এই মুহূর্তে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর কেউ নয়, স্বয়ং হাল! জুডিথকে দেখে আনন্দে চিৎকার করছে সে। অ্যাবোলি এবং অ্যামাডোডারা যুদ্ধ করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। যদিও লোবোর সারা দুর্গেই যুদ্ধ লেগে গিয়েছে কিন্তু এ অংশটুকু তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বুজার্ড সবসময়ই একটু সুবিধাবাদী চিন্তা-ভাবনা করে-ঠিক যেমনটা সে এতদিন করে এসেছে। সে বুঝতে পারছে যে পরিস্থিতি কার্টনির পক্ষে চলে যাচ্ছে। নিজের চামড়া বাঁচানোর জন্য এখন তার যার কথা মাথায় আসছে সে হচ্ছে বালথাজার লোবো। প্রিন্স জাহানের সাথে শত্রুতা তৈরির পর এখন তার একজন শক্তিশালী বন্ধু প্রয়োজন। সে যদি বিয়ের পাত্রী এনে দিয়ে লোবোর মন জয় করতে না পারে তাহলে অন্তত তার রোগা চর্মসার ঘাড়টা বাঁচিয়ে তার মন জয় করতে হবে।
সে উঠান পার হয়ে লোবোর শোবার ঘরের দিকে দৌড়াতে থাকে। বুড়ো ছাগলটা কোথায় লুকিয়েছে কে জানে, কিন্তু যেভাবেই হোক তাকে খুঁজে বের করতেই হবে। কিন্তু লোকটাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। আর ঠিক তখনই সে কতগুলো কাঠের ডেস্কের পেছন থেকে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পেল। “ক…কে ওখানে?”
“আমি স্যার, আর্ল অব কাম্রা। আমি আপনাকে বাঁচাতে এসেছি স্যার!” বুজার্ড উত্তর দেয়। তারপর লোবো যেখানে লুকিয়ে আছে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে টেনে দাঁড় করিয়ে বলে, “তাড়াতাড়ি স্যার”, “সময় থাকতে আমাদের এই বিল্ডিং ছেড়ে পালাতে হবে।”
বুজার্ড বৃদ্ধ খনির মালিককে নিয়ে বেরিয়ে আসে। বাইরে পা দিয়ে প্রথমেই কার্টনি এবং তার লোকেরা কোনদিকে আছে সেটা দেখে নিল।
মালিকের আগমনে লোবোর লোকেরা সাহস ফিরে পায়।
তারা আবারও নতুন উদ্যমে কার্টনি আর তার লোকদের পেছনে ধাওয়া করা শুরু করে দেয়।
হাল তাদেরকে দেখতে পেয়ে জুডিথ-এর দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। জুডিথ মৃত লোকটির কাছ থেকে গান পাউডার এবং পিস্তল নেয়ার চেষ্টা করছে। “না, ডালিং, ওটা ছেড়ে দাও”, সে বলে উঠে। “অস্ত্রের চেয়ে আমাদের এখন বেশি প্রয়োজন। হচ্ছে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়া। চল এখনই পালাতে হবে এখান থেকে।”
“হ্যা”, অ্যাবোলিও যোগ দেয়। “আমাদের এখনই দৌড়ানো উচিত।”
.
যে দাস বিদ্রোহের সূচনা অ্যাবোলি করেছিল সেই দাস বিদ্রোহ সমাপ্ত হতে প্রায় সারাটা রাত লেগে যায়। যখন ভোরের আলো দেখা দেয় তখন বুজার্ড, লোবো এবং কাপেলোকে নিয়ে আলোচনায় বসে। সে বুঝতে পারে, যে লোকেরা কার্টনির পরে এখানে এসেছিল তারা সবাই নিশ্চয়ই কার্টনির জাহাজের লোক। তারা নিশ্চয়ই জাঞ্জিবার থেকে কার্টনির পিছু পিছু এসেছে। কোন উপকূলে কার্টনিকে নামানো হয়েছিল?”
“কোয়েলিম্যান-এ,” কাপেলো জবাব দেয়।
“তাহলে সেখানেই নিশ্চয়ই কোথাও গোল্ডেন বাউ নোঙর করা আছে। কাপেলো তুমি কী কোয়েলিম্যান-এর রাস্তা চেন?”
“অবশ্যই।”
“তাহলে, মাননীয় লোবো, আমি আপনার অনুমতি সাপেক্ষে বলছি যে আমাদের সেদিকে যাত্রা করা উচিত। আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য কার্টনিকে ধরে ফেলা। সেজন্য বাউ ছাড়ার পূর্বেই আমাদেরকে তার কাছে পৌঁছাতে হবে। আমি আপনার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি সেই মেয়েটাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে আনবই।”
“তাহলে, আমার বিয়ের আশা এখনো আছে?” লোবো বেশ উৎফুল্ল হয়ে বলল।
“অবশ্যই স্যার”, বুজার্ড তার সাথে সম্মতি জ্ঞাপন করল। কিন্তু “যদি কোনো কারণে জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পূর্বে আমরা তার কাছে পৌঁছাতে না পারি তাহলেও আমরা আশা ছেড়ে দেব না। কারণ আমি জানি সে কোথায় যাবে। মাননীয় লোবো আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যদি আমি তাকে তার গন্তব্যস্থলে গিয়েও ধরতে পারি তবে কার্টনির মাথা, তার স্ত্রী আর সেই সাথে কার্টনির সমস্ত সোনাদানা আপনার সামনে হাজির করব।”
লোবোর মুখে ঝকঝকে হাসি ফুটে উঠে। “তার সোনাদানা? ওহ, তাহলে তো ভালই হয়।”
৮. বুজার্ড তার দলবল নিয়ে
বুজার্ড তার দলবল নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সামনে এগুতে লাগল। কিন্তু কোথাও অ্যামাডোভাদের কোনো নিশানা খুঁজে পেল না। কারণ অ্যামাডোডারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে দৌড়াচ্ছে। সেইসাথে জুডিথ-এর উপরেও আজকে অসীম শক্তি ভর করেছে। সেও সমানতালে দৌড়াচ্ছে। একপাও পিছিয়ে পড়ছে না। হালও দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আজকে দৌড়বিদের মতো শক্ত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কারণ তার সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। তাছাড়া জুডিথ পাশে থাকায় তার পাদুটোতে যেন পাখা গজিয়েছে।
দৌড়াতে দৌড়াতে তারা উপকূলে পৌঁছে গেল, যেখানে বিগ ডেনিয়েল, ফিশার, জন লোভেলকে সাথে নিয়ে পানসিতে করে হাল এবং অ্যাবোলির ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ যাবত তারা সেখানেই অবস্থান করছে।
হাল আর জুডিথ যখন গোল্ডেন বাউ-এর কাছাকাছি পৌঁছল, তখন চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেল তারা। সেই চিৎকার আরও বেড়ে যায় যখন হাল বাউ এ পৌঁছে সবার উদ্দেশ্যে বলা শুরু করে, “তোমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে আমি তোমাদেরকে পুরস্কার-এর কথা বলেছিলাম। সেই পুরস্কারের উদ্দেশ্যেই আমরা এখন যাত্রা করব। মি. টেইলর, আমাদের সবাইকে নিয়ে এলিফ্যান্ট লেগুন-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করুন।”
অবশেষে বুজার্ড যখন কাপেলোকে নিয়ে কোয়েলিম্যান-এ পৌঁছে তখন প্রায় চারদিন পর্যন্ত তারা একটি জাহাজ খুঁজতে থাকে ধার নেয়ার জন্য।
