মেয়ারকে শেখানো সামান্য কায়দা এটা, শান্ত কণ্ঠে সোয়েকে বলল তাইতা। ড্যাগারটা যেখানে পড়েছিল সেখান থেকে তুলে নিল ও। সোয়ের কানের ঠিক সামনে চোয়ালের নরম ত্বকে ওটার ডগা ছোঁয়াল। ফের মিথ্যা বলো, পাকা ডালিমের মতো মাথাটা দুমড়ে দেব।
কুঁড়ে থেকে দিগম্বর অবস্থায় ছুটে বের হয়ে এলো মেরেন। হাতে তলোয়ার। নিমেষে অবস্থান নিল। সোয়ের ঘাড়ের পেছনে ব্রোঞ্জের ডগা ছোঁয়াল। তাইতার দিকে তাকাল তারপর। শুয়োরটা আপনাকে আঘাত করেছে। ওকে মেরে ফেলব, ম্যাগাস?
না! বলল তাইতা। এটাই সোয়ে, মিথ্যা দেবী ইয়োসের মিথ্যা পয়গম্বর।
সেথের মিষ্টি অণ্ডকোষের দোহাই, এবার চিনতে পেরেছি ব্যাটাকে। এ লোকই নদীর ধারে দিমিতারের উপর কুনো ব্যাঙ লেলিয়ে দিয়েছিল।
এক ও অদ্বিতীয়, সায় দিল তাইতা। ঠিক মতো বেঁধে ফেল। কাজটা শেষ হয়েছে দেখার পরেই ওর সাথে খানিকটা বাতচিত করব আমি।
খানিক বাদে তাইতা আবার কুঁড়ে থেকে বের হয়ে এলে দেখা গেল সোয়েকে বাজারে বিক্রির শুয়োরের মতো বেঁধে কড়া রোদে ফেলে রাখা হয়েছে। কোনও লুকোনো অস্ত্র নেই নিশ্চিত হতে ওকে পুরো ন্যাংটো করে ফেলেছে ওরা। সূর্যের কড়া আঁচে এরই ভেতর লাল হয়ে উঠতে শুরু করেছে তার ত্বক। উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হিলতো ও শাবাকো। কুঁড়ের দেয়ালের ছায়ায় চামড়ার ফিতের গদি দেওয়া একটা টুল পেতে দিয়েছে মেরেন। সহজ ভঙ্গিতে ওটায় বসল তাইতা। অন্তর্চক্ষুর দৃষ্টিতে সময় নিয়ে সোয়েকে পরখ করল। শেষ বার যেমন দেখেছিল তারপর আর লোকটার আভায় কেনও পরিবর্তন ঘটেনি; ক্রুদ্ধ ও বিভ্রান্ত।
অবশেষে কিছু মামুলি প্রশ্ন করতে শুরু করল তাইতা, যেগুলোর জবাব আগে থেকেই জানা, যাতে সত্যি বা মিথ্যা বলার সময় সোয়ের আভার পরিবর্তন বুঝতে পারে।
তুমি সোয়ে নামে পরিচিত?
নীরব অবজ্ঞায় চোখ রাঙিয়ে ওর দিকে তাকাল সোয়ে। খোঁচা লাগাও, শাবাকোকে নির্দেশ দিল তাইতা। পায়ে, তবে বেশি ভেতরে না। সূক্ষ্ম হিসাব করে একটা ঘা দিল শাবাকো। লাফিয়ে উঠল সোয়ে, আর্তনাদ ছাড়ল, বাঁধা অবস্থায় পাক খেল একবার। রক্তের একটা ক্ষীণ ধারা দেখা দিল উরুতে।
আবার শুরু করছি, বলল তাইতা। তুমি সোয়ে?
হ্যাঁ, দাঁত কিড়মিড় করে বলল সে। অবিরাম জ্বলছে তার আভা।
সত্যি, নীরবে নিশ্চিত করল তাইতা।
তুমি মিশরিয়?
মুখ বন্ধ রাখল সোয়ে, রাগী চেহারায় তাকিয়ে রইল ওর দিকে।
শাবাকোকে হুকুম দিল তাইতা। অন্য পায়ে।
হ্যাঁ, চট করে বলল সোয়ে। অপবির্তিত রইল আভা। সত্যি।
রানি মিনতাকাকে দীক্ষা দিয়েছ তুমি?
