“ধন্যবাদ,” ম্যাডাম। কিন্তু তার আগে আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করছি। যখন আপনি যুদ্ধ ক্ষেত্রে যান এবং কোনো তীর্থস্থান বা পবিত্রস্থান-এর জন্য যুদ্ধ করেন তখন আপনার মনে হয়না যে অদৃশ্য স্বর্গীয় সৈন্যরা আপনার পাশে আপনার পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করছে?”
“হ্যাঁ, তা মনে হয়।” জুডিথ বলল।
“এবং সেটা নিশ্চয়ই আপনার বিজিত হওয়ার দৃঢ়বিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়?”
“হ্যা!”
“তাহলে সেক্ষেত্রে যদি আপনার বিশ্বাস থাকে তবে আমার বিশ্বাস নিয়ে আমাকে থাকতে দিন। যদি ঈশ্বরের ইচ্ছা হয় আমার অকাল মৃত্যু তবে আমি সেটাই মেনে নিব। কিন্তু নিজের নামের শেষে কাপুরুষ শব্দ নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই আমার কাছে শ্রেয়। আমি যদিও ব্যবসায়ী তবুও আমি একজন মানুষ। প্রয়োজনমতো যে কোনো সময় আমিও যুদ্ধ করতে পারি।”
“ভাল বলেছেন, মি. পেট”, হাল বলল।
“আমার প্রার্থনা থাকবে আপনার বা ক্যাপ্টেন ট্রোম্প কারও ক্ষতি না হয়ে ব্যাপারটা মীমাংসা হয়ে থাকে। অনেক মুষ্টিযুদ্ধ দেখেছি সেটাতে দুপক্ষের কারোরই রক্ত না ঝরে ব্যাপারটা মীমাংসা হয়ে যায়। আমি আশা করব এটাও সেরকমই কিছু একটা হবে। আমি এখনও প্রত্যাশা করছি ব্যাপারটা অন্যকোনো উপায়ে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়ে যাক। তবে সেটা যদি সম্ভব না হয় তবে অবশ্যই আপনি মুষ্টিযুদ্ধ করতে পারবেন।”
“তুমি কী নিশ্চিত, মাই লাভ? আমাদের তাহলে আরও ক্ষতি, আরও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হবে হবে।”
“আমার সেটা মনে হয় না, মাই লাভ। এটা হচ্ছে সম্মানের ব্যাপার। আর সম্মানের ব্যাপার নিয়ে অবশ্যই পরিতপ্ত থাকা উচিত।”
পেট দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল যে এই রমণী হয়ত তার ব্যাপারটা মেনে নিবে না। কিন্তু সে তার যুক্তিগুলো দেখানোর পর আর কোনো তর্ক করেনি। সে সেই নারী যে কিনা হাজার হাজার পুরুষকে আদেশ করে অথচ এই পুরুষের কথা এক কথায় মেনে নেয়। পেট মনে মনে হাল-এর প্রশংসা করতে লাগল। সেই সাথে সে অদৃশ্য সিদ্ধপুরুষকে কৃতজ্ঞতা জানাতে লাগল। কারণ তার কারণেই সে এবারের মতো রেহাই পেয়েছে। এর চাইতে ভাল কোনো উপায় বের করা সম্ভব হত না। সবশেষে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “ধন্যবাদ ক্যাপ্টেন।”
*
পেটকে মুষ্টিযুদ্ধের আশ্বাস দেয়ার পর বার ঘণ্টার মতো পার হয়ে = গিয়েছে। হাল আর চাচ্ছে না ব্যাপারটাকে অমীমাংসিতভাবে ঝুলিয়ে রাখতে। তাই সকালের সূর্য উঠার সাথে সাথেই ওটার আয়োজন করা হয়েছে। দুজন মানুষ বিশ গজ দূরত্বে জাহাজের ডেক-এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পেট তার পেছন দিকটা জানালার দিকে দিয়ে রেখেছে, আর ক্যাপ্টেন ট্রোম্প ঠিক তার বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। নাবিকেরা