চট করে কাউচ ছেড়ে ইয়োসের স্পাই হোলের দিকে এগিয়ে গেল ও। ওটার ফুটো দিয়ে তাকাল। আটজন যোদ্ধা পূর্ণ রণ-পোশাক পরে মঞ্চের সামনে গভীর শ্রদ্ধা ও সমীহের ভঙ্গিতে হাঁটু মুড়ে বসে আছে। দুই অলিগার্ক ওদের মুখোমুখি। সামনে হাঁটু গেড়ে বসা লোকগুলোকে বকাঝকা করছে লর্ড আকের।
কি বলছ, পালিয়ে গেছে! ওদের পাকড়াও করার নির্দেশ দিয়েছিলাম আমি, আমার কাছে নিয়ে আসতে বলেছি। আর এখন কিনা বলছ ওরা তোমাদের ফাঁকি দিয়েছে। তোমরা মিশরিয় হওয়া সত্ত্বেও।
ময়দানে আমাদের দুই হাজার লোক রয়েছে। বেশি সময় মুক্ত থাকবে না ওরা। কথা বলছিল ক্যাপ্টেন ওনকা। আকেরের ক্রোধের মুখে হাঁটু গেড়ে বসে কুকড়ে গেছে সে।
দুই হাজার! জিজ্ঞেস করল আকের। আমাদের বাহিনীর বাকি সবাই কোথায়? গোটা সেনাদলকে এই বিদ্রোহ ঠেকাতে কাজে নামাতে বলেছিলাম আমি। আমি সেনাদলের নেতৃত্ব নিচ্ছি। বেঈমান তিনাত আনকুর আর ওর সাথের ষড়যন্ত্রীদের খুঁজে বের করব। সবকটাকে, শুনতে পাচ্ছ! বিশেষ করে কর্নেল মেরেন। ক্যাম্বিসেস আর সাথে করে জাররিতে আনা অচেনা লোকজনকে। আমি নিজে ওদের উপর অত্যাচার আর হত্যার ব্যাপারটা তদারকি করব। এমন নজীর তৈরি করব যে কেউ কোনওদিন ভুলবে না! অফিসারদের দিকে তাকাল সে। কিন্তু তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস করল না কেউ।
পালের গোদাগুলোর ব্যবস্থা করার পর জাররিতে পা রাখা প্রত্যেকটা লোকের উপর প্রতিশোধ নেব। ধমকে উঠল আকের। ওরা বেঈমান। এই কাউন্সিলের হুকুমে ওদের সব সম্পত্তি দেবী আর রাষ্ট্র কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হলো। পুরুষদের খনিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে-আমাদের দাসের অভাব চলছে। বয়স্কা মহিলা ও বার বছরের বেশি বয়সী শিশুদের দাসদের খোয়াড়ে পাঠাতে হবে। অল্পবয়সী বাচ্চাদের কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই গর্দান ফেলে দিতে হবে। কামনাযোগ্য যেকোনও মেয়েকে প্রজনন কর্মসূচির জন্যে খামারে পাঠাতে হবে। সেনাদলের বাকি সবাইকে এক করতে কতক্ষণ লাগবে, কর্নেল ওনকা!
তাইতা বুঝতে পারল ওনকাকে সম্ভবত সেনাদলের নেতৃত্বের অবস্থানে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যেটা আগে তিনাতের ছিল।
আজ দুপুরের আগেই রওয়ানা দিতে তৈরি হয়ে যাব আমরা, মহান লর্ড, জবাব দিল ওনকা।
যন্ত্রণার সাথে শুনে গেল তাইতা। ওর পাহাড় সফরের সময় জাররির সবকিছু বদলে গেছে। এখন ফেন ও মেরেনেকে নিয়েই ওর বেশি ভাবনা। হয়তো এরই মধ্যে ওনকার হাতে পড়ে গেছে ওরা। ফেনের সাথে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে হবে, তবে আকেরের পরিকল্পনার সিংহভাগ আড়িপেতে শুনে নেওয়াটাও ওর পক্ষে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পিপহোলের কাছেই রইল ও, ওদিকে হুকুম দিয়ে চলল আকের। অভিজ্ঞ সেনাপতি সে, মনে হচ্ছে তার কলাকৌশল কাজে লাগবে। অবশ্য, মোকাবিলা করার মতো নিজস্ব পরিকল্পনা খাড়া করতে পারবে তাইতা। অবশেষে কর্নেলদের বাতিল করে দিল আকের, দুই অলিগার্ক একা হয়ে গেল। সক্রোধে টুলে বসল আকের।
বেকুব আর কাপুরুষরা ঘিরে রেখেছে আমাদের, অভিযোগ করল সে। আমাদের চোখের সামনে কেমন করে এমন একটা বিদ্রোহ ঘটতে পারল?