হ্যাঁ। ফের সত্যি।
তুমি তাকে মৃত বাচ্চাদের জীবিত করে তোলার কথা দিয়েছ?
না, সহসা সোয়ের আভার ভেতর একটা সবজে আলো ঠিকরে উঠল।
মিথ্যার আলামত, ভাবল তাইতা। সোয়ের এর পরের জবাব বিচার করার মানদণ্ড পেয়ে গেছে।
আমার আতিথেয়তার ঘাটতি ক্ষমা করবে। তুমি তৃষ্ণার্ত, সোয়ে?
শুকনো, ফাটা ঠোঁটজোড়া জিভে ভেজাল সোয়ে। হা! বলে উঠল ফিসফিস করে। স্পষ্টতই সত্যি।
তোমাদের কি ভদ্রতা জ্ঞান নেই, মেরেন? আমাদের সম্মানিত মেহমানের জন্যে একটু পানি নিয়ে এসো।
দাঁত বের করে হেসে চামড়ার পানির ভাণ্ডের দিকে এগিয়ে গেল মেরেন। কাঠের পানপাত্র ভরে নিল। ফিরে এসে সোয়ের পাশে হাঁটু গেড়ে বসল। ফাটা ঠোঁটের কাছে উপচে পড়া পাত্রটা ধরল। মুখ ভর্তি করে খেল সোয়ে। আগ্রহের আতিশয্যে কাশতে কাশতে কোনওমতে সবটুকু পানি শেষ করল। দম ফিরে পেতে তাকে খানিকটা সময় দিল তাইতা।
তো, নিজের মালকিনের কাছে পালিয়ে যাচ্ছ তুমি?
না, বিড়বিড় করে বলল সে। ওর আভার সবুজ প্রলেপ মিথ্যা ফাস করে দিল।
ওর নাম ইয়োস?
হ্যাঁ। সত্যি।
তুমি তাকে দেবী মানো?
তিনিই একমাত্র দেবী। পরম প্রভু। আবার সত্যি। বড় বেশি সত্যি।
তার সাথে সামনাসামনি দেখা হয়েছে তোমার?
না! মিথ্যা।
সে কি তোমাকে এপর্যন্ত ওর সাথে জিজিমা করতে দিয়েছে? ইচ্ছে করেই লোকটাকে উস্কে দিতে কর্কশ সেনাসুলভ বুলি ব্যবহার করল তাইতা। কথাটার আদি মানে দৌড়ানো, বিজয়ী সৈন্যদল পরাস্ত সেনাবাহিনীর নারীদের ধরার সময় যা করে।
না! হিংস্রতার সাথে ঝিকিয়ে উঠল কথাটা। সত্যি।
তবে কি তার সমস্ত হুকুম তামিল করার পর মিশর তার হাতে তুলে দেওয়ার পর জিজিমার কথা দিয়েছে সে?
না। মৃদু কণ্ঠে উচ্চারিত হলো কথাটা। মিথ্যা। আনুগত্যের বিনিময়ে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওকে ইয়োস।
তার আস্তানা কোথায় জানো?
না। মিথ্যা।
কোনও আগ্নেয়গিরি কাছে?
না। মিথ্যা।
জলাভূমির ওধারে দক্ষিণে কোনও বিশাল হ্রদের ধারে?
না। মিথ্যা।
সে মানুষ খেকো?
জানি না। মিথ্যা।
ছোট্ট বাচ্চাদের খায়? আবার মিথ্যা।
সে কি জ্ঞানী ও শক্তিমান লোকজনকে প্রলুব্ধ করে নিজের আস্তানায় ডেকে নিয়ে তারপর তাদের ধ্বংস করার আগে সমস্ত জ্ঞান আর ক্ষমতা কেড়ে নেয়?
এসব কিছুই জানি না আমি। বিরাট ও নিরেট মিথ্যা।
বিশ্ববেশ্যা এ পর্যন্ত মোট কয়জন পুরুষের সাথে শুয়েছে? এক হাজার? দশ হাজার?
তোমার প্রশ্ন ধর্মদ্রোহমূলক। এজন্যে তোমার সাজা হবে।
ম্যাগাস ও মোহন্ত দিমিতারকে যেভাবে সাজা দিয়েছে? তার হয়ে তুমিই ওর উপর কুনো ব্যাঙ লেলিয়ে দিয়েছিলে?
