“ধর্মীয় ধ্বংসাবশেষ যদি সত্যিকারের ধ্বংসাবশেষ হয় তবে তার অন্যরকম শক্তি থাকার কথা। আমি নিজে টেবারন্যাকল দেখেছি এবং নিজ চোখে এর তাৎপর্য অনুধাবন করেছি।” এখন বলন, “একজন মানুষ যে নিজেকে ধর্মযাজক বলে সে কী ধর্মীয় নিদর্শনের নামে মিথ্যে জিনিস ফেরি করে বেড়াতে পারে?”
ট্রোম্প কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে আবার বলা শুরু করল, “কথা হচ্ছে, যদি মিথ্যা জিনিসগুলো অবিশ্বাসীদের মনে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে তবে ঈশ্বর নিশ্চয় রাগ করবেন না, করবেন? তবে সেটা আমার চিন্তার বিষয় নয়। আমার কাছে চিন্তার বিষয় হচ্ছে টাকা। আমি আমার কাছে থাকা সর্বশেষ পেনিটা দিয়েও বাতাভিয়ার এক কারিগরের কাছ থেকে এসব তৈরি করেছি যেগুলো আপনি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন। আমি আর আমার নাবিকেরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় আছি কারণ আমাদের হাতে আর অবশিষ্ট কিছুই নেই। তবে আমরা মনে করি আমাদের ক্ষুধার চেয়ে এগুলো বেশি মূল্যবান।”
চোখ তুলে তাকাল ট্রোম্প, ওর চোখগুলো বাজারের ব্যবসায়ীদের মতো চকচক করে উঠল। “একবার ভেবে দেখুন। ভেবে দেখুন, আফ্রিকার বাজারে এগুলোর কত চাহিদা রয়েছে। পর্তুগীজরা এখন মোজাম্বিক এবং সোফালার দায়িত্ব নিয়েছে। তারা উপকূলবর্তী এলাকায় আর বড় বড় নদীতে ব্যবসা চালাচ্ছে, আর যেখানেই ব্যবসা চার্চ সেখান থেকে বেশি দূরে নয়। জিউসরা তাদের প্রতি খুবই খুশি হয় যারা তাদের এসব যোগান দেয়। এসব বস্তু তাদের ধর্মপ্রচারের কাজে খুবই সহযোগিতা করে। ক্যাপ্টেন কার্টনি, আমি বলছি এগুলো ভাগ্য বদলে দিবে। এই কার্গো যে কোনো সোনাদানা পূর্ণ কার্গোর চেয়েও মূল্যবান।”
“এটা কিছুতেই হতে দেয়া যায় না।” হাল বিরক্তি সহকারে তার হাতের বোতলটা নিচে ছুরে মারে, এরপর পায়ের বুট দিয়ে সেটাকে আঘাত করে।
ট্রোম্প হাত দিয়ে এমনভাবে তুড়ি বাজায় যেন সে ব্যারেলগুলো অদৃশ্য করে দিবে। “আপনি একদম সঠিক বলেছেন। এগুলো অসৎ ব্যবসা। এসব মিথ্যে জিনিস বিক্রি করা আমাদের অনুচিত।” ব্যাপারটাকে ট্রোম্প এক মুহূর্তেই উড়িয়ে দেয়, ঠিক যেভাবে হাল ছোট্ট বোতলটাকে পিষে ফেলে, সেভাবে। কিন্তু ব্যাপারটাকে আপনি অন্যভাবে ভেবে দেখতে পারেন। আমি আমার ধারণা আপনাকে বলব।”
কিন্তু হাল ট্রোম্প-এর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে তার একজন নাবিককে ডাক দেয়, “মি লোভেল।” “ক্যাপ্টেন ট্রাম্পকে তার লোকজনের কাছে নিয়ে যাও। আর খেয়াল রেখো ওরা সবাই যেন খাবার পায়, আমরা অন্তত সম্মানের সাথে ব্যবহার করতে জানি।”
“আসুন, ক্যাপ্টেন, লেভেল ক্যাপ্টেন ট্রোম্পকে সাথে নিয়ে চলে যায়। হাল আর অ্যাবোলি অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে।
আফ্রিকানটি নিজের রাগকে ছাপিয়ে খানিকটা দুশ্চিন্তার স্বরে বলে, “তাহলে তোমাদের লোকেরা আফ্রিকায় দাস কিনতে আসে না বরং মিথ্যে ধবংসাবশেষ দিয়ে লোকজনকে বোকা বানাতে আসে। মিথ্যে হাড়, পুরনো সুতা আর গরুর দুধ দিয়ে, তাই না?”
