“স্যাম বাউলস নামে এক কাপুরুষের দ্বারা আমরা প্রতারিত হয়েছিলাম।” অ্যাবোলি বলতে শুরু করে। সে লেডি এডউইনাকে সাগরে ভাসিয়ে দেয়। আমরা যারা ডাচ্ জাহাজের উপরে ছিলাম তারা সেখানেই আটকা পড়ি। কিন্তু তখন আমাদের ক্যাপ্টেন-এর পুত্র তার বাবার মতোই সাহসের পরিচয় দেয়। সে লেডি এডউইনাকে পুনরায় ডাচ্ জাহাজের কাছাকাছি ফিরিয়ে নিয়ে আসে।”
“আমরা যারা সাগরে পানসিতে করে ভাসছিলাম তাদেরকেও উঠিয়ে নিয়ে এসেছিল, এটা বলতে ভুলনা অ্যাবোলি।” বিগ ডেনিয়েল বলে।
“বিজয়ের গৌরব-এর পুরোটাই আমার বাবার, আমার নয়”, হাল বলে। যদিও সে বেশ বুঝতে পারছিল যে তার বীরত্বের কাহিনী শুনে জুডিথ যথেষ্ট মুগ্ধ হয়েছে।
“এই যুদ্ধের কাহিনী কবেকার ঘটনা, এটা বলেননি আপনি,” পেট বলে। “কতদিন আগের ঘটনা এটা।”
“১৬৬৭ সালের সেপ্টম্বর মাসের চার তারিখের ঘটনা এটা।” হাল উত্তর দেয়। “দিনটির কথা আমার মনে আছে কারণ, ঐদিনই আমি প্রথমবারের মতো জাহাজের লগ-এ প্রবেশ করেছিলাম।”
“তার মানে তিন বছর আগের ঘটনা?” পেট একটু চিন্তা করে বলল। “তখন আপনার বয়স কত ছিল?”
“সতেরো বছর, মি পেট।”
“ওই বয়সেই এরকম সাহসিকতা যে দেখাতে পারে, তাকে বেশ প্রশংসার দাবিদারই বলতে হবে। কিন্তু স্যার এরপর সেই বুজার্ভ ভদ্রলোকের কী হয়েছিল, বলবেন কী?”
“সে কোনো ভদ্রলোক ছিল না, আমি আপনাকে অন্তত এইটুকু বলতে পারি। কিন্তু তার গুপ্তধন সংগ্রহের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল বলতে হবে। তার সংগ্রহে তিন’শ টন বিরল প্রজাতির শক্ত কাঠ ছিল। টিক, বালু এবং অন্যান্য অনেক কাঠ যেগুলো খ্রিস্টান রাজত্বের বনগুলোতে কখনো খুঁজেই পাওয়া যায় না। ওগুলো এতই মূল্যবান ছিল যে আমরা ঐ কার্গোকে অন্য কোনো কার্গোর সাথে তুলনাই করতে পারব না। এছাড়াও জাহাজটাতে বিয়াল্লিশ টন নানা প্রজাতির মশলা ছিল-যেমন, ককিনিয়াল-এর ব্যারেল, পিপার, ভ্যানিলা, স্যাফ্রন, ক্লোভস, কার্ডামম। এগুলো এদের সম ওজনের রুপার চেয়েও বেশি মূল্যবান ছিল। সেখানে রুপাও ছিল দশ হাজার পাউন্ড ওজনের আর তিন’শ খাঁটি সোনার বার ছিল। মি. পেট আপনি আপনার মুখ বন্ধ করে এখানে বসুন। কথা শেষ হয়নি-সেখানে আরও অনেক কিছুই ছিল।”
“আরও?” পেট হাল-এর দেয়া আরও এক পেগ ড্রিংক দ্রুত শেষ করে বলল, “এটা কী করে সম্ভব?”
