তোমার চিরকালীন প্রেমিকের সাথে মিলিত হতে তৈরি হও, চিৎকার করে বলল সে।
কাঁধের উপর ধনুক নামাল সিদুদু, হাত বাড়াল তীরের দিকে।
খুশিতে হেসে উঠল ওনকা।দেখা যাচ্ছে আমাকে আনন্দ দিতে একটা খেলনা রয়েছে তোর কাছে। তোর মরার আগে খেলার আরও ভালো কিছু আছে আমার কাছে।
ওকে তীর ছুঁড়তে দেখতেই পেল না সে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ধণুক উঁচু করল ও। এখন চেহারা দেখার মতো যথেষ্ট কাছে এসে গেছে ওনকা। ওর চোখে ভীতিকর ক্রোধ দেখামাত্রই মুখের পরিহাসের হাসি মুছে গেল তার। ছিলা টানটান করে মুখের কাছে নিয়ে এলো সিদুদু। ঘোড়ার মাথা ঘুরিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করল ওনকা। তীর ছেড়ে দিল সিদুদু। ওনকার ঠিক পাঁজরে গিয়ে বিধল ওটা। দুই হাতে ওটা বুক থেকে বের করার প্রয়াসে হাতের তলোয়ার ছেড়ে দিল সে। কিন্তু কাটাতারের ফলাটা গভীরে পৌঁছে গেছে। আতঙ্কিত হয়ে উঠল ঘোড়াটা, পাঁই করে ঘুরল ওটা, লুটিয়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। ফের তীর ছুঁড়ল সিদুদু। ওর কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিল লোকটা। এবারের তীরটা লাগল পিঠের ঠিক নিচে। গভীরে ঢুকে কিডনি ভর্তা করে দিল। একটা মারণ ক্ষত তৈরি করল। তীরের দিকে হাত বাড়াতে বেঁকে গেল তার শরীর। ফের তীর ছুঁড়ল সিদুদু। বুকে লাগল ওটা, ফুটো করে দিল দুটো ফুসুফসই। আধা গোঙানি আধা দীর্ঘশ্বাসের মতো একটা শব্দ বের হলো ওনকার মুখ দিয়ে, তারপর তার ঘোড়াটা শরীরের নিচ থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে যেতেই পেছনে উল্টে পড়ে গেল সে। রেকাবে আটকে গেল ওনকার একটা পা, লাফিয়ে সামনে ছুটতে শুরু করল তার ঘোড়া, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে চলল তাকে, ভীত জানোয়ারটার পেছনের দুই পা তার লাশে আঘাত করায় জমিনের উপর লাফাচ্ছে তার মাথা।
ধনুকটা ফের কাঁধে তুলে রাখল সিদুদু, তারপর ছুটন্ত ফেনের সাথে মিলিত হতে ফিরে তাকাল। নিচের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল ফেন। লাফ দিয়ে উঁচু হলো সিদুদু, ওদের হাত জুড়ে গেল। ওয়ার্লপুলের গতি কাজে লাগাল ফেন, পেছনে তুলে নিল ওকে। বসার পর পেছন থেকে বন্ধুর কোমর জড়িয়ে ধরল সিদুদু। স্পার দাবিয়ে ওয়ার্লপুলকে ঘুরিয়ে নিল ফেন।
পরের তিন জাররিয় বেশ কাছে এসে পড়েছে। ওনকার হত্যাকাণ্ডে রাগে ফুঁসছে। সামনাসামনি ওদের মোকাবিলা করল মেরেন। একজনকে ফেলে দিল, বাকিরা সংঘর্ষের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে বরং পালিয়ে বাঁচল। ওকে ঘিরে ধরল ওরা। সুযোগের অপেক্ষা করছে। কিন্তু মেরেনের তলোয়ার ঝিলিক তুলে পাইপাই করে ঘুরতে থাকায় সামনে বাড়তে পারছে না ওরা। এরই মধ্যে তাইতা ও দুই শিলুক ওর বিপদ টের পেয়ে পূর্ণ গতিতে ওকে সাহায্য করতে ছুটে আসতে শুরু করেছে।
