অবশেষে ওদের রূঢ় বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনল তাইতা। এসবের জন্যে পরেও সময় পাওয়া যাবে। এখন তোমাদের এটুকু জানলেই চলবে যে, ইয়োস আর কোনওদিনই আমাদের বা আমাদের প্রিয় মিশরের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না। শিস বাজিয়ে উইন্ডস্মোককে ডাকল ও। ওর দিকে তাকিয়ে ছিনালের ভঙ্গিতে চোখ পাকাল ওটা। সামনে এসে ওর ঘাড়ে নাক ঘষতে লাগল। তুই অন্তত আমাকে চিনতে পেরেছিস, প্রিয়া আমার, ওটার ঘাড় জাড়িয়ে ধরে সোহাগ করল ও। তারপর ফের মেরেনের দিকে তাকাল। তিনাত কোথায়?
ম্যাগাস, আগেই কিতানগালে নদীর উদ্দেশে পথে নেমেছে ও। জাররিয়রা আমাদের পরিকল্পনার কথা জেনে গেছে। জলদি রওয়ানা দিতে হবে আমাদের।
উপত্যকা থেকে বেরিয়ে সমতলের দিকে যখন রওয়ানা দিল, তখন সূর্য পাটে যেতে বসেছে। বনে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রীতিমতো অন্ধকার হয়ে এলো। ফের ওদের পথ দেখানোর দায়িত্ব নিল সিদুদু। তারা দেখে পথ পরখ করল তাইতা, বুঝতে পারল মেয়েটার এলাকা সম্পর্কে জ্ঞান ও দিক সংক্রান্ত ধারণা নির্ভুল। ফলে ফেন ও মেরেনের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারল ও। তাইতাকে মাঝখানে রেখে পাশাপাশি আগে বাড়ল ওরা তিনজন। ওদের বিচ্ছিন্ন করা সময়টুকুতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিল মেরেন, এই সময় ঘোড়ার স্পর পরস্পরের সাথে ঘষা খেয়ে চলল।
অবশেষে তাইতা বলল, প্রাসাদে থাকার সময় আকেরের যুদ্ধ সভায় আড়িপেতে ছিলাম। নিজে হাতে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব তুলে নিচ্ছে সে। ওর স্কাউটরা পুব দিকে আমাদের মূল দলের এগিয়ে যাওয়ার খবর দিয়েছে তাকে। তিনাতের কিতানগালে নদীর মাথায় জাহাজঘাটে পৌঁছানোর চেষ্টা করার কথা সে জানতে পেরেছে। ওখানে নৌকা দখল করবে সে। কারণ সে জানে নদী পথে জাররি থেকে সটকে পড়াই এখন আমাদের একমাত্র আশা। আমাকে বলল এই মুহূর্তে তিনাত ঠিক কোথায় আছে, আর কতজন লোক আছে ওর সাথে।
নয়শো জনের মতো লোক আছে ওর সাথে, কিন্তু পুরুষদের অনেকেই অসুস্থ ও খনির দুর্ব্যবহারের কারণে দুর্বল। লড়াই করার মতো শতিনেক লোক আছে ওর সাথে। বাকিরা মেয়ে ও শিশু।
তিনশো! বলে উঠল তাইতা। আকেরের সাথে আছে পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণ পাওয়া যোদ্ধা। সে তিনাতের নাগাল পেলে বেশ ঝামেলায় পড়ে যাবে।
আরও খারাপ। তিনাতের ঘোড়ার অভাব রয়েছে। বাচ্চাদের কেউ কেউ অনেক ছোট। অসুস্থ আর শিশুদের নিয়ে ধীরে এগোতে হচ্ছে ওকে।
ওর উচিত নৌকো দখল করতে লড়াইয়ের জন্যে ছোটখাট একটা দল পাঠানো। এই অবসরে আমাদের অবশ্যই আকেরকে দেরি করিয়ে দিতে হবে, গম্ভীর কণ্ঠে বলল তাইতা।
