“আমার কোনো আপত্তি নেই,” হেনরি কার্টনি বলে উঠে। এরপর কালো আফ্রিকান লোকটির দিকে ফিরে বলে, “ক্যাপ্টেন ট্রোম্পকে জিজ্ঞেস কর যে সে মি. পেট-এর শেকলের চাবিটা কোথায় রেখেছে। যদি খুঁজে না পাওয়া যায় তবে মিস্ত্রী আনিয়ে খোলার ব্যবস্থা কর।”
“ঠিক আছে, গান্ডওয়েন”, কালো লোকটি বলল। এরপর সে সিঁড়ি দিয়ে উপরে হারিয়ে গেল।
“আপনার অনেক দয়া, ক্যাপ্টেন”, পেট-এর মাথায় এতক্ষণ ধরে যে সমস্যাটা ঘুরছিল সেটার সহজ সমাধান পেয়ে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সে চায় না মৃত লোকটির গলায় চোখে মুখে তার খুনের চিহ্ন কেউ দেখতে পাক।
“কিন্তু তুমি ক্যাপ্টেন ট্রোম্প-এর বন্দিশালায় কী করছো?” ক্যাপ্টেন কার্টনি জিজ্ঞেস করল।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল পেট। তবে যতটা নাটকীয় ভাব দেখাতে চেয়েছিল ততটা পারল না। “সে এক লম্বা দুঃখের কাহিনী ক্যাপ্টেন। সে কাহিনী বলার আগে আমার শূন্য পেটে কিছু খাবার পড়লে হয়তো আমার কণ্ঠ দিয়ে কথা বেরুবে।”
“অবশ্যই!” কার্টনি মাথা নেড়ে বলল। “আজকে রাতের ডিনারে তোমাকে আমন্ত্রণ জানালাম আমি। কিন্তু এখন আমাকে জাহাজের বাকি অংশটুকু পরিদর্শন করে দেখতে হবে। ভয় পেয়ো না। আমার লোক এসে যত দ্রুত সম্ভব তোমাকে মুক্ত করবে।”
“অবশ্যই, ক্যাপ্টেন”, পেট বলল। সে তার নিজের ভাগ্যকে সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছিল না। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই বেশ রহস্যময়ভাবে কাজ করে। ক্যাপ্টেন চলে যাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ সে একা একা অন্ধকারে পড়ে রইল। যদিও সে পুরোপুরি একা নয়। সেই স্বর্গীয় কণ্ঠ আর সকল ফেরেশতারা তার সঙ্গে আছে। তাদের উপস্থিতিতে উইলিয়াম পেট-এর কাছে নিজেকে সত্যিই বেশ আশির্বাদ পুষ্ট বলে মনে হতে লাগল।
.
যখন ট্রোম্প বলেছিল যে তার কাছে সোনা বা মসলা জাতীয় কিছুই নেই তখনই হাল ধারণা করে নিয়েছিল যে ডেফট-এ মূল্যবান কিছু পাওয়া যাবে না। প্রথম দেখাতেই হাল-এর ধারণা পরিষ্কার হয়ে যায়। জাহাজের প্রতিটা খোল প্রায় শূন্যই বলা যায় যেগুলো এতদিন পর্যন্ত বড় বড় অফিসারদের কোয়ার্টার হিসেবে কিংবা অসুস্থ লোকদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হতো। জাহাজের একেবারে শেষদিকে বাঁকানো অংশে বারটা ব্যারেল রশি দিয়ে এমনভাবে আটকানো আছে যেন সাগরের ঢেউয়ের তালে এগুলো পড়ে না যেতে পারে। অ্যাবোলি তার তরবারির অগ্রভাগ দিয়ে ব্যারেলগুলোর ভেতরে খোঁচা দিয়ে বুঝতে পারে এগুলোতে মিষ্টি জাতীয় পদার্থ আছে। হাল যখন ব্যারেলগুলো ধরতে পারল তখন সেগুলোর ভেতর হাত ঢুকিয়ে ঘোট ঘোট কতকগুলো বক্স বের করে আনল সে। সেগুলোর মাঝে একটা খোলার পর ওটার ভেতর একটা ছোট কাঁচের বোতল দেখতে পায় হাল যেটা লম্বায় তার বুড়া আঙুলের চেয়ে বড় হবে না।