ভালোই দেখিয়েছ! পরস্পরকে পাশ কাটানোর সময় ফেনের উদ্দেশে চিৎকার করে বলল তাইতা। এখন গ্যাপের দিকে ছোট। আমরা তোমাদের পেছন থেকে কাভার দেব।
তোমাকে ফেলে যেতে পারব না, তাইতা, প্রতিবাদ করল ফেন।
ঠিক পেছনেই আছি আমি! কাঁধের উপর দিয়ে চিৎকার করে বলল ও, তারপর লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এক জাররিয়কে জিনের উপর থেকে ফেলে দিল ও, অন্য জন দেখল দারুণভাবে সংখ্যার দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে সে, দলের বাকিরা এখনও অনেক দূরে। আত্মরক্ষার প্রয়াস পেল সে। কিন্তু তার বুকের একপাশে দীর্ঘ বর্শাটা সেঁধিয়ে দিল নাকোতো। তলোয়ার ধরা হাত লক্ষ করে যুদ্ধ কুঠার ঘোরাল ইম্বালি। কব্জির উপর থেকে কাটা পড়ল ওটা। সরে সহযোদ্ধাদের সাথে যোগ দিতে ছুটে চলল, জিনের উপর দোল খাচ্ছে প্রবলভাবে।
ওকে যেতে দাও! নির্দেশ দিল তাইতা। ফেনকে অনুসরণ করো। জাররিয়দের অবিশিষ্ট লোকজন ক্রমে কাছে এগিয়ে আসায় দ্রুত দূরে সরে এলো ওরা। সামনে চলে এলো তাইতা। অচেনা অশ্বারোহী দলটা এখন অনেক কাছে। সরাসরি পরস্পরের দিকে ছুটে যাচ্ছে ওরা।
ওরা জাররিয় হয়ে থাকলে আমরা ঘোড়া সামলে ওদের সাথে মোলাকাতের অপেক্ষা করব। চিৎকার করে বলল তাইতা। জানোয়ারগুলোকে বৃত্তাকারে দাঁড় করিয়ে ওদের পেছনে আশ্রয় নেবে ওরা। ওদের দেহ বর্ম হিসাবে কাজে লাগাবে।
নিবিড় মনোযোগের সাথে ওদের পরখ করল তাইতা। এখন ওর দৃষ্টি শক্তি এত প্রখর হয়ে গেছে যে মেরেন ও ফেনের বেশ আগেই পুরোভাগের সওয়ারিকে চিনে ফেলল ও। হিলতো! চিৎকার করে উঠল ও। ওটা হিলতো।
আইসিসের মিষ্টি বীচির কসম, ঠিক বলেছেন! চিৎকার করে উঠল মেরেন। দেখে মনে হচ্ছে তিনাতের অর্ধেক রেজিমেন্টই ফিরে এসেছে! হিলতোর অপেক্ষা করার জন্যে গতিবেগ খানিকটা কমাল ওরা। ফলে পিছু ধাওয়ারত জাররিয়রা দ্বিধায় পড়ে গেল। ওরা ভেবেছিল হস্তক্ষেপকারীরা ওদের দলেরই লোক। অনিশ্চিতভাবে থমকে দাঁড়াল ওরা।
হোরাসের আহত চোখের দোহাই, তোমাদের স্বাগত জানাই, হিলতো, পুরোনো বন্ধু। ওকে স্বাগত জানাল মেরেন। দেখতেই পাচ্ছ, তোমার তলোয়ারের ফলাকে বিশ্রাম দিতে বেশ কিছু বদমাশকে রেখে দিয়েছি আমরা।
কর্নেল আমার, তোমার দয়ার সীমা পরিসীমা নেই, হেসে বলল হিলতো। সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাব আমরা। তোমাদের সাহায্য লাগবে না। কর্নেল তিনাত আনকুর কিতানগালে গ্যাপের যেখানে তোমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। সোজা সেখানে চলে যাও। অল্পক্ষণের মধ্যেই তোমাদের অনুসরণ করব আমরা।
