মরিয়া ব্যবস্থা, ফারাও। আপনাকে যেখানে দূর থেকেই মেরে ফেলতে পারবে সেখানে কেন আপনাকে কাছে ঘেঁষতে দেবে সে, যেমনটা দিমিতারের বেলায় করেছে?
তোমার কথায় মনে হচ্ছে, মিশরের অধিকার চায় সে। বেশ, ভালো কথা, ওকে বলব আত্মসমর্পণ করতে ও আমার দেশ ওর হাতে তুলে দিতে এসেছি। নিবেদনের অংশ হিসাবে ওর পায়ে চুমু খাওয়ার অনুমতি চাইব।
গম্ভীর চোহার ধরে রাখল তাইতা। যদিও এমনি আনাড়ী পরামর্শ শুনে হেসে উঠতে ইচ্ছে করছিল। জাঁহাপনা, ডাইনীটা কিন্তু মোহন্ত।
সে আবার কী? জানতে চাইলেন নেফার সেতি।
অন্তর্চক্ষু দিয়ে আপনি যেভাবে যুদ্ধের পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন ঠিক সেভাবে মানুষের আত্মা দেখতে পারে সে। আপনার আভায় অমন ক্রোধের বিচ্ছুরণ নিয়ে কোনওদিনই তার ধারে কাছে যেতে পারবেন না।
তাহলে তার রহস্যময় চোখে ধরা না পড়ে কীভাবে নাগালের মধ্যে যাওয়া যাবে বলে মনে করো?
ওর মতো আমিও একজন মোহন্ত। সে টের পাবে এমন কোনও আভা ছড়াই আমি।
রেগে উঠছেন নেফার সেতি। দীর্ঘদিন ধরেই দেবতা আছেন বলে কোনও বাধা বা বিঘ্ন সহ্য করতে পারেন না। চড়ে উঠল তাঁর কণ্ঠস্বর: তোমার ভাবের কথায় ভোলার মতো এখন আর ছোট খোকাটি নেই আমি। আমার পরিকল্পনায় ঝটপট খুঁত বের করছ তুমি, বললেন তিনি। বিজ্ঞ ম্যাগাস, দয়া করে এমন একটা বিকল্প প্রস্তাব রাখ যাতে আমারগুলোর বেলায় যেমন করেছ আমিও তেমন করতে পারি।
আপনি ফারাও, আপনিই মিশর। কোনওভাবেই আপনি তার পেতে রাখা ফাঁদে গিয়ে পড়তে পারেন না। এখানে জনগণ, মিনতাকা ও সন্তানদের প্রতি আপনার দায়িত্ব আছে। আমি ব্যর্থ হলে যেন ওদের বাঁচাতে পারেন।
তুমি শয়তানীতে নিপূন একটা বদমাশ, তাতা। কোন দিকে এগোচ্ছে। ব্যাপারটা বুঝতে পারছি। আমাকে এখানে ব্যাঙ মারার কাজে রেখে তুমি আর মেরেন আরেকটা অভিযানে নামবে। আমাকে নিজের হেরেমে মেয়েমানুষের মতো কুকড়ে থাকতে হবে? তিক্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
উঁহু, আঁহাপনা, সিংহাসনে আসীন গর্বিত ফারাওর মতো জীবন দিয়ে দুটি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করতে তৈরি থাকবেন আপনি।
মুঠি পাকানো হাতজোড়া কোমরের কাছে রাখলেন নেফার সেতি। চোখ রাঙিয়ে তাকালেন। তোমার মধুর সঙ্গীত শোনা ঠিক হচ্ছে না আমার। যেকোনও ডাইনীর মতোই শক্তিশালী ফাঁদ পাততে পারো তুমি। তারপর হালছাড়ার ঢঙে হাত মেলে দিলেন। গেয়ে যাও, তাতা, বাধ্য হয়েই শুনব আমি।
