লোবো জুডিথ-এর আপাদমস্তক তাকিয়ে দেখতে থাকে, এরপর বলে উঠল, “না, আমার তা মনে হয়না। ভালভাবে ঘুমাও ইয়ং লেডি, তুমি কালকে তোমার সেরাটাই আমাকে দেখাবে।”
*
অ্যামাডোডারা নিচের দিকে তাকিয়ে বালথাজার-এর লোকদের বাসস্থান দেখছে, যেখানে থেকে লোবো তার বাসস্থান গড়ে তুলেছে। তার বাড়িটা অনেকটা গভীর চারকোণা জায়গায় গড়ে উঠেছে। দেয়ালগুলো বেশ চওড়া করে মাটি দিয়ে উঠানো হয়েছে। দেয়ালগুলোতে কোনো জানালা নেই এবং উচ্চতা প্রায় একজন মানুষের উচ্চতার দ্বিগুণ। বাড়ির ভেতর দিকটায় বেশ খানিকটা খোলা জায়গা রয়েছে যেখানে নানা ধরনের উজ্জ্বল ফুলের বাগান আছে। “সে নিশ্চয়ই জুডিথকে ওখানে নিয়ে গেছে, অ্যাবোলি মনে মনে চিন্তা করে দেখল।
অ্যাবোলি অনুভব করল যে কেউ একজন তার পিঠে টোকা দিচ্ছে। মাথা ঘুরিয়ে দেখতে পেল যে তার একজন সঙ্গী হাত দিয়ে নিচের দিকে ইশারা করে দেখাচ্ছে। কয়েকজন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সাদা চামড়ার একজন মোটাসোটা লোক লোবোর কমপ্লেক্স-এ প্রবেশ করছে। অ্যাবোলি নিশ্চিত যে এই লোকটিই কাপেলো এবং ওদের মাঝে যে সাদা চামড়ার দাসটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই হচ্ছে হাল কার্টনি।
“আই সি ইউ, গান্ডওয়েন,” অ্যাবোলি বলে উঠল। এই কথাটার অন্যরকম একটা অর্থ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার লোকজন একে অন্যের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় “আই সি ইউ”, কথাটা ব্যবহার করে। আর একটু ধৈর্য ধর ক্যাপ্টেন, তোমার কাছে পৌঁছাতে আর বেশি দেরি নেই।”
এরপর অ্যাবোলি আরো একটা জিনিস দেখতে পায়। সেটা দেখার পর সে নিজে নিজে ফিসফিস করে উঠে, “ফারো?”
.
সেদিনের সূর্য উঠার পর কাপেলো তার দাসদের সবকিছু বুঝিয়ে বলে। তারা কোথায় যাচ্ছে, কে তাদের নতুন মনিব হবে, মনিবের কথা অমান্য করলে তাদেরকে কী শাস্তি দেয়া হবে ইত্যাদি। দাসদের সারি যখন খনির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন হালও একটা সাদা রঙের দুর্গ দেখতে পেল। এটাই সেই লোবোর বাসস্থান। এটা থেকে সে যেমন দাসদের সামনে উন্মুক্ত করেছে ঠিক তেমনি দাসরা যদি কখনো বিদ্রোহ করে তবে এই দুর্গই তাকে রক্ষা করবে।
সামনে এগিয়ে যেতে যেতে তারা একটা প্রবেশপথ অতিক্রম করে। প্রবেশপথটার নিচের দিকে বার ফিট গভীর এবং বিশ ফিট চওড়া আর অনেকটা প্রাসাদের চারদিকে গভীর পরিখার মতো আছে। তারা দেখতে পায় এই পরিখাঁটি অতিক্রম করার জন্য দুটি রাস্তা রয়েছে। একটি হচ্ছে রশি দিয়ে টানানো ব্রিজ যেটার ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য খুবই সরু একটা রাস্তা রয়েছে। অন্যটি হচ্ছে প্রাসাদের গেট থেকে ঝুলানো একটা সিঁড়ি যেটা পুনরায় টেনে উঠিয়ে ফেলা যায়।
হাল ভ্রু কুঁচকে গোলকধাঁধার ন্যায় দুর্গটার দিকে তাকায়। যদিও দুৰ্গটার চারপাশে গভীর পরিখা খনন করে রাখা হয়েছে তবুও এটা বেশ বিপজ্জনক। শিকারী চিতাবাঘ কিংবা সিংহ যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ চালাতে পারে। লোবো সম্ভবত হাতি পোষ মানিয়ে রেখেছে। হাল জানে বহুবছর ধরে হাতি আনুষ্ঠানিক কাজে কিংবা সৈন্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। কিন্তু যদি তাই হয়, তবে কোথাও ওগুলোকে দেখা যাচ্ছে না কেন?
