“এদেরকে দিয়ে হবে, মি. টেইলর,” হাল বেশ সন্তুষ্ট হয়ে বলে। “আমাদের লোকেরা কী ওদের ভালভাবে গ্রহণ করেছে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।”
“ওদের নিয়ে অবশ্য কিছুটা হাসি ঠাট্টার ব্যাপার ঘটে। তবে সেটাও একদিক থেকে ভাল। তাই না ক্যাপ্টেন।”
কথার মধ্যে যদিও উৎফুল্লতা ছিল কিন্তু হাল-এর কেন জানি মনে হাল-এমন কিছু একটা আছে যেটা নেড টেইলর তাকে বলতে চাচ্ছে না।
“আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা নিয়ে সমস্যায় আছ। সেটা কী আমাকে বল।”
“ওহ, তেমন কিছু না। ক্যাপ্টেন।”
“সেটা আমি বিচার করব। আমাকে বল।”
টেইলর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এরপর লম্বা টান দিয়ে পাইপ থেকে বুকভর্তি করে তামাকের ধোয়া টেনে নেয়। এরপর আস্তে আস্তে সেই ধোয়া ছাড়তে থাকে। হাল তাকে ভাবার সময় দেয়। অবশেষে নেড টেইলর বলতে থাকে, “ব্যাপারটা মি. পেটকে নিয়ে। আমি তাকে অসম্মান করছি না। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে নাবিকরা মি. পেটকে মেনে নিতে পারছে না। একদমই না।”
হালকে তার পিতা এমনভাবে বড় করেছেন যেন সে তার লোকদের ভাল করে দেখাশোনা করতে পারে। “ধরো, তুমি ঝড়ো বাতাসের সময় তোমার লোকদের টপগ্যালান্ট-এ উঠতে বললে কিংবা কামানের গুলির মাঝে শত্রুর জাহাজ আক্রমণ করতে বললে”, স্যার ফ্রান্সিস কার্টনি সবসময় এভাবে বলতেন, “যদি তোমার প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা না থাকে, তাহলেও তারা এই কাজগুলো করবে-কিন্তু তীব্র অনীহার সাথে। কিন্তু তুমি যদি তাদের পাশে থাকো, তাদের প্রয়োজন ঠিকমতো মেটাতে পারো, তাদের মতামতের গুরুত্ব দাও, তবে এই কাজগুলো করার সময় তারা একদম মন থেকেই করবে।”
অতএব, স্বাভাবিকভাবেই হাল টেইলার-এর কথাগুলোকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। “এমন বিশেষ কিছু কী আছে যেটা তারা পছন্দ করছে না?”
“প্রথমত তারা মনে করে যে পেট-এর মাথায় সমস্যা আছে। ডিনারের সময় বা লোকজনের সামনে থাকার সময় সে যথেষ্ট ভুদ্র থাকে, কারো সাথে কোনো কথা বলে না। কিন্তু সে যখন একা থাকে তখন সে আপন মনে বিড়বিড় করে, দেখে মনে হয়, সে অদৃশ্য কারও সাথে কথা বলছে। সেই অদৃশ্য কারো সাথে সৃষ্টিকর্তা, ফেরেশতা এই জাতীয় ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বলে সে।”
“ক্রিশ্চয়ান ধর্মে অনুরাগী কারও এভাবে কথা বলাতে আমি অন্যায়ের কিছু দেখছি না।”
“হ্যাঁ, ক্যাপ্টেন, সেটা হয়ত সত্য।” “কিন্তু মি. পেট-এর ব্যাপারটা সেরকম না। এটা একেবারেই অন্যরকম…” টেইলর যেন সঠিক শব্দটা খুঁজে পাচ্ছে না “আমি ঠিক বুঝতে পারছি না,” টেইলর শুধু মন্তব্য করে। তবে তাকে ঠিক স্বাভাবিক বলা যায় না। বেশ অদ্ভুত বলতে পারেন।”
হাল কিছু একটা বলার জন্য মুখ খোলার চেষ্টা করে কিন্তু নেড তার কথা কেড়ে নিয়ে বলে। তারপর তাদের দুজনের সেই মারামারির ব্যাপারটাও স্বাভাবিক ছিল না। ট্রাম্প যখন তাকে গুলি করছিল সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেন সে কিছুই অনুভব করতে পারছে না। আবার সে যখন ট্রাম্পকে গুলি করছিল তার চেহারা একেবারেই অভিব্যক্তিহীন ছিল যেন কোনোকিছুতেই তার কিছু যায় আসে না। সে যে একজন মানুষকে গুলি করতে যাচ্ছে এটা তাকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল না। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল সে কোনো ইঁদুর বা অন্য কোনো ঘৃণ্য প্রাণীকে গুলি করছে। আর যখন সে দেখল যে তার গুলি মিস হয়েছে…
“তাকে খুব হতাশ দেখাচ্ছিল…হ্যাঁ, ব্যাপারটা আমিও খেয়াল করেছি।” হাল বলতে শুরু করে। “আমি বুঝতে পারছি নাবিকরা তাকে পছন্দ না করার পেছনে কারণ আছে। আমিও লোকটার মাঝে অদ্ভুত কিছু একটা দেখেছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না বুঝতে পারছি যে ব্যাপারটা ঠিক কী, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি, এই আরকি।” হাল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল।
“তো…আমরা এরপর কোথায় যাচ্ছি, ক্যাপ্টেন?”
“জাঞ্জিবার। সমস্ত জায়গাটা ওমানি আরব লোকদের দ্বারা চালিত হয়। যাদের কিছু লোকের জাহাজ আমরা আনন্দের সাথে লাল সাগরে ডুবিয়েছি। তাই ওখানকার উপকূলে যাওয়ার পর পরিবেশটা আমাদের জন্য বন্ধুসুলভ নাও হতে পারে। কিন্তু তারপরও…”
হাল কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করে বলল, “নেড, তুমি কী দয়া করে মি. অ্যাবোলি, মি. ট্রাম্প এবং মাস্টার ফিশারকে বলবে আজকে দুপুরে তারা যেন আমার কোয়ার্টারে এসে আমার সাথে দেখা করে। তুমিও সাথে থাকবে।”
যখন তারা সবাই একসাথে এলো, তখন জুডিথও সেখানে উপস্থিত ছিল। হাল বলতে শুরু করল, “ব্যাপারটা আমার নজরে এসেছে যে মি. পেট কোনো না কোনোভাবে নাবিকদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোক সেটা ইচ্ছাকৃতভাবে, হোক সেটা অনিচ্ছাকৃতভাবে। একারণে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে জাঞ্জিবার-এ গিয়ে আমি মি. পেটকে সেখানকার মাননীয় রাষ্ট্রদূত-এর কাছে সমর্পণ করব, যেন তিনি সহজ রাস্তায় মি. পেটকে ইংল্যান্ড-এ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে দেন।এতে করে মি. পেট এরও সুবিধা হবে এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরও লাভ হবে। সে যদি সুয়েজ-এর উত্তর দিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় যায় এবং সেখান থেকে লন্ডন-এ পৌঁছায়, তবে তার যাত্রা আরও দ্রুত হবে, এবং তাকে গোল্ডেন বাউ-এর সাথে কেপ-এ যেতে হবে না। আমি সবাইকে ডেকে এনেছি এই কারণে যে এতে কারও কোনো আপত্তি আছে কি-না। তাছাড়া মি. পেট চলে গেলে ট্রোম্প-এর সাথে তার চলমান তিক্ত সম্পর্কেরও অবসান হবে।”
