পথ রেকি করছিলাম আমরা, স্যাডল থেকে নেমে সহিসদের হাতে ঘোড়ার লাগাম তুলে দিয়ে বলল তাইতা। আগামীকাল নৌকোগুলো আলগা করে জলপ্রপাতের ওপাশে নিয়ে যেতে হবে আমাদের। নিচের ট্র্যাকটা অনেক খাড়া, সুতরাং সামনে অনেক খাটুনি অপেক্ষা করছে।
এই ব্যাপারে আলোচনা করতেই সব ক্যাপ্টেন ও হেডম্যানের সভা ডেকেছি। আমরা আপনার শিবিরে ফেরার অপেক্ষা করছিলাম।
আমি তোমার রাতের খাবার নিয়ে আসছি, বলল ফেন, তারপর পিছলে সরে গেল রান্নার আগুনের কাছে মেয়েদের দিকে।
সমাবেশের মাথার কাছে অবস্থান নিল তাইতা। কেবল নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা বা কর্মধারা নিয়ে আলোচনার করার জন্যেই এসব সভা আয়োজন করে না বরং প্রত্যেককে দলের কাছে কৌতূহলোদ্দীপক বা গুরুত্বপূর্ণ যেকোনও বিষয় তোলার সুযোগও দেয় ও। এটা আবার এক ধরনের শৃঙ্খলা ও ন্যায় বিচারের আদালতও, এখানে দুষ্কৃতকারীদের জবাবদিহির জন্যে তলব করা যেতে পারে।
সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে ওকে এক গামলা স্টু আর এক কাপ বিয়র এনে দিল ফেন। যাবার সময় ফিসফিস করে বলল, আমি বাতি জ্বেলে তোমার অপেক্ষায় থাকব। আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার রয়েছে।
এ কথায় কৌতূহলী হয়ে দ্রুত সভার কাজ নিয়ে অগ্রসর হলো তাই। নৌকাগুলো সরিয়ে নেওয়ার কৌশল সম্পর্কে একমত হওয়ার পরই মেরেন ও তিনাতকে অল্প গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যাপার ফয়সালা করার ভার দিয়ে চলে এলো ও। রান্নার আগুনের পাশের মহিলাদের পাশ কাটানোর সময় শুভরাত্রি জানাল ওরা। নিজেদের মধ্যে হাসতে লাগল, যেন কোনও মজার গোপন বিষয় নিয়ে মজা করছে। ঘেরাওয়ের শেষ প্রান্তে টাটকা কাটা ছাদ বানানোর ঘাসের পর্দার আড়ালে ওদের কুঁড়েটা বসিয়েছে মেরেন। খোলা পথে ভেতরে পা রাখতেই তাই দেখল ফেন সত্যিই কুপি জ্বালিয়ে রেখেছে। এরই মধ্যে মাদুরের উপর কারোসের নিচে শুয়ে পড়েছে। উঠে বসল ও, ওর কোমরের কাছে নেমে গেল পশমটা। কুপির আলোয় কোমল হয়ে জ্বলছে ওর বুক। ওর প্রথম চাঁদের পর থেকে পরিপূর্ণ, আরও সুগোল হয়ে উঠেছে ওগুলো।
যেমন ভেবেছিলাম, তারচেয়ে অনেক আগে এসে পড়েছ, কোমল কণ্ঠে বলল ফেন। টিউনিক খুলে এক কোণে ফেলে দাও। কাল ওটা ধুয়ে দেব। এবার বিছানায় এসো। কুপি নেভাতে উবু হলো তাইতা, কিন্তু ওকে থামাল ফেন। না, জ্বলুক। তোমাকে দেখতে চাই আমি। ফেন যেখানে শুয়ে আছে সেখানে চলে এলো তাইতা। ওর পাশে মাদুরের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল। বসেই রইল ফেন, ওর চেহারা পরখ করতে সামনে ঝুঁকলো।
তুমি এত সুন্দর, ফিসফিস করে বলল, আঙুল দিয়ে ওর কপালে এসে পড়া এক গোছা চুল সরিয়ে দিল। মাঝে মাঝে তোমার মুখের দিকে যখন তাকাই, তাইতা, এত খুশি লাগে, মনে হয় কেঁদে ফেলি। ওর ভুরুর বাঁকে হাত বোলাল ফেন, তারপর ঠোঁট। তুমি একেবারে নিখুঁত।
এটাই কি তোমার গোপন কথা?
