আস্তে আস্তে পেট তার মনকে শান্ত করতে থাকে। সে তার স্টিলের পাতটা আবারও জামার হাতার নিচে রেখে দেয়, এরপর প্রেমিক যুগলের বিছানার কাছ থেকে আস্তে আস্তে সরে আসে। সে প্রায় দরজার কাছাকাছি চলে এসেছে। দরজা খুলে এখনই বের হয়ে আসবে।
দরজার বাইরে পা রাখার ঠিক আগ মুহূর্তে কাঠের মেঝেতে একটা শব্দ করে ফেলে সে। আওয়াজটা খুব একটা জোরে হয়নি। কিন্তু হালকে জাগিয়ে ভোলার জন্য ঐ শব্দটুকুই যথেষ্ট ছিল। সে দ্রুত বিছানায় উঠে বসে, এরপর চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে সামনে ঘটে যাওয়া ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করে। এরপর ভয়ের পরিবর্তে ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে। “পেট? আপনি এত রাতে আমার কেবিনে কী করছেন?”
এরপর জুডিথও আস্তে আস্তে জেগে উঠে, তারপর মৃদুস্বরে বলতে থাকে, “তোমার কী হয়েছে হেনরি?”।
জুডিথ-এর উপস্থিতির কথা মনে পড়ায় কার্টনি রাগে ফেটে পড়ে। “আপনার এত বড় সাহস? এই মধ্যরাতে আপনি আমার কেবিনে প্রবেশ করেছেন যেখানে একজন নারী উপস্থিত আছে এই কেবিনে? ব্যাখ্যা করুন কেন করলেন এটা?”
পেট একেবারে হতভম্ব হয়ে যায়। জীবনে এই প্রথমবারের মতো তার উপস্থিত বুদ্ধি ব্যর্থ হয়। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে সে। তখনই দৈব বাণীটি তাকে বলতে থাকে, “ট্রোম্প, ট্রোম্প-এর কথা ভাব।”
পেট যেন হঠাৎ করেই তার জ্ঞান ফিরে পায়। “এই অনধিকার প্রবেশের জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন ক্যাপ্টেন। আমি এখানে এসেছিলাম…কারণ… কারণ আমি কিছুতেই ঘুমাতে পারছিলাম না। আমার মাথায় একটা জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছিল যেটা আপনাকে বলা খুবই প্রয়োজন ছিল। জাহাজের অন্যান্য সদস্যদের আড়ালে।”
“তাই বলে এই মধ্যরাতে? আপনি কী পাগল নাকি?” কার্টনি তার দিকে তাকিয়ে ক্রু কুঁচকে বলল, “আপনি নিশ্চয়ই অতিরিক্ত মদ্যপান করেন নি, তাই না?”
“না, ক্যাপ্টেন, এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন। আমার কাজের সাথে মদ্যপান ব্যাপারটা যায় না। এটা শুধু…পেট তার চেহারায় এমন অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলে যেন সে তীব্র যন্ত্রণায় রয়েছে। …আমার মনের মধ্যে অসহ্যকর যন্ত্রণা কাজ করছে। আমি… আমাকে খুব তুচ্ছ একটা ব্যাপার নিয়ে অপবাদের বোঝা মাথায় নিতে হয়েছে। স্যার! যেটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
“কী অপবাদ দেয়া হয়েছে?”