আমি যেন গালালার ম্যাগাস তাইতার গন্ধ পাচ্ছি, জবাব দিল এক-তাঙ। আমার মনে সন্দেহের লেশমাত্র নেই যে সে-ই এই বিক্ষোভে উস্কানি দিয়েছে। সোজা মিশর থেকে এসেছে সে আর তাকে জাররিতে স্বাগত জানানোর পর মাত্র দুশো বছরের মধ্যেই আবার বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে আমাদের দেশে।
দুইশো বার বছর, শুধরে দিল আকের।
দুশো বার বছর, সায় দিল এক-তাঙ, কণ্ঠে স্পষ্ট বিরক্তির সুর। কিন্তু এইসব পণ্ডিতিতে কোনও ফায়দা হবে না। বিদ্রোহে উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কী করা যেতে পারে?
আপনি জানেন তাইতা দেবীর বিশেষ অতিথি, তিনি তাঁর সাথে দেখা করতে পাহাড়ে গেছেন। ইয়োস যাদের ডেকে পাঠান তারা আর ফিরে আসে না। আমাদের ওর কথা ভাবার কোনও প্রয়োজন নেই। ওকে আর কোনওদিনই দেখতে পাবেন না। যাদের সে জাররিতে নিয়ে এসেছিল অচিরেই তাদের পাকাড়াও করা হবে- থেমে গেল আকের, রাগী চেহারা পরিষ্কার হয়ে গেল। তার রক্ষিতা, যাকে সে ফেন নামে ডাকে, আমার বিশেষ সমাদর পাবে। ওর আভায় লালসার বিচ্ছুরণ দেখতে পেল তাই।
মেয়েটা কি যথেষ্ট বড় হয়েছে? জানতে চাইল এক-তাঙ।
আমার জন্যে ওরা সব সময়ই যথেষ্ট বড়, বলে একটা ইঙ্গিত করল আকের।
আমাদের যার যার আলাদা রুচি আছে, সায় দিল এক-তাঙ। এটা ঠিক, আমরা সবাই একই জিনিসে মজা পাই না। উঠে দাঁড়াল দুই অলিগার্ক, তারপর হাতে হাত রেখে বের হয়ে গেল। ডাইনীর খাস কামরায় চলে এলো তাইতা, তারপর দরজা আটকে ফেনের জন্যে প্রথমবারের মতো মন্ত্র উচ্চারণ করল। বলতে গেলে সাথে সাথে মনের চোখে তার নিদর্শন চলে এলো। চাপা মিষ্টি কণ্ঠস্বর শুনতে পেল ও। আমি এসে গেছি।
আগেও তোমাকে ডেকেছিলাম। তুমি কি বিপদে আছো?
আমরা সবাইই বিপদে আছি, জবাব দিল সে। কিন্তু আপাতত নিরাপদ। দেশে এখন দারুণ ঝামেলা চলছে। তুমি কোথায়, তাইনা?
পাহাড় থেকে পালিয়ে এসেছি, এখন সুপ্রিম কাউন্সিল চেম্বারের কাছে গা ঢাকা দিয়ে আছি।
এমনকি ইথারেও তার বিস্ময় স্পষ্ট বোঝা গেল। ওহ, তাইতা, তুমি কোনওদিনই আমাকে অবাক করতে আর আনন্দ দিতে ব্যর্থ হও না।
আমাদের দেখা হলে কথা দিচ্ছি তোমার জন্যে আরও অনেক মজার ব্যবস্থা করব, কথা দিল ও। তুমি আর মেরেন কি আমার কাছে আসতে পারবে, নাকি আমাকেই তোমাদের খোঁজ করতে হবে?