কিতানগালে গ্যাপে ওকে ঠেকানোর আশা করছে তিনাত। ওখানে পঞ্চাশ জন লোকই একটা গোটা সেনাদলকে ঠেকিয়ে রাখতে পারবে; অন্তত মহিলা ও অসুস্থরা নৌকায় না ওঠা পর্যন্ত, বলল মেরেন।
ভুলে যেয়ো না, আকেরের স্কাউটরা সিদুদুর মতোই এই দেশ চেনে, মনে করিয়ে দিল তাইতা। ওই গ্যাপ পাশ কাটানোর অন্য রাস্তার খবর নিশ্চয়ই জানা আছে ওদের। নৌকা-ঘাটে পৌঁছে যাবে ওরা। তার আসার অপেক্ষা না করে বরং আমাদেরই উচিত হবে তার প্রত্যাশার আগেই তাকে হামলা করা। তাই সিদুদুর নাম বলার সময় ওর দিকে তাকাল মেরেন। এমনকি চাঁদের আলোতেও ওর চেহারায় ফুটকি খেলছে। বেচারা মেরেন, বিখ্যাত প্রেমিক এখন খাপ খেয়ে গেছে, ভাবল তাইতা, মনে মনে হাসল, তবে মুখে বলল, আকেরকে ঠেকাতে এখনকার চেয়ে আরও বেশি লোক লাগবে আমাদের। আমি ওর অপেক্ষায় রাস্তা পাহারা দিতে রয়ে যাচ্ছি। মেরেন, ফেনকে তোমার সাথে নিতে হবে, যত তাড়াতাড়ি পারো তিনাতকে খুঁজে বের করতে–
আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি না! বলে উঠল ফেন। তোমার এত কাছাকাছি এসেছি যেমনটা আর কোনওদিন পারব না।
আমি বার্তাবাহক নই, ম্যাগাস। আমাকে ওদের মতো করে দেখার চেয়ে খানিকটা বেশি সম্মান আশা করি আমি। ফেনের মতো আপনার সাথেই থাকছি আমি। হিলতোকে পাঠান, ঘোষণা করল মেরেন।
হাল ছাড়ার একটা ভঙ্গি করল তাইতা। কেউ কি বিনা তর্কে আমার নির্দেশ শুনবে না? রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল ও।
মনে হয় না, সপ্রতিভভাবে জবাব দিল ফেন। তবে হিলতোর সাথে ঠাণ্ডা কণ্ঠে কথা বলে দেখতে পারো।
পরাজয় মানল তাইতা, হিলতোকে ডাকল। ভোরের প্রথম আলো ফুটে ওঠার সাথে সাথে যত দ্রুত সম্ভব ছুটে যাবে। কর্নেল তিনাত আনকুরকে খুঁজে বের করে ওকে বলবে আমি পাঠিয়েছি তোমাকে। বলবে আমাদের কিতানগালে নদীর দিকে যাওয়ার কথা আকের জানে, দ্রুত সেদিকে ছুটছে সে। জাররিয়রা ধ্বংস করে দেওয়ার আগেই লড়াকু একট দল পাঠাতে হবে তিনাতকে নৌকা ঘাটে নৌকা দখল করতে। আমাদের লোকজন ভালো একটা নৌকায় না ওঠা পর্যন্ত কিনাতগালে গ্যাপ দখল করে রাখতে বলবে ওকে। তবে ওর সেরা বিশ জন লোক পাঠাতে হবে আমার কাছে। হিলতো, তোমাকে অবশ্যই ওর লোকজন নিয়ে উপকূলের রাস্তা ধরে আমাদের সাথে দেখা না হওয়া পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হবে। এখন যাও! এখুনি! সালাম ঠুকল হিলতো, তারপর বিনা বাক্যব্যয়ে দ্রুত চলে গেল।
আমাদের আসলে অ্যাম্বুশ পাতার মতো একটা জায়গা দরকার যেখানে আকেরের জন্যে ওত পেতে বসে থাকা যাবে। মেরেনের দিকে ফিরল তাইতা। আমরা কেমন জায়গা খুঁজছি জানো তুমি। সিদুদুকে জিজ্ঞেস করে দেখ তেমন জায়গা চেনে কিনা। স্পার দাবিয়ে সিদুদুর দিকে এগিয়ে গেল মেরেন। মনোযোগের সাথে ওর অনুরোধ শুনল সে।
