যে রহস্যময় দ্বীপের চিহ্ন কোনো মানচিত্রে নেই সেরকম দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা অনেক বড় ঝুঁকির ব্যাপার। তাছাড়া সময়মত সেখানে পৌঁছানো যাবে কি-না সেটাও চিন্তার বিষয়। যখন এসব ভেবে কাপেলো এদিক সেদিক হাঁটাহাঁটি করছিল তখনই সে বারোসকে দেখতে পেল। লোকটা তার জাহাজ মাদ্রি দি ডিয়াস থেকে নেমে আসছিল।
বারোসকে দেখার পর থেকে কাপেলোর রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে। এই সেই লোক যে তার সমস্ত সমস্যার জন্য দায়ী। সে তাকে খুন করার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে। কোয়েলিম্যান সেই ঘটনা ঘটানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়। সব ক্রোধ পেছনে ফেলে কাপেলো বারোসকেই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
“পুরনো বন্ধু তুমি নিশ্চয়ই আমাকে চেন। আমি পেটের ব্যাপারে কতটা যত্নশীল। কিন্তু আফ্রিকার কোনো শহরে আমি ভাল কোনো খাবার খুঁজে পাই নি। কিন্তু ব্লু এলিফ্যান্ট নামে একটা জায়গা আছে। সেখানকার মতো ভাল খাবার কোথাও পাওয়া যায় না। আমি কয়েক বোতল আলভারেলহাও ওয়াইন এবং এক কৌটা ট্রাস-ওস-মনটেস জোগাড় করেছি। তুমি একটু জিবে নিয়ে দেখতে পার।”
কাপেলের কথায় প্ররোচিত হয়ে দুটো থেকেই একটু একটু খেয়ে দেখে। বারোস। কাপেলোর কথার সত্যতা স্বীকার করে নেয় সে। এরপর বুজার্ড-এর দিকে তাকিয়ে দেখে সে কিছুই খেতে পারছে না।
“এই অদ্ভুত সৃষ্টিটাকে দেখে বড় অবাক লাগে। বেচারা কোনো কিছুরই স্বাদ গ্রহণ করতে পারে না।”
“তুমি যদি তোমার আজেবাজে কথা বন্ধ কর তবে আমরা কাজের কথায় আসতে পারি।” কাপেলো হঠাৎ বেশ গম্ভীর হয়ে বলতে শুরু করল।
“তুমি যে সাদা দাসটাকে নিয়ে এসেছিলে-ঐ যে বলেছিলে কালোদের মতোই কাজ করতে পারে-সে সেনোর লোহোর অনেক বড় ক্ষতি করেছে। তার নাম হচ্ছে কার্টনি। সে একজন ক্যাপ্টেন। সবাই তাকে এল তাজার নামে চেনে। আমার মনে হয় তুমি এটা জানো। আমি আশা করব যে সেনোর লোবোর ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য তাকে ধরতে তুমি আমাদেরকে সাহায্য করবে।”
“কার্টনি কী করেছে?” বারোস জিজ্ঞেস করল।
কাপেলো যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্তভাবে কার্টনির পালিয়ে যাওয়া এবং জুডিথকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা খুলে বলল। বুজার্ড-এর চামড়ার নাকের সামনে দিয়েই ওরা পালিয়ে গিয়েছে এটাও বলতে ভুলল না। গল্প শুনতে শুনতে বাতোস আরও একপেগ ওয়াইন পান করল। অবশেষে নিজের ঊরুতে চাপড় দিয়ে উচ্চস্বরে হাসতে থাকে সে।
“এখন তোমরা চাচ্ছ আমি যেন তোমাদেরকে আমার জাহাজে করে নিয়ে কার্টনি আর তার নাজেকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করি?” আচ্ছা তাহলে শোন, “আমিও ওদিকেই যাচ্ছি।” আমি চল্লিশ জোড়া হাতির দাঁত একজন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিতে যাচ্ছি। সে কেপ অব গুড হোপ-এ অপেক্ষা করবে এবং সেগুলো নিয়ে হল্যান্ড-এ ফিরে যাবে। কিন্তু তোমরা এইসব প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি ভুলে যাও। সমুদ্র থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে বাস করা বৃদ্ধ লোবোকে আমি ভয় পাই নে। এখন আমাকে যথাযোগ্য কারণ দেখাও যে কেন আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করতে যাব?”
কাপেলো কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু বুজার্ড তাকে থামিয়ে দিয়ে বলতে শুরু করল, “কার্টনির পিতা ফ্যাঙ্কিকে আমি খুব ভালভাবেই চিনতাম। তার দুটি গুণ ছিল। গুপ্তধন সমৃদ্ধ কোনো জাহাজ যদি সাগরের ওপর দিয়ে ভেসে যেত তবে গন্ধ শুঁকেও সে সেটা খুঁজে বের করতে পারত। দ্বিতীয়ত, সেই জাহাজের প্রতিটা পেনীও সে রেখে দিত। কত গুপ্তধন মজুদ করেছে সেটা সে কোনোদিন কাউকে বলেনি। এমনকি আমি, যে কি-না তার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলাম এবং যার সেই গুপ্তধন-এ ভাল রকমের ভাগ ছিল, তাকেও সে কোনোদিন কিছু বলেনি।”
বারোস কথা বলার জন্য মুখ খুলল কিন্তু বুজার্ড তার তিন আঙুল বিশিষ্ট হাতটা উঠিয়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল, “তুমি নিশ্চয়ই জানতে চাইবে কার্টনির গুপ্তধনের পরিমাণ কত হতে পারে? আমি তোমাকে বলছি শোন। শেষ যে জাহাজটা কার্টনি আটকিয়েছিল সেটা ছিল রিজলিউশন নামের একটা ওলন্দাজ জাহাজ।”
“ওহ, হ্যাঁ…আমার মনে পড়েছে।” বারোস বলতে শুরু করে। “কেপ কলেনিতে তখন এটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু রিজলিউশন তত আবারও দখল করেছিল ওরা-সমস্ত কাঠ আর মশলাসহ।”
“হ্যাঁ, স্টুপিড ওলন্দাজগুলো আবারও তাদের জাহাজ ফেরত পেয়েছিল, কাঠ আর মশলাগুলো সহই। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি জাহাজে আরও অনেক কিছু ছিল। পঞ্চাশ হাজার ডাচ্ গিল্ডার মুদ্রা এবং তিনশত…” “তুমি কী আমার কথা শুনতে পাচ্ছ…তিনশত খাঁটি সোনার বার যার একটাই একজন মানুষের সারাজীবন সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট।”
কার্টনির এত গুপ্তধনের কথা শুনে বারোস একধরনের শব্দ করে উঠল। তখন বুজার্ডের মনে হলো যে আর বলা উচিত হবে না। বাকি যেগুলো আছে সেগুলো নিজের জন্য রেখে দেওয়া উচিত।
“আচ্ছা ঠিক আছে”, পরিস্থিতি বুঝতে পারল বায়োস। কিন্তু তুমি কী জান সেই গুপ্তধন কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে?”
“খুবই মজার একটা প্রশ্ন। এর উত্তর একই সাথে হ্যাঁ এবং না। আমি জানি যে কার্টনি যে উপকুলে গিয়ে থেমেছিল সেখান থেকে গুপ্তধনের দূরত্ব প্রায় অর্ধেক দিনের। আমি এটাও জানি যে বিচের কোথায় কোথায় এটা নেই। কারণ আমি সারা বীচ ঘুরে দেখেছি। কোথাও এর চিহ্ন খুঁজে পাইনি।”
