“এইতো কাছাকাছি পৌঁছে গেছ, আর বেশি দূরে নয়”, হাল বলল।
“হ্যাঁ স্যার”, মসি বলল। পা কাঁপুনিকে অনেক কষ্টে দমিয়ে রেখে উপরে উঠছে সে।
অবশেষে ছেলেটা তার পা বাঁকিয়ে রেটলাইন-এর ওপর উঠিয়ে দিতে সক্ষম হলো। এরপর মাস্তুলের চূড়ায় উঠে বসলো সে।
“আমরা তোমাকেই টপমাস্টারম্যান বানাব”, হাল উঠে মসির পাশে বসার পর বলল। ওরা উপরে বসার পর নিচ থেকে সবাই সমস্বরে চিৎকার দিয়ে উঠেছে।
কিন্তু মসি এখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
“তুমি বেশ ভাল করেছ”, হাল মসিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে বলল। হাল নিজের কাজেও বেশ খুশি। কারণ এতদিন পর উপরে উঠার চেষ্টা করে তার নিজেকেও বেশ ধকল সইতে হয়েছে। “জাহাজের সব লোক তোমার কাজ দেখেছে। তুমি সবার আস্থা অর্জন করেছে। তাকিয়ে দেখ, সবাই তোমার কাজে খুশি হয়ে চিৎকার করছে।”
“কিন্তু আমি…আমি কিছুতেই নড়তে পারছিলাম না।”
“তুমি নিচের দিকে তাকিয়েছিলে”, হাল বলল। “আমি তোমাকে সেটা করতে মানা করেছিলাম।”
নিজের কাজের জন্য মসি বেশ লজ্জিত হয়ে পড়ল। কিন্তু হাল ছেলেটার প্রতি আদুরে ভাব না দেখিয়ে আবারও তাকে পরীক্ষায় ফেলার চেষ্টা করল। “আমরা তোমার উপরে উঠার পরীক্ষা নিয়েছি। এখন আমরা তোমার চোখের দৃষ্টির পরীক্ষা নেব।”
অনেক দূরে একটা জাহাজ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। লোকটার নিশ্চয়ই কোনো তাড়াহুড়ো আছে, হাল মনে মনে চিন্তা করল। জাহাজটার বাইরের দিকটা দেখে পরিচিত মনে হচ্ছে কিন্তু সে চিনতে পারছে না। ড্যাম! আমার দৃষ্টিশক্তি কী আমার সাথে প্রতারণা করছে নাকি, হাল মনে মনে ভাবল।
“বলতো ওটা কী রঙের পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছে?” সে মসিকে জিজ্ঞেস করল।
“কোনো রঙেরই না, ক্যাপ্টেন”, মসি তার চোখের শেষ পানির ফোঁটাটাও মুছতে মুছতে জবাব দিল।
“অদ্ভুত”, হাল বিড়বিড় করে উঠল। ব্যাপারটা ভালভাবে পরীক্ষা করে দেখার জন্য তার আরও কিছুক্ষণ থাকা উচিত কিন্তু প্রথমবার উঠার চেয়ে নামাটা মসির জন্য কঠিন হতে পারে। তাই তাকে গাইড করে নিচে নামিয়ে নিতে হবে এখন।
“ঠিক আছে, মসি, চল এখন আমরা ডেক-এ নেমে যাই।”
“আমার পা আমার সাথে আর কখনো এরকম বেইমানি করবে না, ক্যাপ্টেন”, মসি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল।
“আমি জানি সেটা”, হাল মসিকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করল। “চল, আমরা এখন নিচে নামব।”
*
এলিফ্যান্ট লেগুন-এর পাথরের ওপর বেড়ে উঠা গাছের আড়ালে লুকিয়ে বন্দুক তাক করে রেখেছে বুজার্ড। তার পাশেই কামান বসানোর সেই পুরনো জায়গা দেখা যাচ্ছে যেখানে বহুদিন পূর্বে কার্টনি আস্তানা বানিয়েছিল নেভীদের হাত থেকে নিজের বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য।