তখনই হাল পরিখার ধারে অদ্ভুত এক প্রাণী দেখতে পায়। দুটি শিংযুক্ত বিশাল আকারের, ধূসর চামড়াযুক্ত প্রাণীটা অপরিচিত মানুষের গন্ধ পেয়ে এখানে চলে এসেছে। দাসের সারি থেকে কয়েকগজ দূরে দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক মাথাটাকে নাড়াচ্ছে।
কাপেলো হালকে উদ্দেশ্যে করে বলল, “তুমি কী এই প্রাণীগুলোর মতো প্রাণী দেখেছ কখনো, ইংলিশম্যান?”
হাল হয়ত বহুবার দেখেছে এগুলোকে, কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের জ্ঞান জাহির করার চাইতে যতই নিজের অজ্ঞতাকে প্রচার করবে ততই তার জন্য মঙ্গলজনক।
“এটা হচ্ছে রাইনোসোরাস। যদিও এখানকার লোকেরা এটাকে বলে “ফারো।” কাপপলো তাকে আরও জানায়, “পৃথিবীতে সেনোর লোবোই একমাত্র ব্যক্তি যে কি-না রাইনোসোরাস বন্দি করতে পেরেছে। বহু মানুষ মারা গিয়েছে এটা ধরতে গিয়ে। কিন্তু যতদিন সেনোর লোবোর কাছে এই ফারো আছে ততদিন তার কথাই হচ্ছে আইন।”
কাপেলো জানোয়ারটার দিকে তাকিয়ে আবার বলতে শুরু করে। “ওটার সামনের শিংটা বেশ বড়। লম্বায় একটা তলোয়ার-এর দ্বিগুণ। ওটা দিয়ে জানোয়ারটা যে কোনো মানুষকে কাবাবের ন্যায় টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারে। ওটার দিকে ভালভাবে তাকিয়ে দেখ এবং প্রার্থনা কর যেন তোমাকে কখনো ওটার নিচে পড়তে না হয়।”
কাপেলো হাল-এর শেকল ধরে টান দেয় যেন হাল এগিয়ে এসে কাপেলোর সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে থাকে। যখন তারা পাশাপাশি হাঁটতে থাকে তখন কাপেলো নিচের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলতে থাকে, “যদি কোনো দাস অবাধ্য হয়, যদি তার মনিবকে সম্মান না করে, যদি সে কঠোর পরিশ্রম করতে ব্যর্থ হয় তবে তাকে শুধু চাবুকই মারা হয় না। তাকে ঐ ঘেরাও করা পরীখার দিকে নিক্ষেপ করা হয়। সেখান থেকে কেউ জীবিত ফেরত আসে না। তুমি কী আমার কথা বুঝতে পেরেছ?”।
“হ্যাঁ, মালিক”, হাল জবাব দেয়।
“তুমি তার কথার অবাধ্য হবে না কিংবা নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ করবেনা, বুঝেছ?”
“হ্যাঁ, মালিক।”
“আমার বুটটা চেটে পরিষ্কার কর ইংলিশ ম্যান”, কাপেলো বলে উঠল, এরপর তার পা-টা এমনভাবে বাড়িয়ে দিল যেন একজন বিশপ তার আঙুল বাড়িয়ে দিয়েছে।
