তাইতা সব রহস্য শিখিয়েছে তোমাকে? তুমি শক্তিমান যোদ্ধার মতো ম্যাগাসও হতে পেরেছ? জানতে চাইলেন ফারাও।
না, জাঁহাপনা। তাইতার সীমাহীন চেষ্টা সত্ত্বেও আমার সেই মেধা নেই। এখনও একেবারে মামুলি কৌশলও আয়ত্ত করতে পারিনি। কয়েকটা তো আমার মাথার উপর দিয়ে গেছে। বিষণ্ণ একটা ভাব করল মেরেন।
যেকোনও সময়ই একজন দক্ষ যোদ্ধা আনাড়ী জাদুকরের চেয়ে অনেক ভালো, পুরোনো বন্ধু। এসো, আমাদের সাথে সভায় বসো, অনেক আগে যেমনটা আমাদের রীতি ছিল, যখন আমরা স্বৈরাচারের কবল থেকে মিশরকে উদ্ধার করার জন্যে লড়াই করছিলাম।
ওরা তাইতার মাদুরের দুপাশে বসার পর পরই সিরিয়াস হয়ে গেলেন নেফার সেতি। এবার কুনো ব্যাঙের সাথে তোমাদের মোকবিলার কথা বলো আমাকে।
পালা করে দিমিতারের মৃত্যুর বর্ণনা দিল তাইতা ও মেরেন। ওদের কথা শেষ হলে নীরব রইলেন নেফার সেতি। তারপর গর্জে উঠলেন। প্রতিদিন আগের চেয়ে বেপরোয়া আর হিংস্র হয়ে উঠছে জানোয়ারগুলো। আমি নিশ্চিত ওদের কারণেই নদীর জলাধারের অবশিষ্ট জল দূষিত ও নষ্ট হচ্ছে। ওগুলোর কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা ভাবলেও দেখা গেছে একটাকে মারলে তার জায়গায় আরও দুটো এসে হাজির হচ্ছে।
জাঁহাপনা, বলে এক মুহূর্ত থামল তাইতা, তারপর ফের খেই ধরল, আপনাকে আগে ওদের যে সৃষ্টি করেছে সেই ডাইনীর খোঁজ পেতে হবে, তাকে ধ্বংস করতে হবে। আপনার ও আপনার রাজ্যে তার পাঠানো কুনো ব্যাঙ আর অন্যান্য রোগ তার সাথেই মিলিয়ে যাবে, কারণ সেই এসবের মালিক। তারপর নীল নদ আবার বইবে, মিশরে আবার সমৃদ্ধি ফিরে আসবে।
সতর্ক চোখে ওর দিকে তাকালেন নেফার সেতি। তবে কি ধরে নেব প্লেগগুলো প্রাকৃতিক নয়? জানতে চাইলেন তিনি। এক নারীর জাদুমন্ত্র ও ডাকিনী বিদ্যায় সৃষ্টি করা হয়েছে এগুলো?
সেটাই আমার বিশ্বাস, তাঁকে নিশ্চিত করল তাইতা।
লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন নেফার সেতি, পায়চারি শুরু করলেন। আপন ভাবনায় ডুবে গেছেন। অবশেষে থেমে কঠিন চোখে তাইতার দিকে তাকালেন। কে এই ডাইনী? কোথায় সে? তাকে ধ্বংস করা যাবে, নাকি সে অমর?
আমার বিশ্বাস সে মানুষ, ফারাও, তবে তার ক্ষমতা ভয়ঙ্কর। নিজেকে নিখুঁতভাবে রক্ষা করতে পারে সে।
কী নাম তার?
ইয়োস।
ভোরের দেবী? দেবদেবীদের পর্যায়ক্রম সম্পর্কে পুরোহিতরা ভালোমতোই শিক্ষা দিয়েছেন তাঁকে। কারণ তিনি স্বয়ং একজন দেবতা। এই না বললে সে মানুষ?
মানুষই, নিজের পরিচয় গোপন করতে দেবীর নাম ভাঁড়িয়েছে।
তাই যদি হয়, তার নিশ্চয়ই একটা জাগতিক আবাস রয়েছে। সেটা কোথায়, তাইতা?
