“তার মানে মহামান্য রাজা চাচ্ছেন আমাদেরকে দিয়ে ক্যাপ্টেন কার্টনিকে হত্যা করতে?” গ্রে-এর গলার স্বর শুনেই বোঝা গেল যে সে বিপদ টের পেয়েছে।
“অনেকটা তাই, তবে সেটা আপনাদের নিজেদের তলোয়ার দিয়ে না, জাহান তাদেরকে আশ্বস্ত করে। আমার মনে হয় আপনারা দুজনের কেউই সেটার জন্য উপযুক্ত না। আপনি তার সাথে পাত্তাও পাবেন না, গ্রে। আর আর্ল…উনি দুই হাত দিয়েও কার্টনির কিছু করতে পারেননি, এক হাত দিয়ে আর কিইবা করবেন। কিন্তু আপনারা অন্য কোনো উপায়ে তাকে নিঃশেষ করে দিতে পারেন। আপনারা তাকে খুঁজে বের করে ফাঁদে ফেলুন। তখন অন্তত অন্য কেউ তাকে হত্যা করতে পারবে। এরপর আপনি সবাইকে বলবেন যে কার্টনিকে আপনিই হত্যা করেছেন। আমার মনে হয়, আপনার বর্তমান অবস্থা দেখার পর সবাই একমত হবে যে কার্টনির উপর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার আপনার আছে।”
“আর আমরা যদি আপনার হয়ে এই কাজটা করতে রাজি না হই, তবে?” বুজার্ড জিজ্ঞেস করে।
জাহান উচ্চ হাসি হেসে বলে, “আপনারা অবশ্যই রাজি হবেন। প্রথমত, প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যত সরঞ্জাম এবং মানুষজন প্রয়োজন হবে সবই আমি আপনাদের সরবরাহ করব। দ্বিতীয়ত, আপনি এবং কনসাল গ্রে উভয়েই এখানে এই বিল্ডিং-এর নিচে সেদিনই মারা যাবেন যেদিন আপনারা আমার প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানাবেন। আমি অনেক দয়ালু মানুষ। কিন্তু আমার হুকুম অমান্য করার অপরাধ আমি ক্ষমা করি না।”
গ্রে একলাফে মাটিতে শুয়ে পড়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে থাকে। আপনি অতি দয়ালু এবং মহানুভব যে আমার মতো একজনকে দয়া দেখিয়েছেন। আমি খুবই সম্মানিত বোধ করব, সেই সাথে কৃতজ্ঞ থাকব যদি আমি আপনার সেবায় নিয়োজিত হতে পারি।”
“ঠিক আছে, ঠিক আছে কনসাল, দয়া করে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ান।” জাহান উত্তর দেয়। এরপর সে বুজার্ড-এর দিকে তাকিয়ে বলে, “আর আপনি?”
