“হ্যা!”-হাল ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলে, “আমার পিঠেও আছে। কিন্তু আমরা ওখান থেকে বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিলাম।” “আপনি ভদ্রলোককে সেই গল্পটা বলুন।”
“কী ঘটেছিল এরপর?” পেট জিজ্ঞেস করে।
“আমার বাবার মৃত্যু দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর আমরা সবাই কোনোভাবে পালিয়ে যাই। আমরা সাগরের সেদিকে যেতে থাকি যেখানে আমাদেরকে প্রথম ধরা হয়েছিল।”
“ওরকম একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গার দিকে কেন যাত্রা করেছিলেন?”
“একটা কারণতো ছিলই। ভেবেছিলাম আমরা হয়ত বুজার্ডকে সেখানে পাব।”
“তারও সেখানে যাওয়ার নিশ্চয়ই কোনো কারণ ছিল?” পেট বলল। সে মনে-মনে একটা কথাই ভাবছিল: কার্টনির বিশ্বস্ত পুত্র যা-ই বলুক না কেন, সত্যটা হচ্ছে, গুপ্তধনের লোভ স্যার ফ্রান্সিস কার্টনি আর বুজার্ডকে একই বিন্দুতে মিলিয়ে দিয়েছিল।
“হ্যা”, হাল বলল। “কিন্তু ঘটনা আরও একটু জটিল হয়েছিল। আমরা পালিয়ে যাওয়ার কারণে শ্রিউডারকে দায়ী করা হয়েছিল, অসম্মান করা হয়েছিল তাকে। পরে আমি শুনেছি সে তার প্রেমিকা ক্যাটিংকা ভ্যান ডি ভেলডি’র কাছে গিয়েছিল। সেখানে সে ক্যাটিংকাকে স্লো জন নামে এক ঘাতকের সাথে এক বিছানায় পেয়েছিল।”
“তার মানে সে সত্যিই নষ্টা চরিত্রের অধিকারী ছিল।”
“নারীরূপী শয়তান ছিল সে”, হাল উত্তর দেয়। “মেসালিনা নামে রোমের এক সম্রাজ্ঞী ছিল যে নিজের আনন্দের জন্য বেশ্যাবৃত্তি বেছে নিয়েছিল। ক্যাটিংকাকে তার সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু সে তার পাপের শাস্তি পায়। শিউডার প্রচণ্ড ক্রোধে অন্ধ হয়ে তাকে হত্যা করে। এরপর সে তার নিজের কাজের ব্যাখ্যা করার জন্য গোল্ডেন বাউ-এর দিকে যাত্রা করে। গোল্ডেন বাউ তখন ক্যাপ্টেন ক্রিস্টোফার লেয়োনিল-এর কমান্ডে গুড হোপ-এ অবস্থান করছিল।”
“আরেকজন ভালমানুষ খারাপ নারীর পাল্লায় পড়ে ভুল কাজ করল,” উইল স্ট্যানলি বলে উঠে, যে এতক্ষণ যাবত চুপচাপ হাল-এর গল্প শুনছিল। “আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, ম্যাম,” সে বলতে থাকে, “যখন মাথা মোটা কর্নেলটা গোল্ডেন বাউ আক্রমণ করে তখন আমি সেখানে কর্মরত ছিলাম।”
“তাহলে আমি কোনো ভুল বললে আপনি তা শুধরে দিতে পারবেন,” হাল বলতে শুরু করে। “ভিসকাউন্ট নামে বাউ-এর একজন অফিসার ছিল। সে আর শিউডার বাজি ধরে পাশা খেলতে বসেছিল একদিন। শিউডার পৃথিবীতে তার যত ধনসম্পদ আছে সবকিছুই বাজিতে রেখেছিল কিন্তু পাশার চাল উইন্টারটন-এর পক্ষে যায়। শ্রিউডার সেটা মেনে না নিয়ে উইন্টারটনকে ধোকাবাজ বলতে থাকে, এরপর তাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান জানায়।”
“গাল অব মোরে” নোঙর করাই ছিল। হাল আবার বলতে শুরু করে। “দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষে উিডার উইন্টারটনকে হত্যা করে, এরপর বুজার্ড ক্যাপ্টেন লেয়ানেল-এর সাথে প্রতারণা করে তাকে গোল্ডেন বাউ থেকে বের করে দেয়। নিজেকে খুব চালাক মনে করে বুজার্ড তখন উল্লাস করছিল, কারণ সে ভেবেছিল যে তার এখন দুটো জাহাজ রয়েছে। কিন্তু আমরা যে কয়জন লেডি এডউইনার নাবিক বেঁচে ছিলাম তারা পরমুহূর্তেই সেখানে পৌঁছে যাই, এরপর বুজার্ডকে উপকূলে নিক্ষেপ করি…আর এভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ জাহাজটা সেদিন আমার হাতে চলে আসে। যদিও আমি সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে এটাকে এর সঠিক মালিকের কাছে ফেরত দেব-যদি সে বেঁচে থাকে।”
“ক্যাপ্টেন কার্টনি আপনি যখন গোল্ডেন বাউ দখল করেন তখন কী কর্নেল শিউডারকে হত্যা করেছিলেন?”
