“বীচটা কোথায়?” বাবোস জিজ্ঞেস করল।
“জায়গাটার নাম এলিফ্যান্ট লেগুন। কিন্তু আমাকে ডিঙিয়ে ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করো না ক্যাপ্টেন। কারণ তুমি এটা কোনো চার্ট-এ খুঁজে পাবে না। কিন্তু আমি জানি এটা কোথায় আছে এবং কীভাবে সেখানে যেতে হয়। আমি কার্টনিকে সেখানে যেতে দেব। এমনকি গুপ্তধনও উদ্ধার করতে দেব”, এরপর বুজার্ড টেবিলের ওপর শক্তভাবে ঘুসি মেরে বলল, “আমরা তখনই আক্রমণ করব যখন সে ভুলেও সেটা প্রত্যাশা করবে না। তখন আমরা তার গুপ্তধন এবং নারী দুটোই ছিনিয়ে আনব।”
“আমি গুপ্তধনের অধের্কটা চাই”, বারোস বলে উঠে।
“দ্য হেল ইউ ডু”, বুজার্ড ফোঁসফোঁস করে বলল।
“প্লিজ, দ্রমহোদয়গণ, থামুন”, কাপেলো ওদেরকে থামানোর চেষ্টা করে। বলল। “আমরা এখানে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ওপর নির্ভরশীল, ক্যাপ্টেন বারোস, তোমার হয়ত জাহাজ আছে। কিন্তু এখানে একমাত্র আমাদের মুখোশওয়ালা বন্ধুই গুপ্তধনের খোঁজ জানে। ক্যাপ্টেন বারোস, খাবার, পানি, গানপাউডার এসবের জন্য তোমাকে কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। আর আইভরি থেকে তুমি তোমার লাভ পেয়ে যাবে। এখানে একমাত্র আমাকেই সেনোর লোবোর হয়ে টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাই এসব নিয়ে বাদ-বিবাদ না করে আমরা তিনজনই যদি সেটা সমান ভাগ করে নেই, তাহলেই তো ব্যাপারটা মিটে গেল।”
“তার ওপর আমি কার্টনির স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে লোবোর কাছে হস্তান্তর করব। আর ক্যাপ্টেন তুমি কার্টনির মাথাটা নিয়ে প্রিন্স জাহানের নিকট দেবে আর যথেষ্ট পুরস্কার পাবে এর জন্যে। আর কার্টনির জাহাজটা পাবে বুজার্ড।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি রাজি।” বারোস বলতে থাকে। কিন্তু “কার্টনি কয়েকদিন পূর্বেই যাত্রা শুরু করে দিয়েছে। আমাদের যাত্রা শুরু করতে আরও দুই দিন লাগবে। আমরা কীভাবে কার্টনিকে ধরব?”
“এটা নিয়ে ভেবো না”, বুজার্ড জবাব দেয়। “কার্টনি ভেবেছে সে নিরাপদ-এ আছে। তাই সে আস্তে ধীরে এগুতে থাকবে। কিন্তু আমরা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এগুব। তাই আমরা ঠিকই সময়মত তাকে ধরে ফেলব।”
অবশেষে তারা তিনজন তদারকি করে জাহাজটাকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করে ফেলল। আর তারপর ঠিক পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটিয়ে জাহাজ চালু করে দিল তারা। যখন আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করল তখন বুজার্ড নিজে দাঁড়িয়ে থেকে আরও পাল তুলে দিল। গন্তব্যে পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত একটানা চলতেই থাকল তারা।
*
“আমার চোখের দৃষ্টি খুব ভাল”, মসি বলল। “এবং আমি খুব উচ্চস্বরে চিৎকার করতে পারি। আপনি জাহাজের যে কোনো প্রান্ত থেকে আমার কণ্ঠ শুনতে পাবেন। এই যে শুনুন…” এই কথা বলার পরপরই মসি চিকন স্বরে এত জোরে চিৎকার করে উঠল যে তার পাশে দাঁড়ানো হাল দুহাত দিয়ে কান বন্ধ করে ফেলল।