“সেই ওলন্দাজ ক্যাপ্টেন, ট্রোম্প। ওহ, আমি জানি যে সে সবার সামনে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার কথার অর্থ ভুল বোঝার ভান করেছে এবং ইচ্ছেকৃতভাবে আমার সাহস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু এই লোকটাকে আমি চিনি। তার দক্ষতা এবং প্রকৃতি সম্পর্কে জানি। এরকম একজন লোকের কথা কিভাবে বিশ্বাস করা যায় যে কিনা ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষ তৈরি করার আদেশ দেয়।”
কার্টনি এবং জুডিথ দুজনেই চুপচাপ শুনতে থাকে। এতে পেট-এর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় এবং সে বলতে থাকে। “কাউকে তার সমকক্ষ সভাসদ-এর সামনে কাপুরুষ বলাটা এক ধরনের অপরাধ। সেই সাথে এই লোকটি আমাকে সাধারণ অপরাধীর মতো কি অবস্থায় বন্দি করে রেখেছিল তা আপনি নিজের চোখে দেখেছেন। আপনি দেখছেন যে একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে আমাকে থাকতে হয়েছে। একজন ভদ্রলোক সেটা কিভাবে এতবড় অসম্মান মেনে নিতে পারে।”
কার্টনি তার চোখ থেকে ঘুমটুকু মুছে ফেলে বলল, “আপনি যথেষ্ট ভাল যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন মি. পেট।”
“আমি স্বীকার করছি আপনার খারাপ লাগার যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না এসব কারণে কেন আপনাকে এই মাঝরাতে আমার কেবিনে প্রবেশ করতে হবে?”
“কারণ হচ্ছে স্যার, আমি আপনাকে একটা অনুরোধ করতে এসেছি যেটা অন্যান্য নাবিক বা বন্দিদের সামনে করা যেত না। যে করেই হোক আপনি ক্যাপ্টেন ট্রোম্প-এর সাথে মুষ্টিযুদ্ধ লড়াই-এর ব্যবস্থা করে দিবেন। আমি তার সাথে এই প্রতিযোগিতায় নামতে চাই।”
“মুষ্টিযুদ্ধ।” কার্টনি বিস্ময়াবিভূত হয়ে বলল।
“মি পেট, আপনি ঠিক আছেন তো?” জুডিথ জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ, ম্যাডাম অবশ্যই। আমি কোনোভাবেই আমার এ ইচ্ছে থেকে এদিক সেদিক হব না। আমার সম্মান কোনোভাবেই এটা মেনে নিবে না।”
“কিন্তু মি. পেট”, কার্টনি বলতে থাকে। “আমি আপনাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে বলছি যে আপনি কোনো মিলিটারি নন,..এরপর হাল কয়েক সেকেন্ড থেমে পেটকে তার কথাটা ভেবে দেখার সময় দেয়। তাই নয় কী মি. পেট?”
“না, স্যার, আমি একজন ব্যবসায়ী।”
“তাহলে আপনি জিনিস কেনা-বেচা বা হিসেব-নিকেশ এসব ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। কিন্তু ক্যাপ্টেন ট্রাম্প একজন নেভাল অফিসার। সে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকতে অভ্যস্ত। তার কথার নৈতিকতা যাই থাকুক না কেন আমি বুঝতে পারছি তার আচরণ আপনার সম্মানে লেগেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবে আমি তার যুদ্ধ দেখেছি। মি. পেট আমি যদি আপনার এই অনুরোধ মেনে নিই তবে এটা অবশ্যই আপনার মৃত্যুকে মেনে নেয়ার সমান হবে।”
“সেটা অবশ্যই একটা যুক্তিযুক্ত আশঙ্কা ক্যাপ্টেন। কিন্তু আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে আমার ব্যাপার নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে। এক্ষেত্রে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে ঈশ্বর আমার পাশে আছেন।”
“আমি সেরকম সৈন্যবাহিনীকেও পরাজিত করেছি যারা শুধু ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে বিজয় ছিনিয়ে নিতে এসেছিল মি পেট,” জুডিথ বলে উঠল। সে এক রহস্যময় পথে হাঁটছে। আমরা জানি না সে আমাদের জন্য কি পরিকল্পনা করে রেখেছে। “আমি বলছি না যে আপনার দৃঢ় বিশ্বাস-এর ওপর আমি সন্দেহ পোষণ করছি। আমি শুধু আপনাকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি।”
