“প্রথমে, যে জাহাজে আমাদের ক্যাপ্টেনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আমরা সেটা অনুসরণ করব। যদি আমরা সাগরের মাঝে জাহাজটাকে ধরতে পারি তবে আক্রমণ চালাবো এবং ক্যাপ্টেনকে ফিরিয়ে আনব,” অ্যাবোলি বলতে থাকে।
“তোমরা কী সেই খারাপ লোকটাকে হত্যা করবে যে আমার ক্যাপ্টেনকে ধরে নিয়ে গেছে?”
“হ্যাঁ, আমরা তাদের দিকে এই ভাবে তাকাব…” অ্যাবোলি তার চেহারায় এমন অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলল যে মসিও ভয় পেয়ে যায়।
“তারপর আমরা তাদের শরীরে এইভাবে তলোয়ার ঢুকিয়ে দিব,” সে তার হাতটা সামনের দিকে ধাক্কা দিয়ে দেখাল। “এভাবে”, “এভাবে।”
“কিন্তু আমরা যদি সময় মতো তাদের জাহাজটা ধরতে না পারি?”
“তাহলে আমি আমার অ্যামোডোডা ভাইদের নিয়ে উপকূলে যাব। যে খনির দিকে আমাদের ক্যাপ্টেন এবং লেডি জুডিথকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেটা আমাদের জন্মভূমি কিং ডম অব দ্য মনোমাটাপা থেকে বেশি দূরে নয়। তাই ওখানকার সবকিছু আমরা ভালভাবে চিনি। সেখান থেকে ক্যাপ্টেন এবং লেডি জুডিথকে নিয়ে উপকূলে ফিরে আসব। উপকূলে তুমি, মি. টেইলার, মি. ফিশার, এবং বাউ-এর অন্যান্য নাবিক অপেক্ষা করবে।”
“তাহলে তুমি বলছ যে ক্যাপ্টেন এবং লেডি জুডিথকে তুমি নিরাপদে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে”, মসি জিজ্ঞেস করল।
হ্যাঁ
“তুমি প্রতিজ্ঞা করছ?”
অ্যাবোলি খুব ভাবগম্ভীর হয়ে মসির দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি ক্যাপ্টেনকে সেই সময় থেকে চিনি যখন সে ছোট্ট বালক ছিল। সে আমার নিজের ছেলের মতো। আমি তার কোনো ক্ষতি হতে দেবনা। তাই লিটল স্প্যারো, আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে ক্যাপ্টেন এবং লেডি জুডিথকে আমি তোমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসবই।”
*
“ম্যাডাম, আপনার এবার খাওয়া উচিত, মেয়েটি খুব অনুনয়ের স্বরে বলতে লাগল। জাঞ্জিবার-এর বাজার থেকে কিনে আনা খাসির পনির, ফলমূল এবং অন্যান্য হরেক রকমের খাবার অনেকক্ষণ যাবত টেবিল-এ রেখে দেয়া হয়েছে। জুডিথ এর কিছুই স্পর্শ করে দেখেনি। যদিও তার মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে ক্ষুধায় সে অজ্ঞান হয়ে যাবে। কিন্তু ওই লোকটির দেয়া খাবার খাওয়ার মানে হচ্ছে তার কাছে আত্মসমর্পণ করা। মেয়েটি করুণ চেহারা নিয়ে জুডিথের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনার ভেতরে যে বেড়ে উঠছে তার কথা অন্তত চিন্তা করুন। তার জন্য হলেও আপনাকে শক্ত হতে হবে।”
জুডিথ এক টুকরো পনির উঠিয়ে মুখে দেয়। মেয়েটি জুডিথ-এর দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল। পরক্ষণেই ভয়ে ভয়ে দরজার দিকে তাকাল। যে কোনো মুহূর্তে যে কেউ হয়ত চলে আসতে পারে।
সময়টা ছিল গোধূলি বেলা। পেলিকান নোঙর করেছে। তার মানে বুজার্ড যেকোনো মুহূর্তে চলে আসতে পারে।
যখন তারা জুডিথকে জাঞ্জিবার-এ নিয়ে আসে তখনই তাকে জাহাজের একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন কক্ষে আটকে রাখা হয়, যেটাতে প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করারও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সেজন্য তাকে একটা বালতি ধরিয়ে দেয়া হয়। তাকে পরতে দেয়া হয় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এক কেবিন বয়-এর জামা কাপড়। বাইরের পৃথিবীর সাথে তার সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তাকে শুধু মাঝে মাঝে বাইরে থেকে খাবার সরবরাহ করা হত। হাল তাকে শিখিয়েছিল জাহাজের ঘণ্টা হিসেব করে কীভাবে সময় নির্ধারণ করতে হয়। তাই সে জানে দুই দিন দুই রাত যাবত সে এখানে আছে। এবং সকাল দশটা বাজার সাথে-সাথে একজন নাবিক এসে তার সাথে যাওয়ার জন্য জুডিথকে নির্দেশ দিয়ে গেল। তাকে জাহাজের ফোরক্যাসেল-এ নিয়ে যাওয়া হলো। বন্দিখানাটা যদিও অন্ধকার ও স্যাঁতস্যাঁতে তবুও বরং এটাই ভাল। কারণ এখানে অন্তত তার একজন নারীসঙ্গী আছে। তাকে এখানে নিয়ে আসার কিছু সময় পরেই মেয়েটিকে এখানে ঠেলে দেয়া হয়।
“আমি আপনার খাবার প্রস্তুত করে দেব এবং আপনার দেখাশোনা করব,” মেয়েটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, কারণ বুজার্ড তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। “জাহাজের উপরে আপনি যেমনটা আরামে থাকতেন আমি আপনাকে ঠিক ততটা আরামে রাখার চেষ্টা করব।”
“ধন্যবাদ,” জুডিথ মেয়েটির উদ্দেশ্যে বলল। এরপর বুজার্ড-এর দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “তোমরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?”
তার চোখদুটো বন্দিখানার চারদিকে ঘুরতে থাকে। সে এমন থাকে যেটা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বুজার্ডের মুখোশের বাইরে থেকেও তার তিরস্কারমূলক হাসি জুডিথ বুঝতে পারছিল। তার ওপর কি ধরনের আক্রমণ আসতে পারে সেটার আভাস সে আগে থেকেই পাচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল যে কতটা দুর্বল ও অসহায় হয়ে পড়েছে। সে বুজার্ডকে এ সময় যতটা ভয় পাচ্ছিল এতটা ভয় সে এর আগে কোনো পুরুষকে পায়নি। এই ভয় পাওয়ার কারণে জুডিথ মনে মনে নিজেকে ঘৃণা আর তিরস্কার করছিল। সে নিজেকে রক্ষা করতে পারছে না। সে তার গর্ভের সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারছে না। তার ভয় হচ্ছে বুজার্ড হয়ত যে-কোনো মুহূর্তে তার হাতের ছুরি তুলে নিয়ে ওর পেট চিরে বাচ্চা বের করে নিয়ে আসবে।
“এই মেয়ে, তোমার মুখ বন্ধ কর,” বুজার্ড রুক্ষ কণ্ঠে চিৎকার দিয়ে উঠে। “তুমি খুশি থাক যে তোমার সাথে একজন দাসী দেয়া হয়েছে। নয়ত তোমাকে এখানে একা একা মরতে হত।” এরপর আর কোনো কথা না বলে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেল সে।
