমার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে। আমার মনে হয় জাঞ্জিবার-এ কোনো না কোনো কবিরাজ পাওয়া যাবে যার কাছে এসব পাওয়া যাবে।”