সবাই চারপাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে উৎসাহ নিয়ে। আটজন ওলন্দাজ বন্দিকে উপরে উঠিয়ে আনা হয়েছে দেখার জন্য। এছাড়াও যে সব নাবিককে বাউ জাহাজটি নোঙর করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারাও। দাঁড়িয়ে প্রস্তুত হয়ে আছে আজকের আয়োজন দেখার জন্য। অ্যামাডোডা সৈন্যরা যারা সবসময় জাহাজটার ওপর নজরদারি করে বেড়ায় তারাও আনন্দে উল্লাসধ্বনি করছে।
“তুমি চাইলে এখনও এটা বন্ধ করতে পার।” জুডিথ হালকে উদ্দেশ্য করে বলে। সে হাল-এর পেছনে জাহাজের পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তারা দুজনেই আয়োজনের মধ্যমণি লোকদুটির দিকে তাকিয়ে আছে। যারা এই মুহূর্তে নিজেদের পিস্তল ঠিক জায়গামতো আছে কি-না দেখে নিচ্ছিল। সেই সাথে চোখ দিয়ে আশেপাশের প্রতিটা দূরত্ব মেপে নেয়ার চেষ্টা করছিল।
হাল মাথা নাড়িয়ে জবাব দিল, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে প্রথমে সে যতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল জুডিথ-এর কথায় সেটা অনেকটাই উবে গিয়েছে। এখন সে দোটানার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। পরামর্শের আশায় অ্যাবোলির দিকে তাকাল সে।
“তাদেরকে যুদ্ধ করতে দাও, গান্ডওয়েন”, অ্যাবোলি বলতে থাকে। মি. পেট যেহেতু তার আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার লড়াই করতে চাচ্ছে, তাকে তা করতে দিন। বিষ ছড়িয়ে পড়ার আগে ক্ষতটা কেটে পরিষ্কার করে ফেলাটা অনেক ভাল। নয়ত এই বিষ অন্যান্য নাবিকের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অনেক ক্ষতি করে ফেলবে। ডেনিয়েল এরই মধ্যে একজন ওলন্দাজ সৈন্যকে আধামরা অবস্থায় বাঁচিয়েছে, যাকে আমাদের দুজন নাবিক ইচ্ছেমতো পেটাচ্ছিল।
“কিন্তু যদি ট্রোম্প মি. পেটকে হত্যা করে তখন কী হবে?” তখন কী ব্যাপারটা আরও খারাপ হবে না? আমাদের লোকেরা কী সেটা মেনে নিবে?
অ্যাবোলি কাঁধ ঝাঁকায়। “তোমার কি মনে হয় ব্যাপারটা নিয়ে তারা মাথা। ঘামাবে? পেট একজন ইংরেজ হতে পারে বটে কিন্তু সে আমাদের জাহাজের কোনো নাবিক নয়। কেউ তার জন্য কাঁদবে না। ওদেরকে যুদ্ধ করতে দাও।”
হাল অ্যাবোলির কথাগুলো ভেবে দেখল; যুক্তিগুলো মেনে নেয়ার মতোই। একটা অমীমাংসিত ব্যাপার-এর বিষ ছড়িয়ে পড়ার চাইতে সামনা সামনি যুদ্ধ হয়ে ব্যাপারটা মীমাংসা হয়ে যাওয়া ভাল। তাই মি. পেট-এর উচিত ট্রোম্পকে সামনা সামনি প্রতিহত করা।
ওলন্দাজ লোকটা কোনোরকম বিশৃঙ্খলা না করেই ব্যাপারটা মীমাংসা করতে চেয়েছিল।
“আমার নিশ্চয়ই এরকম প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যুদ্ধ করা ঠিক হবে না যার জেতার কোনো সম্ভাবনাই নেই?” সে এই কথাটা অনেকবার বলেছে। কিন্তু অনেকবার বলার পর যখন দেখেছে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করাটা ওর কাপুরুষতা হিসেবেই দেখছে সবাই, তখন সেও এটা মেনে নিয়েছে।