“খুব সহজ”, ওলন্দাজদের জাহাজে একজন যাত্রী ছিল। তার নাম ছিল পেট্রাস ভ্যান ডি ভেলডি। সে কেপ অব গুড হোপ-এর ডাচ্ কলনীর পরবর্তী গভর্নর হতে যাচ্ছে। আমার পিতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে তার মুক্তিপণ হিসেবে দুইশ হাজার গিল্ডার সোনা অথবা চল্লিশ হাজার পাউন্ড স্টালিং চেয়েছিলেন।”
“ক্ষমা প্রার্থনা করছি ক্যাপ্টেন, কিন্তু আমার মনে হয় আপনি সবচেয়ে মূল্যবান গুপ্তধন-এর কথা বলতে ভুলে গিয়েছেন। বিগ ডেনিয়েল খানিকটা আড়চোখে হাল-এর দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল।
“আমার মনে হয় রিজলিউশন-এ যা যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল সবকিছুর কথাই আমি বলেছি।” হাল বেশ দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিল। যদিও সে বুঝতে পেরেছে যে বিগ ডেনিয়েল কিসের কথা বলতে চাচ্ছে। কিন্তু ঐ ব্যাপারে কথা বলার কোনো ইচ্ছেই তার ছিল না। ডেনিয়েল বুঝতে পারে যে, সে এবার একটা অদৃশ্য সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেছে। আর কোনো কথা না বলে চুপ হয়ে গেল সে। হাল আবারও তার গল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু নারী জাতির কৌতূহলের কারণে পুনরায় তাতে বাধা পড়ে।
“আপনার গল্পে বাধা দেয়ার জন্য দুঃখিত,” জুডিথ বলে উঠল। “যেহেতু আমার মনে হচ্ছে যে, আপনি ভুলে গিয়েছেন ব্যাপারটা, অতএব আমি আশা করব যে ডেনিয়েল-এর কাছ থেকে উত্তরটা পাবো আমি।”
“আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ম্যাম।”
“অনেক ধন্যবাদ। আমার প্রশ্ন হল : সেখানে কী ভ্যান ডি ভেলডি’ নামে কোনো বিবাহিত লোক ছিলেন?”
ডেনিয়েল হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তি যে কখনও যুদ্ধের ময়দানে ভীত হয় না, এমনকি সমুদ্রের ঝড়ো বাতাসও কখনো তার মধ্যে ভয় জাগাতে পারে না। কিন্তু জুডিথ-এর এমন প্রশ্ন আর চোখে মুখে কোমল কৌতূহলের ছাপ তার মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। সেই ভয় চোখে মুখের অভিব্যক্তিতেও প্রকাশ পায়।
“আ…আ…আমার যতদূর মনে পড়ে সে হয়ত বিবাহিত লোক ছিল, ম্যাম।”
“আপনি কী তার স্ত্রীর বর্ণনা দিতে পারবেন? যেমন, সে কী যুবতী ছিল নাকি বৃদ্ধা?”
“তাকে বুড়ি না বলে যুবতী বলাটাই ভাল হবে, ম্যাম।”
“উত্তর যেহেতু পাওয়া হয়েছে, অতএব…হাল বলতে শুরু করল, “মিস্টার পেট নিশ্চয়…”
কিন্তু পেট তাকে মাঝপথে বাধা দিয়ে বসল। “সমস্যা নেই, ম্যাডাম, আপনি আপনার প্রশ্ন চালিয়ে যান।” জুডিথের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলে উঠল সে।
“ধন্যবাদ স্যার,” জুডিথও ভদ্রতার সাথে জবাব দেয়। “ডেনিয়েল, এখন আমরা মি, ভ্যান ডি ভেলডি আর তার যুবতী স্ত্রীর সম্পর্কে কথা বলব।” কথাগুলো বলার সময় তার ঠোঁটে এক ধরনের বাঁকা হাসি খেলা করছিল। সে আসলে হালকে টিজ করছিল, ওরা মজা নিচ্ছিল। “আপনি কী তার নাম মনে করতে পারবেন?”
“আমম…ক্যাট জাতীয় কিছু একটা। সঠিক মনে করতে পারছি না।”
হাল-একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, “ক্যাটিংকা…মিসেস ভ্যান ডি ভেলডির ক্রিশ্চিয়ান নাম ছিল ক্যাটিংকা। এখন খুশি?”