আশেপাশে নৌকো বা মানুষের বসবাসের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। তার বদলে চকচকে সাদা বালি দেখা যাচ্ছে। তিনটা হাতি পানির ধারে খেলা করছে। কিন্তু এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়ার মতো মন মানসিকতা বারোস-এর নেই।
“ড্যাম ইউ! আমি আমার লোকদেরকে বিদ্রোহের জন্য জাহাজটাকে প্রস্তুত করতে বলেছি এবং তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু তার ফল কী হল? কিছুই না। কার্টনি পালিয়েছে। আমি সোনাদানার কোনো চিহ্নই দেখতে পাচ্ছি না।”
“নাকি কান্না বন্ধ কর। তোমার জাহাজের তেমন কোনো ক্ষতিই হয়নি। পালের কয়েকটা জায়গায় একটু ছিঁড়ে গিয়েছে এবং কয়েকটা কাঠ নষ্ট হয়েছে। কেপ-এর বোটইয়ার্ড-এ একদিনেই সেটা ঠিক করে ফেলা যাবে। আর এই যাত্রার শেষে যখন তোমার লোকেরা ভালকিছু জিনিস হাতে পাবে তখন তারা এমনিতেই খুশি হয়ে যাবে।”
“কিন্তু আমি এখানে ভাল খারাপ কিছুই দেখতে পাচ্ছি না”, বারোস-এর গলার স্বর আস্তে আস্তে উঁচুতে উঠতে থাকে।
“তোমার কী মনে হয় সবকিছু তোমার জন্য বীচ-এ ছড়ানো থাকবে?” বুজার্ড তার মুখোশের ভেতর থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বারোস-এর দিকে তাকাল। “আমার সঙ্গে এসো।”
“নিচে নামা কী ঠিক হবে?” বায়োস জিজ্ঞেস করল। এই প্রথম বারোসকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে। যে প্রাণীগুলোর কারণে এই জায়গাটার নামকরণ করা হয়েছে তারা বারোস-এর মনে ভয় জাগাতে পেরেছে।
তারা পাথরের উপরের দিয়ে ভেতর দিকে এগুতে থাকে। ওরা সেই পুরনো কুড়েঘরগুলো দেখতে পেল যেগুলোতে বুজার্ড আর কার্টনি উভয়েই একসময় ঘুমিয়েছিল এককালে।
“তখন আমি পরিপূর্ণ মানুষ ছিলাম। আমার দুটো হাত ছিল এবং আমি কঠোর পরিশ্রম করতে পারতাম”, বুজার্ড মনে মনে ভাবতে থাকে। এখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা ছাই-এর চিহ্ন দেখতে পায় সে যেগুলো পুরনো ক্যাম্পফায়ার-এর চিহ্ন বহন করছে।
“অনেক দিন যাবত এখানে কেউ আসে না”, বুজার্ড নিজের মতামত ব্যক্ত করল।
“যদি আমি কার্টনি হতাম তবে আমি কখনোই আমার লোকদেরকে উপকূলে নিয়ে আসতাম না। বারোস বলতে থাকল। তাদেরকে জাহাজে রেখে দুই একজন বিশ্বস্ত অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে গুপ্তধন উদ্ধার করতে চলে আসতাম।”
বুজার্ড বেশ উচ্চস্বরে হেসে উঠল। “ইয়ং কার্টনি তা করবে না। সে তার ছেলেদেরকে জাহাজ ছেড়ে বাইরে যেতে দেবে, মাছ ধরতে দেবে কিংবা খাবার সংগ্রহে যেতে বলবে অথবা জাহাজ ঠিক করার জন্য কাঠ সংগ্রহ করার আদেশ জারি করবে।”
“এটা ওর অনেক বড় দুর্বলতা”, বারোস তার মাথা নেড়ে দৃঢ়কণ্ঠে বলল।