“আমি ভাবতে পারি নি যে ক্যাপ্টেন ট্রোম্প-এর ওয়াইন রাখার সেলার এরকম হতে পারে।” কথাটা মজা করেই বলল হাল। এরপর ছোট্ট কাঁচের বোতলটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে লণ্ঠনের সামনে ধরে দেখতে থাকল।
“আমি ইন্ডিয়ান হিন্দু নাবিকদের মুখে অমৃত-এর কথা শুনেছি। যেটা খেলে নাকি অমরত্ব লাভ করা যায়।” অ্যাবোলি হাল-এর দিকে একটা অদ্ভুত দৃষ্টি দিয়ে বলে।
হাল হেসে ফেলে। ট্রাম্প যদি ওরকম কোনো মহৌষধ পেত তবে সে এই পর্তুগীজ জাহাজটাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারত।
“এটা টক স্বাদের কিছু হবে,” ছোট্ট বোতলে রাখা জিনিসটার গন্ধ শুঁকে বলে উঠল হাল।
“একজন মানুষ অমরণশীল কি-না সেটা পরীক্ষা করার খুব ভাল একটা উপায় জানা আছে আমার।” অ্যাবোলি তার তরবারিটা নাড়িয়ে বলে উঠল। কিন্তু হাল-এর হাসার মতো মনমানসিকতা ছিল না। বরং সে মনে মনে আশা করতে লাগল যে ট্রাম্প-এর নিশ্চয়ই এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কার্গো রয়েছে। সত্যি বলতে আসলেই তার জাহাজে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিলনা। কিন্তু এই ছোট্ট বোতলগুলোর নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য আছে, নাহলে এগুলো বাক্সে বন্দি করে রাখা হয়েছে কেন? ছোট্ট শিশিতে এমন কোনো সুগন্ধী রাখা নেই যেটা মহিলারা অনেক চড়া দামে কিনবে। কিংবা এটাতে যদি মূল্যবান কোনো ওষুধ থাকত তবে এটার গায়ে তা লেভেলিং করা থাকত। হাল-এর ভয় হতে লাগল যে, সে হয়ত না জেনেই কোনো বিষের গন্ধ নিয়ে ফেলেছে, হয়তো একটু পর নিজেই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে যাচ্ছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হল যে সে এখনো সুস্থ আছে। অ্যাবোলি পরবর্তী বোতলটার ছিপি খুলে ফেলার পর প্রহেলিকা কেবল আর গাঢ় হলো। বোতলটার ভেতর বুড়ো আঙুলের সমান লম্বা তিনটা কাঠের টুকরা দেখতে পায় তারা। যদিও প্রতিটা টুকরা দেখতে কাঠের গুঁড়ির মতো কিন্তু এগুলোকে শিপওয়ার্ম-এর মতো মনে হচ্ছিল না।
“তোমার কী কোনো ধারণা আছে যে এগুলো কী?” অ্যাবোলি হালকে জিজ্ঞেস করল। হাল বুঝতেই পারছিল না যে এগুলো কী হতে পারে। অ্যাবোলিও কাঁধ ঝাঁকিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে তারও কোনো ধারণা নেই এগুলোর ব্যাপারে।
“আমার মনে হয় শুধু একজনই পারে এই সমস্যার সমাধান দিতে,” হাল বলে উঠল। “যাও গিয়ে ট্রোম্পকে ধরে আন। সে নিজের মুখে এগুলোর ব্যাখ্যা দিবে।”
কিছুক্ষণ পরই অ্যাবোলি ডেফট-এর পূর্বের মালিককে ধরে নিয়ে আসে। হাল একটা কাঠের টুকরো উঁচিয়ে ধরে বলে, “এগুলো কী?”