“আমিও আপনার প্রস্তাবে রাজি। এমনকি আমি আপনাকে এটাও বলব যে তাকে এই মুহূর্তে কোথায় পাওয়া যাবে। এখন কেবল একটি জায়গাতেই সে যেতে পারে।”
“সময়মত জেনে নেব, এখন অন্য ব্যাপারে কথা বলি,” জাহান বলল। “প্রথমত, গত কয়েকদিন ধরে যে ব্যাপারটা দেখে অবাক হচ্ছি তা হল আপনার গায়ের চামড়া অনেক সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। আমার মনে হয় বাইরের গরম রোদ কিংবা বাতাস কোনোটাই আপনি সহ্য করতে পারবেন না। তাই আপনার জন্য বিশেষ একধরনের হেডগিয়ার বানানোর আদেশ দিয়েছিলাম যেটা আপনাকে রক্ষা করবে।”
দুই হাত দিয়ে তালি বাজাল জাহান। সাথে সাথে চামড়ার ব্যবসায়ী আহমেদ এসে তার বক্সটা খুলে একটা জিনিস বের করল। সেটা দেখতে অনেকটা চামড়ার ক্যাপ বা হুড-এর মতো মনে হচ্ছে। জিনিসটার ওপর বেশ কিছু নকশাও করা আছে। কিন্তু আহমেদ যেভাবে এটা ধরে আছে তাতে বুজার্ডের পক্ষে বুঝে উঠা সম্ভব হয় না যে এটা আসলে কী কাজে লাগতে পারে।
আহমেদ আস্তে আস্তে বুজার্ডের দিকে এগোতে থাকে। তার চোখ নিচের দিকে ফেরানো। যেন সে কাজের আগে দানবটার দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে। যখন চামড়া ব্যবসায়ী বুজার্ড-এর কাছে পৌঁছায় তখন নতুন আরেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। দেখা যায় বুজার্ড চামড়া ব্যবসায়ীটির চেয়ে অনেক লম্বা। আহমেদ অনুগ্রহপূর্বক দৃষ্টিতে জাহান-এর দিকে তাকায়। জাহান তখন অল্প মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, “যদি আপনি মাথাটা একটু নত করেন তো খুব ভাল হয়।”
“আমি এই লোকের দিকে মাথা নুইয়ে দাঁড়াব?” বুজার্ড ক্রুদ্ধস্বরে বলে উঠে।
“তাহলে তুমি এটা হারাবে,” জাহান একটু থামে। এরপর আবার শান্ত স্বরে বলতে শুরু করে, “দয়া করে অস্বীকার করবেন না। আপনি মাথা নত করুন, লোকটিকে তার কাজ করতে দিন। “আমি কথা দিচ্ছি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই আমি আপনাকে দিব। আমাকে বাধা দিলে আপনি মারা পড়বেন।”
বুজার্ড তার মাথা নোয়ায়। কিছু সময় পরে সে ব্যথায় ছটফট করতে করতে চিৎকার করে উঠে। কারণ একটি চামড়ার হুড তার মুখমণ্ডলের ক্ষতের ওপর দিয়েই পরানো হচ্ছে। বুজার্ড এখন শুধু চামড়ার ওপর দিয়ে কাটা এক চক্ষু দিয়ে পৃথিবীটা দেখছে। চামড়ার হুডটা খুব শক্তভাবে বুজার্ডের মুখমণ্ডলের ওপর লাগানো হয়েছে। চামড়ার ওপর দিয়ে নাকের সামনে করা দুটো ছিদ্রের মধ্যদিয়ে সে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। মুখের অংশটুকু ছাড়া সারা মুখমণ্ডল চামড়া দিয়ে ঢাকা। কিন্তু কিছু সময় পরে সে অংশটুকুও ঢেকে দেয়া হয় আরেকটা চামড়ার পদা দিয়ে। এই পদটিা অনেকটা কাপের আকৃতিতে তৈরি যেটা বুজার্ডের থুতনিতে আটকে গিয়েছে। এই কাপ আকৃতির ফ্ল্যাপ এবং মাস্কের অন্য অংশের মাঝে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। ফলে বুজার্ড মুখটা নাড়াতে পারছে। ফ্ল্যাপটা শক্তভাবে লাগানোর ফলে বুজার্ড মুখের দুইপাশে বেশ টান অনুভব করছে। কিছুক্ষণ পর ক্লিক করে একটা তালা লাগানোর মতো শব্দ শুনতে পায় সে।
ভয়ে আঁতকে উঠে বুজার্ড। সে তীব্রভাবে মাথা ঝাঁকাতে শুরু করে দিল, এরপর আহমেদকে এক ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল মাটিতে। আরেকবার আক্রমণ করার আগেই সৈন্যরা তাকে ধরে ফেলল। তাকে টেনে হেঁচড়ে পেছনে নিয়ে যেতে থাকল তারা। শেষপর্যন্ত শরীর বাঁকিয়ে মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া বুজার্ড-এর হাতে আর কোনো উপায় রইলো না।
