এলিনা জাহানের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী নয়। এমনকি তার সঠিক মাপের চিকন ফিগারের শরীরও নয়। কিন্তু তার ঠোঁটে এক ধরনের কামুক ভাব খেলা করত। তার চোখে, তার শরীরের প্রতিটি ভজে এবং তার প্রতিটি চলাফেরায় সে যে অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতো তাতে বলা যায় সে জাহানকে যে শুধু আনন্দই দিতে জানত, তা নয়, আনন্দ কিভাবে নিংড়ে নিতে হয় সেটাও জানত। সে অবশ্য কিছুদিন আগে বুজার্ডকে দেখে মোহিত হয়েছিল-যখন বুজার্ড প্রথমবারের মতো হারেমে গিয়েছিল, সাথে ছিল শক্ত পেশিবহুল দুজন হারেম-গার্ড, যাদের উচ্চতা আর মাংসল শরীর দেখে বোঝার কোনো উপায়ই ছিল না যে তারা নপুংসক। যেখানে অন্যান্য উপপত্নী ভয়ে দূরে সরে যাচ্ছিল সেখানে এলিনা স্বইচ্ছায় অদ্ভুত মুখোশ পরা বুজার্ডের দিকে এগিয়ে আসে। সে বুজার্ডের এত কাছে চলে আসে যে বুজার্ড তার শরীর থেকে আসা সুগন্ধ খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারছিল। তার নিজের নকশা করা মুখোশ, তার অর্ধনগ্ন শরীর বুজার্ডের শরীরের সাথে প্রায় লেগে ছিল।
“এই প্রাণীটা কী স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলে, মাই লর্ড?” সে নারীসুলভ ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে জাহানকে জিজ্ঞেস করেছিল।
“না”, প্রিন্স জবাব দেয়। কিন্তু তোমার কথা ও বুঝতে পারবে।” বুজার্ড বুঝতে পারে এলিনা তার শরীরে। চাপ দিচ্ছে। বুজার্ড বুঝতে পারে তার ভেতরটা আস্তে আস্তে জেগে উঠছে। যে রক্তের প্রবাহের কারণে একজন পুরুষ মানুষ পুরুষ হয়ে উঠে সেই প্রবাহ স্বাভাবিক থাকার পরও তার কিছুই করার নেই। পুড়ে যাওয়া ক্ষত জায়গা থেকে সে শুধু মশার কামড়ের মতো এক ধরনের চুলকানি অনুভব করছে। এরপর উপপত্নীটা বুজার্ডের দিকে তাকিয়ে বলে, “মাই লর্ড কী ঠিক বলেছে? তুমি কী বুঝতে পারছ আমি কী বলতে চাচ্ছি?”
বুজার্ড কি বলবে বুঝতে পারছে না। যেন মৃত্যুযন্ত্রণা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। দুই পায়ের সন্ধিস্থল থেকে এক ধরনের অসহ্য যন্ত্রণা তার মস্তিষ্কে পৌঁছে যাচ্ছে। কিন্তু তার কিছুই করার নেই। এমনকি হাত দিয়ে সেখানে চুলকানোরও অনুমতি নেই। সে অস্পষ্টভাবে শুনতে পায় জাহান বলছে, “তুমি মাথা নাড়াতে পার।” কিন্তু তার মনে হচ্ছিল জাহান-এর কণ্ঠ যেন অন্য কোনো দুনিয়া থেকে আসছে।
বুজার্ড মাথা নাড়ায়, সেই সাথে তার কোমর এদিক সেদিক নাড়া দেয়। “ওহ”, এলিনা বেশ চিন্তাশীলভাবে বলে উঠে, “এ তো দেখি অনেক কিছুই বুঝতে পারে। কিন্তু কীভাবে?”
