“ধন্যবাদ, ডিয়ার,” জুডিথ বেশ লম্বা সুরে কথাটা বলে উঠল, “আমি খুবই খুশি যে আপনার স্মৃতিশক্তি এখনো নষ্ট হয়ে যায় নি। ডেনিয়েল ক্যাটিংকা ভ্যান ডি ভেলিডি নামটা অনেক সুন্দর।” “আচ্ছা, সে কী দেখতে সুন্দরী ছিল নাকি কুৎসিৎ?”
“ম্যাডাম সেটা তো সহজে বলা যায় না। সৌন্দর্য এক একজনের চোখে এক এক রকম। এটা কারও রুচির ব্যাপার। যেমন…।”
“সাদা রমণী হিসেবে বেশ সুন্দরীই ছিল সে।” অ্যাবোলি কথা বলে উঠল। “গান্ডওয়েন ওর প্রেমে পড়েছিল। সে তখন বালক ছিল। বেচারা তখনো ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি যে, একজন সত্যিকার পুরুষ যখন তার ভালবাসার নারীকে খুঁজতে থাকে, তখন তার আফ্রিকার দিকেই চোখ দেয়া উচিত। সৌভাগ্যবশত, পরবর্তীকালে সে তার ভুল সংশোধন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”
“ধন্যবাদ অ্যাবোলি, ব্যাপারটাকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার জন্য।” এরপর জুডিথ একটু গম্ভীর কিন্তু শান্তভাবে বলল, “তুমি কী আমাদেরকে ক্যাটিংকা সম্পর্কে বলবে না, ডিয়ার…?”
আরেক গ্লাস ওয়াইন শেষ করে গ্লাসটা নিচে নামিয়ে রাখে হাল। “আরে, এটা কোনো ব্যাপার?” সে বলতে শুরু করে। “তার সোনালি রঙের চুল আর বেগুনি রঙের চোখ ছিল। সে এতই জঘন্য রকমের পাপাত্মা ছিল যে স্বয়ং শয়তানও তার সামনে উপস্থিত হলে ভয় পেয়ে যেত। একবারেই নষ্টা চরিত্রের একজন নারী। আর হ্যাঁ, সে আমাকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল বটে, আর আমিও তখন সেটাতে বাধা দিতে পারি নি। কিন্তু পরে আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে সঠিক পথে ফিরে আসি, আর আফ্রিকাতেই আমার প্রিয়জন খুঁজে নিই। আর সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, আমি তোমার সঙ্গে কাটানো একটা সেকেন্ডও ক্যাটিংকা ভ্যান ডি ভেলডির সঙ্গে বিনিময় করতে রাজি নই। এবার কী আমি আমার গল্পে ফিরে যেতে পারি?”
“অবশ্যই,” জুডিথ বলল। তাকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে শুরু থেকেই ঠিক যে উত্তরটা সে খুঁজছিল, ওটাই পেয়েছে সে।
“দ্রুত শেষ করে দিচ্ছি গল্পটা। নয়তো আজ রাতে আমরা কেউই ঘুমোতে পারব না”, হাল আবার শুরু করল। “এখন বুজার্ডের কথায় আসি। আমি যেমন মসলার গন্ধ পেয়েছিলাম, ঠিক তেমনি করে সেও বাতাসে গুপ্তধনের গন্ধ পেয়েছিল। আমরা যখনই রিজলিউশন দখল করে এর ধনসম্পদ নিয়ে ফেলি তখনই সে শূন্য থেকে উদিত হয়ে তার অংশ দাবি করতে থাকে।”
“কিন্তু গুপ্তধন পাওয়ার আগেই তো বুজার্ড তোমাদেরকে একা ফেলে রেখে চলে গিয়েছিল।” বুজার্ডের ঔদ্ধত্যে বেশ রেগে গেল জুডিথ।
“একদম ঠিক এটাই আমার বাবা তাকে বলেছিল। কিন্তু বুজার্ড কোনো কথাই মানে নি। সে সোজা গুড হোপ-এর দিকে রওনা করে, এরপর যেখানে আমরা রিজলিউশন মেরামত করছিলাম আর সোনা-রুপা লুকোচ্ছিলাম, ঐ জায়গাটা ডাচদেরকে দেখিয়ে দেয়…”।
