“সেটা অবশ্য ভাল কথা। কিন্তু তারপরও আপনি তাকে বিক্রির জন্য দাসদের অবস্থানে নামিয়ে এনেছেন।”
“সেটা করা হয়েছে প্রয়োজনের তাগিদে। তোমাকে জাঞ্জিবার-এ ফিরিয়ে আনার জন্য বাধ্য করতে। আমি তোমাকে এখানে আমার সামনে দেখতে চেয়েছিলাম। আমি সেই বারাকুডাকে দেখতে চেয়েছিলাম যে কি-না আমার জাহাজগুলোকে সারডাইনস মাছের মতো নিঃশেষ করে দিয়েছে। আমি চেয়েছিলাম তোমার সাথে আমার নিজ হাতে তৈরি একহাত ওয়ালা দানবটার যুদ্ধ করাতে। লড়াইটা আমাকে অনেক বিনোদন দিত।” প্রিন্স নিজের চেহারায় একটা দুঃখী দুঃখী ভাব ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল যেন সে হাল-এর সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করছে। “তুমি জান, এই বয়সে আমার জন্য বিনোদন-এর নতুন কোনো উপাদান খুঁজে বের করাটা কতটা কঠিন?”
“কিন্তু আপনার দানব আপনার সাথে প্রতারণা করেছে।”
“হ্যাঁ, সে করেছে। এখন তোমাকে যা করতে হবে তা হলো তাকে হত্যা করতে হবে।”
“প্রথমে আমার তাকে খুঁজে বের করতে হবে।”
“সেটাতে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।” জাহান বলে উঠে, “বেনবুরি নামে আরেক ইংরেজ-এর সাথে তার যোগাযোগ আছে।”
“আমি তাকে চিনি। পেলিকান নামে একটা জাহাজের মালিক সে। হাল জাহানের দিকে তাকিয়ে বলে, “কিন্তু সে ইংরেজ নয়। সে স্কটিশ।”
“সেটা কী একই হল না?”
“না, একই ব্যাপার নয়।”
“হাহ, প্রিন্স খুব অবাক হলো। তার মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, সে এইমাত্র নতুন কিছু শিখেছে। যাই হোক, আমরা বেনবুরির একজন নাবিককে ধরতে পেরেছি। তার মাস্টার-এর পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা তাকে বলতে বাধ্য করেছি। একটা পানশালায় আক্রমণ করে আমরা তাকে ধরেছি। আর তোমাকেও সেখানেই পেয়েছিলাম।”
“আমি রাতের বেলায় চিৎকার শুনেছিলাম,” হাল বলল।
“ভদ্র ভাষায় বোঝাতে গেলেও লোকে ওমনই করে। সে যাই হোক, আমরা লোকটার কাছ থেকে জানতে পেরেছি ক্যাপ্টেন বেনবুরি এবং বুজার্ড তোমার স্ত্রীকে লোবো নামে এক পর্তুগীজ-এর কাছে বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে। আমি লোকটিকে চিনি। তার একটি সোনার খনি আছে। আমি তোমাকে সেখানে পৌঁছে দিতে পারি।”
“কীভাবে?”
“তোমাকে এখান থেকে এমন এক অভিযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হবে সেটাতে তুমি কোনো আনন্দ পাবে না। কিন্তু লোবোর কাছে যাওয়ার এটাই একমাত্র সম্ভাব্য পথ। তুমি যদি তাকে আক্রমণ করতে চাও তবে ব্যর্থ হবে। তার খনিতে পৌঁছার একটাই রাস্তা খোলা আছে। যদি তুমি যেতে চাও তবেই পাঠানো হবে। তার খনিতে নিয়ে যাওয়া লোকদের সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কাজ করায়। একারণে তার সবসময় নতুন নতুন লোকের প্রয়োজন হয়,..”
হাল এমনভাবে কাধ ঝাঁকায় যেন পরিশ্রম তার কাছে কিছুই না। “আমি জানি কঠোর পরিশ্রম কাকে বলে। প্রমাণস্বরূপ আমি আমার পিঠের চাবুকের দাগগুলো দেখাতে পারি। এরপরও আমি বেঁচে আছি।”
“হতে পারে,” জাহান বলল। “কিন্তু প্রথমে তোমাকে সেখানে যেতে হবে। সেটা কোনো সহজ কাজ নয়। যে লোকেরা তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে তারা তোমাকে দেখামাত্র আনন্দের সাথে হত্যা করতে রাজি হয়ে যাবে।”
“আমার তো মনে হচ্ছে আমার মৃত্যুটা আপনি বুজার্ড-এর চেয়েও বেশি করে চান”, হাল বলল।
“ফুউউহ, প্রিন্স জাহান এমনভাবে শব্দ করল যেন কেউ তার পছন্দের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করছে। “আমি চাই তোমরা সবাই মৃত্যুবরণ কর। তোমার মতো ইংরেজ কিংবা সেই স্কটম্যান… তোমরা সবাই আমার কাছে সমান। এক ঘণ্টার মধ্যে তোমাকে একটা জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তোমার জীবন মৃত্যুর দায়দায়িত্ব আমি নিব না। তোমার বিচারের দায় দায়িত্ব আল্লাহতায়ালা’-র হাতে।”
.
দাস বিক্রয়ের বাজার শেষ হওয়ার পর বিকেল বেলা মসি গোল্ডেন বাউ-এর ক্যাপ্টেন-এর কেবিনে বসে আছে। গোল্ডেন বাউ জাহাজটি শহর থেকে বেশ দূরে জাঞ্জিবার-এর উপকূলে নোঙর করা আছে। সে মাথাটা নিচু করে কাঁদছে আর সবাইকে কাহিনী শোনাচ্ছে।
“আমার কিছু একটা করা উচিত ছিল। লেডি জুডিথকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, ক্যাপ্টেন হেনরিকে বন্দি করা হয়েছে এবং মি, ট্রোম্প মারা গিয়েছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না আমার কী করা উচিত ছিল!”
“নিজেকে দোষ দিও না লিটল স্পেরো।” অ্যাবোলি ছেলেটাকে সান্তনা দিয়ে বলে, “আমি তোমাকে যা বলেছিলাম তুমি ঠিক তাই করেছ। ক্যাপ্টেন দ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তুমি তাকে অনুসরণ করতে পেরেছ। তোমার কারণেই আমরা জানতে পেরেছি যে, কার্টনিকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তোমার কারণেই আমরা ক্যাপ্টেন কার্টনির খোঁজে লোক পাঠাতে পেরেছি। সেজন্য তোমাকে ধন্যবাদ। এখন আমরা জানি যে ক্যাপ্টেনকে নিয়ে মার্দি ডি ডিউস জাহাজটি কোয়েলিম্যান-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। আমরা জানি যে তাকে দাস হিসেবে সোনার খনিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তুমি না থাকলে আমরা এসব কিছুই জানতে পারতাম না, বুঝতে পেরেছ মসি?”
বালকটি মাথা নাড়াল যেন সে আবোলির কথা শুনতে পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।
“গুড,” অ্যাবোলি বলতে থাকে। মসি এখন শোন, “তোমাকে বলছি যে আমরা কিভাবে ক্যাপ্টেন কার্টনিকে উদ্ধার করব।”
ছেলেটি মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকে যেন কোনো ছোট্ট শিশু রূপকথার গল্প শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে।