সে তার পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়। এরপর বুজার্ডের মুখোশের কাছাকাছি এসে বলে, “একদম চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক, কুৎসিৎ মানব, যদি তুমি বাঁচতে চাও। তার চেয়ে বড় কথা তুমি তোমার হাত নাড়ানোর চেষ্টা করবে না। যদি তুমি আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা কর তবে তোমার মৃত্যু অনিবার্য। মাথা নেড়ে সম্মতি জানাও তাহলে আমি তোমাকে এবারের মতো ছেড়ে দেব।”
বুজার্ড খুব দ্রুত দুই বার মাথা নাড়ায়, যা দেখে এলিনা পেছনে সরে গিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। “তোমার এই অদ্ভুত ঠোঁট সাবধানে রাখ, জঘন্য জানোয়ার! নয়ত তোমার ওই সুচালো ঠোঁট আমাকেও তোমার মতো একচোখওয়ালা দানবে পরিণত করে দেবে। আমার প্রিন্স কোনোভাবেই সেটা মেনে নিবে না, মাথায় রেখে কথাটা।”
এলিনা আবারও বুজার্ডের দিকে এগিয়ে এসে হাঁটুতে ভর দিয়ে বসে। বুজার্ড যে জেল্লাব পরে আছে সেটার একপাশে আস্তে আস্তে হাত দিয়ে উপরে তুলতে থাকে। তাহলে তুমি এটার নিচে কী লুকিয়ে রেখেছ?” এলিনা জিজ্ঞেস করে, এরপর সে বুজার্ডের পা, উরু নগ্ন করতে থাকে। একপর্যায়ে সে চিৎকার দিয়ে সরে আসে। তার চোখ মুখ বিরক্তিতে কুচকে আসে। এর চামড়া তো পুড়ে গিয়ে ক্ষত হয়ে আছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ওখান থেকে।”
হারেম-এর মেয়েরা ভয়ে আর্তচিৎকার দিয়ে উঠে। তবে ভয়কে ছাপিয়ে তাদের কৌতূহলটাই বড় হয়ে উঠে একটু পর। ব্যাপারটা ভাল করে দেখার জন্য তারা সামনে এগিয়ে আসে। মুখোশের পেছনে বুজার্ড লজ্জায় অপমানে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। এই অপমানের জ্বালা তার ক্ষত থেকে আসা ব্যথার চেয়েও বেশি তীব্র। তার হার্ট দ্রুত পাম্প করতে শুরু করেছে, নিঃশ্বাস এত হোট হয়ে আসছে যে সে ভয় পাচ্ছে; হয়তো সে যথেষ্ট পরিমাণ বাতাস ফুসফুসে নিতে পারছে না।
এরপর আরো একবার তীক্ষ্ণ হাহাকার শোনা যায় যখন এলিনা বুজার্ড-এর কাপড়টা একেবারে উপরে উঠিয়ে ফেলে; ক্ষতটা একেবারেই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল তখন। “দেখ,” সে অন্যান্য মেয়েকে দেখিয়ে বলে। “এই ঘৃণ্য জীবটা নারীও নয় আবার পুরুষও নয়।” এরপর সে বুজার্ড-এর পায়ের মাঝে লেগে থাকা ছোট্ট মাংসটুকুতে আঙুল দিয়ে বলল, “এটা দেখতে গোলাপের কুড়ির মতো, যেটা আমাদের এত আনন্দ দেয়, তাই না?” কিন্তু “এই ক্ষুদ্র জিনিসটা এই কুৎসিৎ লোকটাকে আনন্দ দিতে পারে কি-না, আমার সন্দেহ আছে।”
বুজার্ডের ইচ্ছে হচ্ছিল মেয়েটার ওপর প্রতিশোধ নিতে কিন্তু তার কিছুই করার ছিল না। সে মেয়েটাকে শক্ত বাহু দিয়ে জড়িয়ে ধরতে চাচ্ছে কিন্তু তার শুধু একটি বাহু আছে। আর সে যদি এই বাহুটা দিয়েও কিছু করতে চায় তবে তার মৃত্যু অনিবার্য।
সে এখন যেটা করতে পারে সেটা হচ্ছে : দু’পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। তবে পা দুটোও মনে হচ্ছে যে-কোনো মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবে।