মসি আনন্দে হেসে উঠে। “এইতো দেখেছেন, স্যার। আমি বেশ ভাল পাহারাদার হতে পারব।”
হাল চোখমুখ শক্ত করে না-সূচকভাবে মাথা নাড়াল। সে এই ব্যাপারটা নাবিকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। গোল্ডেন বাউ কোয়েলিম্যান পার হওয়ার কিছু সময় পরেই মসি এসে পরবর্তী পাহারাদার হওয়ার জন্য হাল-এর কাছে আবেদন জানায়। হাল তাকে সোজা না করে দিয়েছে। এরপর একটার পর একটা কারণ বের হতে থাকে যে কেন সে পাহারাদার হতে পারবে না। মসির বয়স অল্প, সে খুব ছোট, সে দ্রুত উপরে উঠানামা করতে পারবে না, সে বিভিন্ন জাহাজের পার্থক্য বুঝতে পারবে না এবং চিৎকার করে নিচের সবাইকে জানাতে পারবে না ইত্যাদি।
গোল্ডেন বাউ বর্তমানে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করছে। আজকের দিনের জন্য গোল্ডেন বাউয়ের প্রধান আলোচনার বিষয় হচ্ছে, জাহাজের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি এবং সবচেয়ে ছোট ব্যক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব। অনেকে এটা নিয়ে বাজি ধরা শুরু করেছে। কেউ বলছে যে ক্যাপ্টেন ছোট্ট বালকটির কথা মেনে নেবে, কেউ বলছে, কোনো সম্ভাবনাই নেই।
“আমি তোমাদেরকে বলে রাখছি, এটা কোনোদিনও সম্ভব হবে না।” বিকেলবেলা গল্প করতে বসে বিগ ডেনিয়েল একদল নাবিককে উদ্দেশ্য করে বলল। এবং “কেন সেটা ভেবে দেখ। পৃথিবীতে একমাত্র একজনই আছে যে ক্যাপ্টেনকে তার কথামত কাজ করাতে পারে কিংবা কোনো কাজে নিষেধ করতে পারে। ক্যাপ্টেন খুব ভাল করেই জানে মসি তার খুব প্রিয় পাত্র। সে কোনোভাবেই মসিকে প্রধান মাস্তুলের ওপর থেকে পড়ে চেপ্টা হতে দেবে না।”
“হ্যা”, একজন নাবিক বিগ ডেনিয়েল-এর কথার সাথে সহমত পোষণ করল। “ক্যাপ্টেনস লেডি যে শুধু রাগ করতে পারে তাই না। সে তলোয়ার দিয়ে কী করতে পারে সেটা আমি দেখেছি।”
সেই ব্যাপারটাই এখন ক্যাপ্টেন-এর মনে বেশি করে খেলা করছে। তাই কার্ড-এর শেষ চাল দেয়ার সময়ও তাকে দেখে বেশ উতলা মনে হচ্ছিল। “লেডী জুডিথ-এর কথা চিন্তা করে দেখ”, হাল বলল। সে জানে যে মসি জুডিথ-এর কাছে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ঠিক যতটা জুডিথ তার কাছে। যদি তুমি ওপর থেকে পড়ে যাও তখন…” হাল প্রধান মাস্তুলের একেবারে চূড়ায় ইশারা করে দেখায়। তাহলে তুমি ডেক-এর ওপর পড়ে চেপ্টা হয়ে যাবে। মারা যাবে তুমি। এতে জুডিথ খুব দুঃখ পাবে। তুমি নিশ্চয়ই তোমার লেডি জুডিথকে দুঃখ দিতে চাও না, তাই না?”
মসি ব্যাপারটা নিয়ে খানিকক্ষণ চিন্তা করল, এবং তারপর পরই সে মুখে হাসি ফুটিয়ে পূর্ণোদ্যমে বলতে শুরু করল, “কিন্তু আমি পড়ে যাব না ক্যাপ্টেন কার্টনি স্যার। আমাদের গ্রামে গাল পাখির ডিম আনার জন্য আমাকে উঁচু পাহারে উঠতে বলা হতো। আপনি আমাকে একটা লম্বা রশি দিলে আমি চাদেও উঠতে পারব।”