আংশিক, বলে তাইতার গলা থেকে শুরু করে ওর বুকের পেশির উপর হাত বোলাল ও।
*
ওদের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল মেরেন। হাতে ধরে রাখা বিয়রের পটটা ফেলে দিল। তরলটুকু আগুনে পড়ে ধোয়া আর ছাইয়ের মেঘ সৃষ্টি করল। খাপ থেকে এক টানে তলোয়ার বের করে যুদ্ধের ঢঙে বিকৃত চেহারায় ছুটে গেল তাইতার কুঁড়ের দিকে। সমান ক্ষিপ্রতা দেখাল নাকোন্তো। দুই হাতে একটা করে স্ট্যাবিং বর্শা নিয়ে মেরেনের পিছু পিছু ছুটল। ওরা ঘেরাওয়ের মাঝামাঝি যাওয়র আগেই সিদুদু আর ইদালি দৃঢ়ভাবে ওদের পথ আগলে দাঁড়াল।
সরে দাঁড়াও! চিৎকার করে উঠল মেরেন। ওরা বিপদে পড়েছে। ওদের কাছে যেতে হবে আমাদের।
সরে যাও, মেরেন ক্যাম্বিসেস! ছোট মুঠি দিয়ে ওর বুকে ঘুসি মারল সিদুদু। তোমাদের সাহায্য লাগবে না ওদের। কেউই খুশি হবে না তোমাদের উপর।
নাকোন্তা, মুখ শিলুক কোথাকার! স্বামীর উদ্দেশে চিৎকার করল ইম্বালি। বর্শা তুলে রাখ। সারা জীবন কি কিছুই শেখনি? ওদের একা থাকতে দাও!
বিভ্রান্ত হয়ে থমকে দাঁড়াল দুই যোদ্ধা, সামনে দাঁড়ান মেয়েদের দিকে তাকাল একবার, তারপর বোকার মতো মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। চেহারায় লজ্জা। নিশ্চয়ই…? শুরু করতে গেল মেরেন। ম্যাগাস আর ফেন না- বোকার মতো থেমে গেল ও।
অবশ্যই তাইতা, জবাব দিল সিদুদু। ঠিক তাই করছে ওরা। শক্ত করে ওর হাত ধরে ওকে আবার আগুনের পাশে নিজের টুলে নিয়ে এলো ও। তোমাকে আবার বিয়র এনে দিচ্ছি।
তাইতা আর ফেন, আমোদিত হয়ে মাথা নাড়ল সে। কে ভাবতে পেরেছিল?
তুমি বাদে সবাই, বলল সে। মনে হচ্ছে মেয়েরা কী চায় তার কিছুই জানো না তুমি। মেরেন কাঁপছে টের পেল সে, ওকে শান্ত করতে ওর বুকে একটা হাত রাখল। ওহ, মেয়েরা কী চায় খুব ভালো করেই জানো তুমি। আমি নিশ্চিত, মিশরের সব সেরা বিশেষজ্ঞ তুমি।
ধীরে ধীরে স্থির হলো মেরেন, সিদুদুর কথা ভাবল। মনে হয় ঠিকই বলেছ, সিদুদু, অবশেষে স্বীকার গেল। নিশ্চয়ই তুমি কি চাও আমার জানা নেই, জানলে আমার সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে তোমাকে দিতাম।
তা দিতে, জানি আমি, প্রিয় মেরেন। আমার প্রতি অনেক ভদ্রতা আর দরদ দেখিয়েছ তুমি। জানি তোমার সংযম কীভাবে তোমার ক্ষতি করেছে।
আমি তোমাকে ভালোবাসি, সিদুদু। তুমি সেই ঐগদের ধাওয়া খেয়ে বন থেকে ছুটে বের হয়ে আসার পর থেকেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