দিমিতার আর আমি তারই খোঁজ করছিলাম, কিন্তু আমাদের ইচ্ছার কথা জেনে ফেলেছে সে। ওকে আক্রমণ করাতে প্রথমে একটা বিশাল পাইথন পাঠিয়েছিল, কিন্তু মেরেন আর আমি মিলে ওকে বাঁচাই, যদিও প্রায় মরার দশা হয়েছিল তার। পাইথন ব্যর্থ হলেও এবার কুনো ব্যাঙ দিয়ে সফল হয়েছে সে।
তার মানে ডাইনীকে কোথায় পাওয়া যাবে সেটা জানা নেই তোমার? লেগে রইলেন নেফার সেতি।
নিশ্চিত করে না জানলেও অলৌকিক ইঙ্গিত থেকে বোঝা যায়, একটা আগ্নেয়গিরিতে থাকে সে।
আগ্নেয়গিরি? কোনও ডাইনীর পক্ষেও কি সম্ভব? বলে হেসে উঠলেন তিনি। অনেক আগেই তোমাকে সন্দেহ না করতে শিখেছি আমি, তাইতা। কিন্তু বলো দেখি, কোন আগ্নেয়গিরি? অনেক আছে অমন।
আমার বিশ্বাস সেটার সন্ধান পেতে হলে নীলের উৎসের দিকে যেতে হবে আমাদের, কেবুইয়ের উজানে নদীর পথ আটকে দেওয়া সেই বিশাল জলা ভূমির ওধারে। এক বিরাট হ্রদের ধারে আগ্নেয়গিরির ভেতর তার আস্তানা। জগতের একেবারে শেষ সীমার কোথাও।
আমি ছোট থাকতে তুমি বলেছিলে আমার দাদী রানি লস্ত্রিস নদীর উৎস খুঁজে বের করতে লর্ড আকেরের নেতৃত্বে দক্ষিণে একদল সৈনিক পাঠিয়েছিলেন। কেবুইয়ের ওই ভয়ঙ্কর জলাভূমির ওধারে হারিয়ে গিয়েছিল ওরা, আর ফিরে আসেনি। ওই অভিযানের সাথে ইয়োসের সম্পর্ক থাকতে পারে?
আছে, আঁহাপনা, সায় দিল তাইতা। সেই বাহিনীর একজন মাত্র জীবিত সদস্য আবার কেবুইতে ফিরে এসেছিল, সেকথা আপনাকে বলেছি না?
গল্পের এই অংশের কথা আমার মনে নেই।
সেই সময় ব্যাপারটাকে তাৎপর্যহীন ঠেকেছে, তবে একজন ফিরে এসেছিল। লোকটা প্রলাপ বকছিল, দিশাহারা ছিল সে। চিকিত্সকরা মনে করেছিল যাত্রার ভোগান্তির কারণেই মাথা খারাপ হয়ে গেছে তার। আমি ওর সাথে কথা বলার আগেই মারা যায় সে। কিন্তু ইদানীং জানতে পেরেছি, মারা যাবার আগে অদ্ভুত কথা বলে গেছে সে যা কেউ বিশ্বাস করেনি। তাই আমাকে সেসব বলেনি ওরা। দুনিয়ার শেষ মাথায় বিশাল হ্রদ ও পাহাড়ের কথা বলেছিল সে…আর সবচেয়ে বড় হ্রদের পাশে বিরাট আগ্নেয়গিরি। এই কিংবদন্তী থেকেই দিমিতার আর আমি ডাইনীর অবস্থান জানতে পেরেছি। কুজো টিপটিপের সাথে দেখা হওয়ার কথা জানাল ও।
মুগ্ধ হয়ে শুনে গেলেন নেফার সেতি। তাইতার কথা শেষ হলে ভাবলেন খানিকক্ষণ; তারপর জানতে চাইলেন, আগ্নেয়গিরির এত গুরুত্ব কেন?
জবাবে ইয়োসের আস্তানায় দিমিতারের বন্দিত্ব ও পলায়নের কাহিনী বলল তাইতা।
ডুবো আগুনকে হাপর হিসাবে ব্যবহার করে জাদু সাজায় সে। প্রবল তাপ থেকে আসা শক্তি ও সালফারের গ্যাস তার ক্ষমতাকে দেবতার কাছাকছি পর্যায়ে নিয়ে যায়। ব্যাখ্যা করল তাইতা।