মেরেনকে ছোটখাট একটা বাহিনীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভেবে দেখতে পারেন, বেশি না, বাছাই করা শখানেক সৈনিক হলেই চলবে। দ্রুত আগে বাড়বে ওরা, বিরাট রসদের কাফেলা ছাড়াই জমির বিভিন্ন জিনিসের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে পারবে। কেবল সংখ্যা ডাইনীর পক্ষে কোনও হুমকী নয়। এই আকারের একটা বাহিনী নিয়ে মাথা ঘামাতে যাবে না সে। মেরেনের তার সন্দেহের উদ্রেক ঘটানোর মতো কোনও মানসিক আভা না থাকায় ওকে সে ধোকা, সাধারণ সৈনিক হিসাবে পরখ করবে। ওর সাথে যাব আমি। অনেক দূর থেকে আমাকে চিনতে পরবে সে, কিন্তু কাছে গিয়ে আসলে তার খেলার সামগ্রীতেই পরিণত হতে যাচ্ছি। আমার কাছ থেকে কাক্ষিত জ্ঞান ও ক্ষমতা কেড়ে নিতে আমাকে কাছে যেতে দিতেই হবে তাকে।
সবেগে পায়চারি করতে করতে চাপা কণ্ঠে গজগজ করতে লাগলেন নেফার সেতি। অবশেষে ফের তাইতার মুখোমুখি হলেন: অভিযানের নেতৃত্বে থাকতে না পারাটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। কিন্তু তোমার প্যাঁচানো যুক্তি আমার বুদ্ধি ঘোলা করে দিয়েছে। খানিকটা স্বাভাবিক হলো তার রাগত চেহারা। মিশরের সব পুরুষের ভেতর মেরেন ক্যাম্বিসেস আর তোমাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি আমি। মেরেনের দিকে ফিরলেন তিনি। কর্নেলের পদ পাবে তুমি। পছন্দমতো একশোজনকে বেছে নাও, তোমাকে আমার রাজকীয় বাজপাখীর সিলমোহর দেব যাতে রাষ্ট্রীয় অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র নিয়ে ওদের সজ্জিত করতে পারো ও আমার রাজ্যর যেকোনও জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে পারো। বাজপাখীর সীলমোহর ফারাও-এর ক্ষমতা বাহকের হাতে হস্তান্তর করে। আমি চাই যত তাড়তাড়ি সম্ভব লোক লস্কর নিয়ে বেরিয়ে যাবার জন্যে তৈরি হও তুমি। সব ব্যাপারে তাইতার পরামর্শ মোতাবেক চলবে। ডাইনীর মুণ্ড নিয়ে আমার কাছে ফিরে এসো।
*
মেরেনের অভিজাত অশ্বারোহীদের নিয়ে একটাঝটিকা বাহিনী গড়ার কথা রাষ্ট্র Cমহয়ে যাওয়ামাত্র স্বেচ্ছাসেবীর দল ঘিরে ফেলল ওকে। তিন জন পোড়খাওয়া সৈনিককে ক্যাপ্টেন হিসাবে বেছে নিল ওঃ হিলতো-বার হিলতো, শাবাকো ও তুনকা। গৃহযুদ্ধের সময় এদের কেউই ওর সাথে লড়াইতে অংশ নেয়নি-তখন অনেক কম বয়সী ছিল ওরা-তবে ওদের বাবা ও দাদারা লাল পথের সঙ্গী ছিল।
যোদ্ধার রক্ত সত্যিকারের বীরের জন্ম দেয়, তাইতার কাছে ব্যাখ্যা করল মেরেন। ওর চতুর্থ বাছাই ছিল হাবারি, ওকে পছন্দ ও বিশ্বাস করে ফেলেছে ও। ওকে চারটি প্লাটুনের একটার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিল সে।
চার ক্যাপ্টেনেরই পরীক্ষা নিয়ে ওদের নির্বাচন নিশ্চিত করল; খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করল: তোমার স্ত্রী বা মেয়েমানুষ আছে? আমরা যতদূর সম্ভব কম রসদ নেব সাথে। ক্যাম্পফলোয়ারদের জন্যে কোনও জায়গা নেই আমাদের এখানে। মিশরিয় সেনারা ঐতিহ্যগতভাবে যার যার মেয়েমনুষ নিয়ে পথ চলে।