“না, তখন নয়। ইথিওপিয়ায় অভিযানের সময় করি।”
“এরপর বুজার্ডের কী হয়েছিল? সে কী এখনো তার পাখা ছড়িয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর অন্যের ধন সম্পদে ভাগ বসাচ্ছে?”
“আমি এর উত্তর দিতে পারি,” জুডিথ বলে উঠে। “বুজার্ড মারা যায়। যখন গাল অব মোরে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয় সেদিনই সে আগুনে পুড়ে মারা যায়। আমি জানি…আমি তাকে মরতে দেখেছি। আমি আশা করি সে এখনো পুড়ছে-নরকের আগুনে।
“তার উচিত শাস্তি হয়েছে। কিন্তু আপনার গল্পের ব্যাপারে আমি একটা কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারছি নে। বুজার্ড কী সাগরে সেটা খুঁজে পেয়েছিল যা সে খুঁজে বেড়াচ্ছিল?”
“আমি দুঃখিত, আমি আপনার কথা বুঝতে পারিনি,” হাল বলল। যদিও হাল বুঝতে পেরেছিল পেট কী জানতে চায়। কিন্তু সেটার সঠিক উত্তর দেয়ার কোনো ইচ্ছেই তার ছিল না।
“আমার যতদূর মনে পড়ছে আপনি বলেছিলেন যে, মুক্তি পাওয়ার পর আপনারা যে উপসাগরের দিকে গিয়েছিলেন, বুজার্ডকে সেখানে পাওয়ার একটা কারণ আছে। আমার ভুলও হতে পারে অবশ্য…কিন্তু এটা নিশ্চয়ই সেই একই সাগর যেখানে আপনার বাবা গুপ্তধনসহ রিজলিউশন নিয়ে গিয়েছিল, তাই না?”
“হ্যাঁ, আমিও একই সাগরের কথা বলছিলাম।”
“আমার ধারণা, বুজার্ড হয়ত ভেবেছিল যে আপনার বাবা স্যার ফ্রান্সিস কিছু গুপ্তধন সেখানে লুকিয়ে রেখেছেন। আর সেটা খুঁজতেই বুজার্ড সেখানে গিয়েছিল।”
“বুজার্ড হয়তো তাই ভেবেছিল। সে তার লোকদেরকে দিয়ে ঐ স্থানের আশেপাশের দ্বীপগুলোর মাটি খুঁড়েছিল। হয়তো সে কিছু একটা খুঁজছিল। কিন্তু আমি যতদূর জানি, আমার বাবা ওই উপসাগরে কিছুই লুকোনোর চেষ্টা করেননি, আর আমাকেও কখনো এরকম কোনোকিছু বলেননি। তাই অন্য কেউ যদি পূর্বে সেখানে কোনো ধন সম্পদ লুকিয়ে না রেখে থাকে তবে বুজার্ড অযথাই তার সময় আর লোকবল নষ্ট করছিল। তাছাড়া…বুজার্ড তো এখন মৃত।”