“ডাচদের লোকবল আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। সে বলতে থাকে, আমার বাবা আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি তার নিজের এতগুলো লোককে খুন হতে দেখতে চাননি। আর ঠিক তখনই, বুজার্ড দুইমুখী শয়তানের মতো কাজ করে। তারই মিথ্যে কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমার বাবাকে অকথ্য নির্যাতন সহ্য করতে হয়। শেষে নিজের জীবনটাও হারাতে হয়।”
“সে কী বলেছিল?” পেট জিজ্ঞেস করে। স্যার ফ্রান্সিস-এর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করাতে সে যে উত্তেজনা অনুভব করছিল সেটা লুকোনোর চেষ্টা করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ওকে।
“আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে যে আমি বলেছিলাম ইংল্যান্ড এবং হল্যান্ড তখন যুদ্ধে লিপ্ত ছিল? আমার বাবাকে তার রাজা ডাচ্ জাহাজ আক্রমণ এবং লুট করার আদেশ দিয়েছিলেন।”
“আমার মনে আছে, পেট জবাব দিল।
“তো, যাই হোক, একারণেই আমার পিতা যুদ্ধের নিয়ম অনুযায়ী রিজলিউশন আক্রমণ করেন। তিনি যেটা জানতেন না, সেটা হচ্ছে, তিনমাস আগে ডাচ্দের নেভী জাহাজ আমাদের ডকইয়ার্ডে হামলা চালিয়ে অনেক জাহাজ পুড়িয়ে ফেলে, যার মধ্যে আমাদের জাহাজ রয়াল চালর্সও ছিল। তারা তখন আমাদের রাজাকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আসতে বাধ্য করে।”
“লেডি এডউইনা যখন রিজলিউশন আক্রমণ করে তখন যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমরা কেউই সেটা জানতাম না। আমার বাবা দ্রভাবে সেটা জানিয়ে দেন। ডাচ কমান্ডার কর্নেল শিউডার সেই কথা মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুতও ছিল। সে যদিও আমাদের পারিবারিক শত্রু ছিল আর শেষে আমি তাকে হত্যা করি, কিন্তু সে সবসময়ই আত্মসম্মানের সাথে যুদ্ধ করত। তো যাই হোক, সে আমার বাবার ব্যাখ্যা শুনে সন্তুষ্ট হয়। এরপর কথাগুলোর সত্যতা যাচাই-এর জন্য বুজার্ডকে জিজ্ঞেস করে, কারণ সে জানত যে বুজার্ড আমাদের সাথেই ছিল। কিন্তু বুজার্ড…” হাল হঠাৎ বুঝতে পারে এই গল্প শেষ করা তার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পূর্বের স্মৃতিগুলো তাকে বেশ কষ্ট দিচ্ছিল।
বিগ ডেনিয়েল সামনে এগিয়ে আসে। “সেই মিথ্যেবাদী বাস্টার্ডটা বলে যে সে স্যার ফ্রান্সিসকে বলেছিল যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছে। সে আরও বলেছিল যে সব জানার পরও নাবিকদেরকে জাহাজ আক্রমণ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন উনি। অথচ তিনি অত্যন্ত ভাল মানুষ ছিলেন। কিন্তু এই মিথ্যেটাকে ঐ শয়তানটা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে। যার ফলে আমাদের ক্যাপ্টেনকে জীবন দিতে হয়। আমাদের সবাইকে গাল অব মোরের অন্যান্য দাসের সাথে বন্দি করা হয়। আমাদেরকে গুড় হোপ-এ নিয়ে যাওয়া হয়, সাধারণ বন্দিদের মতো অত্যাচার করা হয়। আমার পিঠে এখনো সেই চাবুকের দাগ আছে। অ্যাবোলির পিঠেও আছে। আমার মনে হয় ক্যাপ্টেন-এর পিঠেও আছে।”