“তারা আমার লোক নয়। তারা দাস ব্যবসায়ী, প্রতারক”, লজ্জিত হওয়ার ভাবটা নিজের পেটের মধ্যে আটকে রেখে কথাটা বলে হাল। এরপর সে সামনে এগিয়ে গিয়ে আফ্রিকান লোকটির কাঁধে হাত রেখে বলে, “আমার নাবিকেরা আমার লোক। আর অ্যাবোলি আমার ভাই, তাই না?” অ্যাবোলি হাল-এর দিকে এক পলক তাকায়। অন্ধকারে তার মুখোশ যদিও ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিল, কিন্তু বেশিক্ষণ সে নিজের অনুভূতি চাপিয়ে রাখতে পারল না। হাসিতে ফেটে পড়ল।
“শয়তান, অ্যাবোলি”, হাল বলে। “আমি তো ভেবেছিলাম তোমার সাথে মারামারি করতে হবে এখন-আগে যেমন করতাম আরকি। অবশ্য, তোমাকে এখন বুড়ি মহিলাই বলা যায়।”
অ্যাবোলি হাল-এর কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রাখল। হালকে বললো, “গ্যান্ডওয়েন, তুমি আমাদের ক্যাপ্টেন, এর বেশি কিছু আমি পছন্দ করি না।” সে আরও বলল, “ভাবছি, তোমার লোকেরা যখন দেখবে যে তাদের ক্যাপ্টেন ছোট্ট মেয়ের মতো মুখ ঘুরিয়ে কাঁদছে, তখন তারা ব্যাপারটা কিভাবে নেবে?”
অ্যাবোলির কথা শুনে হাসতে শুরু করে দিল হাল। এরপর তারা দুজন একসাথে ডেফট-এর বাকি অংশটুকু দেখার জন্য পা বাড়াল।
*
উইলিয়াম পেট হাতে এক পেগ ক্যানারি ওয়াইন নিল, এরপর বিস্ময়াবিভূত হয়ে কেবিন-এর চারপাশে তাকিয়ে দেখতে লাগল। ৰৈ এটার সাজসজ্জা, কাঠের আসবাবপত্র, ম্যাপ, টেবিল, ক্যাপ্টেন এর কোট, যেটা এখন হুক থেকে খুলে দেয়ালের পাশে রেখে দেয়া হয়েছে।
পেট বলল, “আপনার জাহাজটা অনেক সুন্দর ক্যাপ্টেন কার্টনি। যেটা তৈরি করতে আর মানসম্মতভাবে সাজাতে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা খরচ করতে হয়েছে।” পেট আরও বলতে থাকে, “অনধিকার চর্চা করছি মনে হলে ক্ষমা করবেন, কিন্তু আমার কৌতূহল হচ্ছে যে আপনি এত অল্প বয়সে এরকম একটা জাহাজের মালিক কীভাবে হলেন? উত্তরাধিকার সূত্রে নাকি অন্য কোনো উপায়ে?”
‘না, মি পেট”, হাল উত্তর দেয়। “আমার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদ অন্য কোথাও আছে। একজন প্রতারক-এর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছিলাম এই গোল্ডেন বাউ জাহাজটা। সে এটাকে কোথাও থেকে চুরি করে এনেছিল।”
“আমার তো মনে হয় না, এরকম কাজ আপনার চরিত্রের সাথে যায়”, পেট বলল। “একারণেই এটার পেছনের গল্পের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।”
